আমিরাতে ভিসা বাতিল শুধু বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রে নয়: শামা
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ৩১ জুলাই ২০২৬, ০৭:৫১
সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) শুধু বাংলাদেশিদের নয়, আরো কয়েকটি দেশের নাগরিকদের ভিসাও স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়েছে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানিয়েছেন, গণমাধ্যমে প্রচারিত ৫ হাজার নয়, এ পর্যন্ত ৬২৬ জন বাংলাদেশি এ সমস্যার মুখে পড়েছেন।
৩০ জুলাই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য দেন। সভায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হকও উপস্থিত ছিলেন।
শামা ওবায়েদ বলেন, “এটি কোনো নির্দিষ্ট দেশের সমস্যা নয়। পাকিস্তান, মিসর, ফিলিপাইন, নেপালসহ আরো কয়েকটি দেশের নাগরিকদের ভিসাও বাতিল হয়েছে।” তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ৪১৭ জনের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে এবং তাদের ভিসা নবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। বাকি তথ্যও পর্যায়ক্রমে পাঠানো হবে।
তিনি বলেন, আবুধাবি ও দুবাইয়ে বাংলাদেশের মিশন ইতোমধ্যে ইউএই কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং আগামী সপ্তাহে আরো বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। “আমরা ইতিবাচক ফলাফল প্রত্যাশা করছি,” বলেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের স্বাগতিক দেশের আইন কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, অনেক শ্রমিক জীবনের সঞ্চয় ব্যয় করেন, এমনকি জমিজমাও বিক্রি করেন বিদেশে কাজের সুযোগ পেতে। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বা অন্য কোনোভাবে স্থানীয় আইন লঙ্ঘন করলে তারা আইনি জটিলতায় পড়তে পারেন।
শামা জানান, ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গেও দূতাবাস যোগাযোগ করছে। যদি নিয়োগকর্তার সিদ্ধান্তের কারণে ভিসা বাতিল হয়ে থাকে, তাহলে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা হবে। তিনি আরো বলেন, জাল কাগজপত্র ব্যবহারের বিষয়টি সরকার গুরুত্বসহকারে পর্যালোচনা করছে। প্রয়োজনে আইন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে পরামর্শ করে অভিবাসন আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে আরো কঠোর শাস্তির বিধান করা যায়।
প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি নিয়ে দুই মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করেছেন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গেও কথা বলেছেন। তিনি গণমাধ্যমকে আহ্বান জানান, সংবেদনশীল অভিবাসন-সংক্রান্ত বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের আগে তথ্য যাচাই করতে।
এদিকে প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক বলেন, ছুটিতে দেশে এসে যাদের ইউএইর ভিসা বাতিল হয়েছে, তাদের জন্য বাংলাদেশে একটি বিশেষ হটলাইন চালু করা হবে। পাশাপাশি ইউএইতে ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের নিবন্ধন ও সহায়তার জন্য পৃথক জরুরি সেবা চালু করা হবে। তিনি প্রবাসীদের সতর্ক করে বলেন, স্বাগতিক দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি বা সংঘাতে জড়িত না হওয়া এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আইন লঙ্ঘনকারী কোনো পোস্ট দেওয়া যাবে না।
নুর আরো জানান, জাল কাগজপত্রের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। বিদ্যমান আইন অনুযায়ী এ অপরাধে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। কোনো জাল নথি শনাক্ত হলে তা জব্দ করা হবে এবং সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় আনা হবে।
সভায় অভিবাসন ব্যয়, অসাধু রিক্রুটিং এজেন্সি ও দালালচক্রের কার্যক্রমও পর্যালোচনা করা হয়। সরকার অভিবাসন ব্যয় কমানো এবং প্রতারণামূলক প্রতিষ্ঠান থেকে কর্মীদের রক্ষায় কাজ করছে।
logo-1-1740906910.png)