মধ্যপ্রাচ্যের নিউজ আপডেট ১ আগস্ট ২০২৬
বাহরাইনে সিম কার্ড নিবন্ধন নিয়ে পুলিশের সতর্কতা
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ আগস্ট ২০২৬, ১৫:০৯
বাহরাইন
বাহরাইনে সিম কার্ড নিবন্ধন নিয়ে পুলিশের সতর্কতা
নিজের নামে অন্যের জন্য সিম কার্ড নিবন্ধন না করতে সতর্ক করেছে বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পুলিশের সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, নিজের নামে নিবন্ধিত কোনো সিম কার্ড অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহার হলে তদন্তের শুরুতেই পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে পারেন যে কেউ। তাই নিজের পরিচয় ব্যবহার করে অন্য কাউকে সিম নেওয়ার সুযোগ না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আল আমান সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানে হিদ্দ থানার প্রধান কর্নেল ড. ওসামা বাহার বলেন, বর্তমানে মোবাইল নম্বর ব্যাংক হিসাব, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বিভিন্ন ডিজিটাল সেবার সঙ্গে যুক্ত থাকে। ফলে প্রতারণা, সাইবার অপরাধ বা সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের তদন্তে মোবাইল নম্বর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। কোনো অপরাধে ব্যবহৃত নম্বর যদি কারো নামে নিবন্ধিত থাকে, তাহলে প্রথমেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিবন্ধিত ব্যক্তির কাছেই যাবে। একই সঙ্গে অভিভাবকদেরও তাদের নামে নিবন্ধিত সিম কার্ড শুধু পরিবারের সদস্যরাই ব্যবহার করছে কিনা, তা নিশ্চিত করতে হুঁশিয়ারি দিয়েছে পুলিশ। ফলে এ বিষয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সতর্ক থাকা উচিত।
সৌদি আরব
সৌদিতে মাদক পাচারের চেষ্টা ব্যর্থ করে দিল পুলিশ
সৌদি আরবে বড় একটি মাদক চোরাকারবারির চেষ্টা ভন্ডুল করে দিয়েছে দেশটির পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, আল-হাদিথাহ বর্ডার ক্রসিংয়ের মধ্যে বড় ধরনের মাদক পাচারের চেষ্টা করা হয়েছিল। দেশটির জাকাত, ট্যাক্স অ্যান্ড কাস্টমস অথরিটি জানিয়েছে, সৌদিতে প্রবেশ করা একটি যাত্রীবাহী বাসের নিচে বিশেষভাবে তৈরি গোপন কুঠুরি থেকে ৩৬ হাজার ৭৭৩টি মাদকের বড়ি উদ্ধার করা হয়েছে। অত্যাধুনিক স্ক্যানিং প্রযুক্তি ও নিরাপত্তা তল্লাশির মাধ্যমে মাদকগুলো শনাক্ত করা হয়। জাটকার মুখপাত্র হাম্মুদ আল-হারবি বলেন, সীমান্তে চোরাচালান ঠেকাতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রতিটি যানবাহনে কঠোর নজরদারি চালানো হচ্ছে। সীমান্ত নিরাপত্তা আরো জোরদার করা হয়েছে। বাসিন্দাদের মাদক পাচার বা সন্দেহজনক কোনো কার্যক্রম সম্পর্কে তথ্য দিতে আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। এক্ষেত্রে তথ্যদাতার পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে। তথ্যের সত্যতা প্রমাণ হলে পুরস্কারও দেওয়া হবে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত
আমিরাতের এক প্রবাসীর বিরুদ্ধে বড় চুরির অভিযোগ
সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহে একটি যৌথ বাসা থেকে ৭৫ হাজার দিরহাম চুরির ঘটনায় এক প্রবাসীকে এক বছরের জেল দেওয়া হয়েছে। সাজা শেষে তাকে আমিরাত থেকে বহিষ্কারের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সেই প্রবাসীর পরিচয় বা কোন দেশের নাগরিক, তা জানানো হয়নি। মামলার গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হয় ভবনের সিসিটিভি ফুটেজ, যেখানে চুরির চেষ্টার দৃশ্য ধরা পড়ে। আদালতের নথি অনুযায়ী, ভুক্তভোগী তার কক্ষে রাখা ৭৫ হাজার দিরহাম হারানোর অভিযোগ করেন। ওই টাকা তিনি