বাহরাইনের ভিসা খুলতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চান প্রবাসীরা
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৩
পারস্য উপসাগরের দ্বীপদেশ বাহরাইনে ২০১৮ সাল থেকে বাংলাদেশি কর্মীদের নতুন শ্রমিক ভিসা কার্যত বন্ধ রয়েছে। দীর্ঘ আট বছর ধরে চলা এই স্থবিরতায় দেশটিতে থাকা প্রায় দেড় লাখ প্রবাসী জনবল সংকট, ব্যবসায়িক মন্দা, পরিবার থেকে দীর্ঘ বিচ্ছিন্নতা এবং আকস্মিক চাকরি হারানোর মতো সংকটে পড়েছেন।
মানামাভিত্তিক ব্যবসায়ী আজগর আলী জানান, ২১ বছর ধরে ব্যবসা পরিচালনা করলেও ফ্যামিলি ভিসা না থাকায় পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন জীবন কাটাতে হচ্ছে তাকে। একই অভিজ্ঞতার কথা বলেন চাঁদপুরের ব্যবসায়ী ওমর ফারুক। মানামায় পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের মালিক হলেও পরিবারকে সময় দিতে দেশে গেলে ব্যবসায় বড় অঙ্কের লোকসান গুনতে হয়।
প্রবাসী ব্যবসায়ীরা বলছেন, নতুন শ্রমিক ভিসা বন্ধ থাকায় কর্মী সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের বাসিন্দা মাসুদ, যিনি ‘এম রহমান গ্রুপ ট্রেডিং’-এর মালিক, জানান কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগের অভাবে নতুন কর্মী পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে তার ব্যবসা ক্ষতির মুখে পড়েছে। তিনি মনে করেন, এই অচলাবস্থা নিরসনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি বাহরাইন সফর অথবা সরকারি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের ফলপ্রসূ আলোচনার বিকল্প নেই।
এদিকে ছুটিতে দেশে ফেরা প্রবাসীদের ওপরও ঝুলছে আকস্মিক ভিসা বাতিলের অনিশ্চয়তা। চট্টগ্রামের পটিয়ার বাসিন্দা সালাউদ্দিন লাভলু অভিযোগ করেন, তার ছোট ভাই দেশে ফেরার পর নিয়োগকর্তা কোনো পূর্বাভাস ছাড়াই ভিসা বাতিল করে দেন। দেশে ভিসা চালু থাকলে তিনি পুনরায় নতুন ভিসায় বাহরাইনে ফিরতে পারতেন।
প্রবাসীরা আশঙ্কা করছেন, বাংলাদেশের এই স্থবির সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ভারত, পাকিস্তান, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার কর্মীরা বাহরাইনের শ্রমবাজারে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করছে। ফলে বাংলাদেশের শ্রমবাজারে অংশীদারিত্ব ক্রমেই কমে যাচ্ছে।
১৯৭৪ সালে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্কের সূচনাকারী বাহরাইনই ছিল পশ্চিম এশিয়ার প্রথম দেশ, যা স্বাধীন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়। পাশাপাশি বহু বছর ধরে দেশটি রেমিট্যান্স পাঠানো শীর্ষ ১০ দেশের মধ্যে রয়েছে। এই সৌহার্দ্য ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব পুনরুজ্জীবিত করতে প্রবাসীরা সরকারের শীর্ষপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় আলোচনার দাবি জানিয়েছেন।
বাহরাইনে ভিসা বন্ধের দীর্ঘ অচলাবস্থা প্রবাসীদের জীবন ও ব্যবসায় গভীর সংকট তৈরি করেছে। তারা মনে করছেন, ভবিষ্যৎ রক্ষায় সরকারের কূটনৈতিক তৎপরতা এবং প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপই হতে পারে একমাত্র সমাধান।
logo-1-1740906910.png)