সৌদি আরবে বিদেশিদের সম্পত্তি মালিকানার জন্য নতুন ও বিস্তারিত বিধিমালা জারি করেছে সরকার। নতুন নিয়মে বিদেশি ব্যক্তি, কোম্পানি ও অলাভজনক প্রতিষ্ঠান কীভাবে সম্পত্তি কিনতে পারবে, তার সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সব ধরনের সম্পত্তি লেনদেনের জন্য চালু হচ্ছে একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। বিধি লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ এক কোটি সৌদি রিয়াল জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনো বিদেশি ব্যক্তি সৌদিতে সম্পত্তি কিনতে চাইলে আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদিত ডিজিটাল আইডি নিতে হবে। পাশাপাশি নিজের নামে সৌদির একটি ব্যাংক হিসাব খুলতে হবে এবং সেই পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত একটি সৌদি মোবাইল নম্বর নিবন্ধন করতে হবে। এসব তথ্যের মাধ্যমে ক্রেতার পরিচয় ও আর্থিক লেনদেন যাচাই করবে কর্তৃপক্ষ।
বিদেশি কোম্পানির ক্ষেত্রেও নতুন শর্ত দেওয়া হয়েছে। সম্পত্তি কিনতে হলে প্রথমে বিনিয়োগ মন্ত্রণালয়ে নিবন্ধন করতে হবে। কোম্পানির প্রকৃত মালিকদের তথ্য প্রকাশ, সৌদি পরিচয়পত্রধারী একজন আইনগত প্রতিনিধি নিয়োগ এবং সৌদিতে কোম্পানির নামে ব্যাংক হিসাব খোলা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কোম্পানির মালিকানায় ৫ শতাংশ বা তার বেশি পরিবর্তন হলে ১৫ দিনের মধ্যে তা কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে।
বিদেশি ব্যক্তি, বিদেশি কোম্পানি এবং বিদেশি অংশীদার থাকা সৌদি কোম্পানির সব সম্পত্তি-সংক্রান্ত আবেদন ও লেনদেন রিয়েল এস্টেট জেনারেল অথরিটি বা রেগা প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে।
একই বিদেশি পরিবারের একাধিক আবাসিক সম্পত্তি কেনার সুযোগও সীমিত করা হয়েছে। বিদেশি স্বামী-স্ত্রী ও ২৫ বছরের কম বয়সী সন্তানদের একই পরিবারের সদস্য হিসেবে গণ্য করা হবে। ফলে তারা আলাদাভাবে আরেকটি আবাসিক সম্পত্তি কিনতে পারবেন না। তবে বিবাহবিচ্ছেদ হলে বা সন্তানের বয়স ২৫ বছর পূর্ণ হলে আলাদা মালিকানার সুযোগ মিলবে।
বিদেশি অংশীদার রয়েছে, কিন্তু শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত নয়- এমন সৌদি কোম্পানিগুলো মক্কা ও মদিনা ছাড়া অন্য এলাকায় ব্যবসা বা কর্মীদের আবাসনের জন্য বিনিয়োগ মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিয়ে সম্পত্তি কিনতে পারবে।
নতুন নিয়মে রিয়াদ, জেদ্দা, মক্কা ও মদিনায় বিদেশিদের সম্পত্তি-সংক্রান্ত লেনদেনে ২ শতাংশ ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিধিমালা অনুযায়ী, নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরে পাঠানো এসএমএস বা অনলাইন প্ল্যাটফর্মে পাঠানো নোটিশই আইনগতভাবে বৈধ হিসেবে গণ্য হবে। তাই প্রবাসীদের নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর ও অন্যান্য তথ্য হালনাগাদ রাখা প্রয়োজন।
নতুন বিধিমালা বাস্তবায়নে রেগার পরিদর্শকেরা তদারকি করবেন। কোনো অনিয়ম ধরা পড়লে প্রথমে ১০ থেকে ১৮০ দিনের মধ্যে তা সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হবে। এরপরও নিয়ম না মানলে জরিমানা করা হবে।
মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে সম্পত্তির মালিকানা নেওয়ার চেষ্টা করলে সম্পত্তির মূল্যের সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ, তবে সর্বোচ্চ এক কোটি সৌদি রিয়াল পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। এছাড়া তথ্য গোপন করা, মালিকানা পরিবর্তনের তথ্য না দেওয়া বা পরিদর্শকদের কাজে বাধা দেওয়ার মতো অপরাধেও কয়েক লাখ থেকে ৪০ লাখ সৌদি রিয়াল পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।
logo-1-1740906910.png)