ওমানের শ্রমবাজারে কর্মীভিসা চালুর অপেক্ষায় প্রবাসীরা
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ জুলাই ২০২৬, ১০:৩২
ওমানে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য সাধারণ ও অর্ধদক্ষ ক্যাটাগরির কর্মভিসা পুনরায় চালুর অপেক্ষায় দিন গুনছেন প্রবাসী ব্যবসায়ীরা। প্রায় তিন বছর ধরে আরোপিত বিধিনিষেধের কারণে দেশটিতে বাংলাদেশি কর্মীর সংখ্যা কমে গেছে। এর প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশি মালিকানাধীন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে।
২০২৩ সালের ৩১ অক্টোবর থেকে ওমান সরকার বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য নতুন কর্মভিসা ইস্যুতে সীমাবদ্ধতা কার্যকর করে। তবে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার পর ২০২৪ সালের জুনে চিকিৎসক, নার্স, শিক্ষক, প্রকৌশলী, হিসাবরক্ষক ও বিনিয়োগকারীসহ ১৩টি নির্দিষ্ট ক্যাটাগরিতে ভিসা পুনরায় চালু করা হয়। এতে পেশাজীবীদের জন্য সুযোগ তৈরি হলেও সাধারণ শ্রমিক, বিশেষ করে নির্মাণ, কৃষি ও সেবা খাতের কর্মীদের জন্য ভিসা এখনো বন্ধ রয়েছে।
প্রবাসী ব্যবসায়ীরা বলছেন, নতুন কর্মী নিয়োগে বাধা থাকায় রেস্তোরাঁ, সুপারমার্কেট, সেলুন, কৃষি ও পরিবহন খাতে জনবল সংকট দেখা দিয়েছে। পর্যাপ্ত দক্ষ কর্মী না থাকায় অনেক ব্যবসায়ী তাদের প্রতিষ্ঠানের শাখা সম্প্রসারণ করতে পারছেন না। আল বারাকা গ্রুপের চেয়ারম্যান আবু ইউসুফ জানান, কর্মী সংকটের কারণে তাদের পরিকল্পিত নতুন শাখাগুলো খোলা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশিদের জন্য কর্মভিসা পুনরায় উন্মুক্ত হলে দক্ষ জনবল নিয়োগের মাধ্যমে সেবার মান আরো উন্নত করা যাবে।
একই উদ্বেগের কথা জানান কৃষি উদ্যোক্তা নাজিম উদ্দিন। তার প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে পাঁচ শতাধিক কর্মী কাজ করছেন। তিনি মনে করেন, কৃষি খাতে দক্ষ জনবল নিয়োগের সুযোগ তৈরি হলে উৎপাদন বৃদ্ধি ও ব্যবসা সম্প্রসারণ সহজ হবে। কিং জালান গ্রুপের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আবদুল মান্নানও বলেন, ভিসা জটিলতা কাটলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি ওমানে বাংলাদেশি বিনিয়োগের পরিধিও বাড়বে।
ওমানে বাংলাদেশের সদ্য সাবেক রাষ্ট্রদূত ভাইস অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম গত জুনে এক অনুষ্ঠানে ভিসা পরিস্থিতির ইতিবাচক অগ্রগতির ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তিনি জানান, ওমান সরকারের উচ্চপর্যায়ে ধারাবাহিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে অত্যন্ত ইতিবাচক। তার মতে, বর্তমানে ১৩টি ক্যাটাগরিতে ভিসা চালু আছে, যা প্রতিবেশী অনেক দেশের ক্ষেত্রে পুরোপুরি বন্ধ। বাংলাদেশের মূল লক্ষ্য হলো বন্ধ থাকা অন্যান্য ক্যাটাগরিগুলো পুনরায় সচল করা।
প্রবাসী বাংলাদেশিরা আশা করছেন, ঢাকা ও মাসকাটের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ আরো জোরদার হবে। সাধারণ কর্মীদের জন্য শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত হলে তা ওমানের প্রবাসী অর্থনীতি এবং বাংলাদেশের রেমিট্যান্স প্রবাহ উভয় ক্ষেত্রেই ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তটি ওমান সরকারের নীতিগত অবস্থানের ওপরই নির্ভর করছে।
logo-1-1740906910.png)