হরমুজ প্রণালীতে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের ড্রোন হামলার জবাবে ২৬ জুন দেশটিতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, তাদের যুদ্ধবিমান ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মজুত কেন্দ্র এবং উপকূলীয় রাডার স্টেশনগুলোতে আঘাত হেনেছে। প্রায় ৯০ মিনিট স্থায়ী এই অভিযানে কেশম দ্বীপসহ চারটি ঘাঁটি লক্ষ্যবস্তু করা হয়।
তেহরান জানিয়েছে, দক্ষিণ ইরানের সিরিক অঞ্চলের একটি জেটির কাছে প্রজেক্টাইল এসে পড়েছে। এর জবাবে ইরানি নৌবাহিনী ওই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালিয়েছে। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তাদের আঘাতে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ক্ষতি হয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরো ব্যাপক পাল্টা জবাব দেওয়া হবে।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই হামলা বড় কোনো যুদ্ধ অভিযান নয়, বরং ইরানের আগ্রাসনের জবাব। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান গত সপ্তাহে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করেছে। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, “সহিংসতার জবাব সহিংসতাতেই দেওয়া হবে।”
অন্যদিকে ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির প্রধান ইব্রাহিম আজিজি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা ও যুদ্ধবিরতির ন্যূনতম নীতি বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, এই লঙ্ঘন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অনুশোচনা ডেকে আনবে।
এদিকে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার লক্ষ্যে একটি চুক্তি সই হয়েছে। তবে হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, তারা এতে সহযোগিতা করবে না। ফলে এই চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
বৃহস্পতিবার ওমান উপকূলের কাছে একটি কনটেইনার জাহাজে হামলার পর ইরান ঘোষণা করেছে, হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে থাকবে। উপসাগরীয় দেশগুলোকে ওয়াশিংটনের পক্ষ না নেওয়ার জন্যও কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা। জাতিসংঘের সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশন (আইএমও) জানিয়েছে, হামলার কারণে শত শত জাহাজকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়ার কাজ স্থগিত করা হয়েছে।
ইরানি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, হরমুজ প্রণালী ইরান ও ওমানের জলসীমার মধ্যে অবস্থিত এবং চুক্তি অনুযায়ী বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার দায়িত্ব তাদের। তবে যুক্তরাষ্ট্রের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের জবাব দেওয়া হবে বলেও তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
logo-1-1740906910.png)