কর্মরত প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবে জমা দেওয়ার জন্য সাময়িকভাবে নিজের কাছে রেখেছিলেন। টাকা নিখোঁজ হওয়ার পর তিনি সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে একজনের সন্দেহজনক চলাফেরা দেখতে পান। পরে পুলিশের কাছে ফুটেজ দেওয়া হলে তদন্তে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে চুরি ও পৃথক একটি চুরির চেষ্টার অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া যায়। বিচার চলাকালে অভিযুক্ত সব অভিযোগ অস্বীকার করলেও সিসিটিভি ফুটেজসহ অন্যান্য প্রমাণ পর্যালোচনা করে আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করে। তাই যৌথ বাসায় থাকেন যেসব প্রবাসী তাদেরও এ বিষয়ে সতর্ক থাকা উচিত।
ওমান
ওমানে সমুদ্রপথে ঢোকার চেষ্টা, এশীয়দের আটক করল পুলিশ
ওমানে সমুদ্রপথে অবৈধভাবে ঢোকার চেষ্টা করার সময় ২৮ জন এশীয় নাগরিককে আটক করেছে রয়্যাল ওমান পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, মাসকাটের আল সিব উপকূলের কাছে কোস্টগার্ডের বিশেষ অভিযানে একটি নৌকায় থাকা এসব ব্যক্তিকে আটক করা হয়। রয়্যাল ওমান পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে তাদের জাতীয়তা বা পরিচয় সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। কর্তৃপক্ষ বলছে, সমুদ্রপথে অবৈধ অনুপ্রবেশ, মানব পাচার এবং সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উপকূলজুড়ে নিয়মিত টহল ও নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে সন্দেহজনক কোনো নৌযান বা অবৈধ কর্মকাণ্ডের তথ্য পেলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাতে বাসিন্দাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে রয়্যাল ওমান পুলিশ।
কুয়েত
কুয়েতের জলিবে ভবনে অভিযান, প্রবাসীদের ভিড় অন্য এলাকায়
কুয়েতের জলিব আল-শুয়ুখ এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ ও নিয়মবহির্ভূত আবাসিক ভবনের বিরুদ্ধে সরকারের চলমান অভিযানে বেশ কয়েকটি ভবন সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে। তবে এর ফলে নতুন এক সমস্যা দেখা দিয়েছে। উচ্ছেদ হওয়া অনেক প্রবাসী শ্রমিক আশপাশের এলাকায় গিয়ে আশ্রয় নিচ্ছেন। ফলে সেখানে আবারো অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপ ও গাদাগাদি করে থাকার প্রবণতা বাড়ছে। আরব টাইমস অনলাইনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বছরের পর বছর ধরে জলিব আল-শুয়ুখে জরাজীর্ণ ভবন, অতিরিক্ত বাসিন্দা এবং নিরাপত্তাবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ ছিল। ভবন মালিকদের একাধিকবার সতর্ক করা হলেও অনেক ক্ষেত্রে সেই তথ্য ভাড়াটিয়াদের জানানো হয়নি। সম্প্রতি সরকার কঠোর অভিযান চালিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন বন্ধ করে দেয় এবং কিছু ভবনের বিদ্যুৎ ও অন্যান্য সেবাও বিচ্ছিন্ন করা হয়। তবে কম খরচে থাকার বিকল্প না থাকায় উচ্ছেদ হওয়া শ্রমিকরা পাশের এলাকাগুলোতে চলে যাচ্ছেন। স্থানীয় সূত্রের দাবি, যেসব কক্ষে অল্পসংখ্যক মানুষের থাকার কথা, সেখানে এখন ৮ থেকে ১০ জন পর্যন্ত থাকছেন। অনেক জায়গায় প্রতি বেড ৪০ থেকে ৫০ কুয়েতি দিনার ভাড়ায় দেওয়া হচ্ছিল। এতে অতিরিক্ত জনসংখ্যার সমস্যা এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে। কুয়েত কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যেসব ভবনে অনুমোদনের চেয়ে বেশি মানুষ বসবাস করছেন বা ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে রাখা হচ্ছে, সেগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
logo-1-1740906910.png)