প্রথমবারের মতো ইরানে হামলা চালাল বাহরাইন ও কুয়েত
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ জুলাই ২০২৬, ০৯:১০
গোপনে যুদ্ধবিমান পাঠিয়ে প্রথমবারের মতো ইরানে সরাসরি হামলা চালিয়েছে বাহরাইন ও কুয়েত- এমন তথ্য জানিয়েছে বিষয়টির সঙ্গে সম্পৃক্ত একাধিক সূত্র। চলতি মাসের শুরুর দিকে পরিচালিত এই বিমান হামলায় ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র মজুতের ডিপোসহ একাধিক সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্যবস্তু করা হয়। আরব দেশগুলোর মধ্যে নতুন সহযোগিতার ইঙ্গিত দিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) এই অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তারা লক্ষ্যবস্তুর গোপন সামরিক তথ্য সরবরাহের পাশাপাশি আক্রমণকারী যুদ্ধবিমানগুলোকে আকাশপথে প্রতিরক্ষামূলক সুরক্ষা দেয়।
যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরান টানা কয়েক সপ্তাহ ধরে বাহরাইন ও কুয়েতে হামলা চালিয়ে আসছে। দুটি দেশেই মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। ছোট আকারের বিমানবাহিনী থাকা সত্ত্বেও তাদের বহরে মার্কিন ও ইউরোপীয় যুদ্ধবিমান রয়েছে। তবে কুয়েতের যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত আল-জেইন আল-সাবাহ এই প্রতিবেদনের পর বলেন, “কুয়েত রাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযানে অংশ নেয়নি। প্রতিবেশী কোনো রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক অভিযান চালাতে নিজের ভূখণ্ড ব্যবহারের অনুমতিও দেয়নি।” বাহরাইন সরকার এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
পুরো উপসাগরীয় অঞ্চল এখন এক ধরনের উভয় সংকটে পড়েছে। একদিকে অনিচ্ছাকৃত যুদ্ধ, অন্যদিকে ভৌগোলিকভাবে বিশাল ও ক্ষুব্ধ প্রতিবেশী ইরান— এই দুইয়ের মাঝখানে পড়ে গেছে আরব সরকারগুলো। ইরানের সামরিক আঘাতের সিংহভাগ মাশুল গুনতে হচ্ছে কুয়েত ও বাহরাইনকে। তাদের নিরাপত্তা ও অর্থনীতি দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের মুখে পড়েছে।
কুয়েতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরান তাদের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র ও পানি লবণমুক্তকরণ পরিশোধনাগারে হামলা চালিয়েছে। এটিকে তারা নাগরিকদের জন্য সরাসরি হুমকি ও উত্তেজনার বিপজ্জনক বৃদ্ধি হিসেবে উল্লেখ করেছে। বিশ্লেষক দিনা এসফান্দিয়ারি বলেন, “যুদ্ধ যেভাবে গড়াচ্ছে, তা এভাবে চলতে থাকাটাই তাদের জন্য সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি। কারণ অশান্ত এই অঞ্চলে নিজেদের স্থিতিশীলতার প্রতীক হিসেবে টিকিয়ে রাখার সুযোগও তারা পাচ্ছে না।”
যুদ্ধের শুরু থেকেই আরব আমিরাত ইরানের ওপর একাধিক বিমান হামলা চালিয়েছে। এপ্রিলে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরদিনও তারা হামলা চালায়। সাম্প্রতিক সময়ে ইরান সরাসরি আমিরাতে হামলা থেকে বিরত থাকলেও তাদের দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে আঘাত হেনেছে। অন্যদিকে সৌদি আরবও যুদ্ধের শুরুতে আমিরাতের সঙ্গে যৌথভাবে ইরানে হামলা চালায়, তবে বর্তমানে তারা নিজেদের অবস্থান নতুন করে মূল্যায়ন করছে।
হরমুজ প্রণালী কার্যত অবরুদ্ধ করে রেখেছে ইরান। ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল রপ্তানি পঙ্গু হয়ে পড়েছে। ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী লোহিত সাগরে অবরোধ ও জাহাজে হামলা চালাচ্ছে। এতে পর্যটন খাত বিধ্বস্ত হয়েছে এবং বিদেশি বিনিয়োগে চাপ বেড়েছে। আরব সরকারগুলো এখন ভাবছে, টিকে থাকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য রুটগুলো খুলে দিতে তাদের আরো আগ্রাসী হতে হবে কিনা।
logo-1-1740906910.png)