বাহরাইন ও কুয়েতে মুহুর্মুহু সাইরেন, ইরানের বড় হুমকি
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৬, ২০:০৯
যুদ্ধবিরতি চুক্তির কথা ভুলে গিয়ে টানা সাত দিন ধরে ইরানে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে মার্কিন বাহিনী। তারই প্রতিক্রিয়ায় ইরানও বাহরাইন ও কুয়েতে ড্রোন ক্ষেপণাস্ত্র মেরেই যাচ্ছে। তবে ১৮ জুলাই মধ্যরাতের হামলা আর নানান ঘটনাবলি নিরাপত্তার দিক থেকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
কারণ বাহরাইন আর কুয়েতে মুহুর্মুহু হামলা করেছে ইরান। আর তাতে কুয়েতে গুরুত্বপূর্ণ পানি শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কুয়েতের ঘটনাবলি জানাবো তার আগে জানাই বাহরাইনের খবর।
বাহরাইনে ১৮ জুলাই মধ্যরাত থেকে ভোর, সকাল এবং দিনের পরের দিকেও দফায় দফায় বেজেছে সাইরেন। দেশটির আকাশ নিরাপত্তা বাহিনী জানিয়েছে, কানে তালা লাগানো বিস্ফোরণের শব্দ মূলত ইরানের ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করার। এমন করেই তারা নিরাপদ রাখছে নাগরিক ও বাসিন্দাদের। সামরিক বাহিনী আরো জানিয়েছে, বাহরাইনের আকাশে একের পর এক ইরানি হামলার ঢেউ তাদের আকাশ নিরাপত্তা বাহিনী ঠেকিয়ে দিয়েছে। নিজ দেশকে নিরাপদ রাখতে শত্রুর বিরুদ্ধে তারা পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে। ইরান জানিয়েছে, তাদের হামলাগুলো ছিল মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে। তবে ১৮ জুলাই রাতের হামলায় বাহরাইনে কোথাও কোনে ক্ষয়ক্ষতির খবর দেয়নি দেশটির গণমাধ্যম।
এদিকে ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে কুয়েতে। বিপর্যয় ঘটেছে কুয়েতের বিমানবন্দরের শিডিউলে। ইরানের একের পর এক হামলায় কুয়েতের দক্ষিণাঞ্চলে একটি বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সমুদ্রের পানি ডিস্যালিনেশন কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
হামলায় স্থাপনাটির একটি অংশে আগুন ধরে যায় এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের কয়েকটি ইউনিট ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে দমকল বাহিনী দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এছাড়া কুয়েতের তেল শোধনাগারে হামলার কথাও জানিয়েছে কুয়েত।
ইরান-আমেরিকার যুদ্ধবিরতি চুক্তি সইয়ের পর মধ্যপ্রাচ্যে এটাই প্রথম কোনো পানি ও তেল শোধনাগারে হামলা। জর্ডান ও কাতারেও হামলার ঘটনা ঘটেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সাত দিনের টানা হামলা ও পাল্টা হামলা ইরান-আমেরিকার এই যুদ্ধে নতুন ফেজ শুরুর ইঙ্গিত দিচ্ছে। ইরানে মার্কিনিরা এখনই হামলা বন্ধ করবে এমন কোনো আভাস পাওয়া যাচ্ছে না। অন্যদিকে, ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর কর্মকর্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়ে যেতে থাকলে তেহরানও আর সংযত সামরিক অবস্থানে থাকবে না। কোনো রাজনৈতিক সীমান্তই আর নিরাপদ থাকবে না।
logo-1-1740906910.png)