Logo
×

Follow Us

মধ্যপ্রাচ্য

মধ্যপ্রাচ্যে অনিরাপদ প্রবাসী নারী কর্মীরা

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬, ১৬:১৬

মধ্যপ্রাচ্যে অনিরাপদ প্রবাসী নারী কর্মীরা

বাংলাদেশের অর্থনীতিকে সচল রাখার অন্যতম প্রধান শক্তি হলো প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স। এর বড় অংশ আসে মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত নারী শ্রমিকদের হাত ধরে। কিন্তু এই সোনালি রেমিট্যান্সের আড়ালে লুকিয়ে আছে ভয়াবহ বাস্তবতা— নির্যাতন, যৌন নিপীড়ন, জোরপূর্বক পতিতাবৃত্তি এবং লাশের মিছিল। দৈনিক আজাদী এ নিয়ে প্রকাশ করেছে বিশেষ প্রতিবেদন।

সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গত সাত বছরে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্য থেকে প্রায় ৮০ হাজার নারী নির্যাতিত হয়ে দেশে ফিরেছেন। একই সময়ে প্রায় ৮০০ নারীর মরদেহ দেশে এসেছে। মৃত্যুর কারণ হিসেবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ‘স্বাভাবিক মৃত্যু’, ‘হার্ট অ্যাটাক’ বা ‘আত্মহত্যা’ উল্লেখ করা হলেও মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, অতিরিক্ত নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে অনেক নারী আত্মহত্যা করেছেন, আবার অনেককে হত্যা করে আত্মহত্যা বলে চালানো হয়েছে।

নারীদের বিদেশে যাওয়ার প্রধান কারণ দারিদ্র্য। স্বামী পরিত্যক্তা, বিধবা বা পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে নেওয়া নারীরা দালালদের প্রলোভনে বিদেশে যান। দালালরা বিনামূল্যে বা কম খরচে সৌদি আরব পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে তাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয়। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় ৯৫ শতাংশ নারী দালালের মাধ্যমে গিয়েছেন এবং তাদের মধ্যে অধিকাংশই টাকা দিতে বাধ্য হয়েছেন।

বিদেশে গিয়ে নারীরা পড়েন ‘কাফালা’ প্রথার ফাঁদে। এই প্রথায় নিয়োগকর্তার অনুমতি ছাড়া তারা চাকরি পরিবর্তন বা দেশে ফেরত যেতে পারেন না। ফলে নিয়োগকর্তারা তাদের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালান। দিনে ১৮ থেকে ২০ ঘণ্টা কাজ করানো, খাবার না দেওয়া, বেতন আটকে রাখা, শারীরিক নির্যাতন; সবই সেখানে সাধারণ ঘটনা। অনেক নারী যৌন নিপীড়নের শিকার হন, আবার কেউ কেউ জোরপূর্বক পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য হন।

বাংলাদেশ দূতাবাসের সেফ হোমগুলোতে সব সময়ই নির্যাতিত নারীদের ভিড় থাকে। তবে সক্ষমতার তুলনায় আশ্রিত নারীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় তাদের রাখা ও দেশে ফেরানো কঠিন হয়ে পড়ে। দেশে ফিরে আসা নারীরা আবার সামাজিক অবমাননার শিকার হন। ফলে তারা দ্বিগুণ ট্রমার মধ্যে পড়েন বিদেশে নির্যাতন এবং দেশে ফিরে সামাজিক অবহেলা।

Logo