আগামী ৩০ জুন, সোমবার (১৫ মহররম ১৪৪৮ হিজরি) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে পবিত্র কাবা ধৌতকরণের বার্ষিক ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠান। মুসলমানদের কেবলা কাবা শরিফ ধোয়ার এই মহতী আয়োজন প্রতি বছরের মতো এবারো ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হবে।
সৌদি আরবের বাদশাহ তথা ‘দুই পবিত্র মসজিদের খাদেম’-এর পক্ষ থেকে একজন বিশেষ প্রতিনিধি এই অনুষ্ঠানের নেতৃত্ব দেবেন। এতে মুসলিম বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্ব, বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ, আলেম, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত এবং ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা অংশ নেবেন।
ইতোমধ্যেই প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে। ২৩ জুন রাতে এশার নামাজের পর কাবার দরজার গিলাফের অংশ ওপরে তোলা হয়েছে, যাতে আমন্ত্রিত অতিথিদের ভেতরে প্রবেশে কোনো সমস্যা না হয়। সাধারণত ফজরের নামাজের পরপরই ধৌতকরণ প্রক্রিয়া শুরু হয়।
কাবার ভেতরের দেয়াল ও মেঝে ধোয়ার জন্য জমজমের পানির সঙ্গে ব্যবহার করা হবে বিখ্যাত তায়েফি গোলাপ জল এবং খাঁটি উদের বিশেষ সুগন্ধি। সৌদি আরবের তায়েফ পাহাড় থেকে সংগৃহীত গোলাপ দিয়ে তৈরি এই সুগন্ধি বিশ্বজুড়ে পরিচিত। এবারের অনুষ্ঠানে ব্যবহৃত হবে দুটি রুপার পাত্রে সংরক্ষিত ৪০ লিটার জমজমের পানি, ৫৪০ মিলিলিটার তায়েফ গোলাপ জল মিশ্রিত জমজমের পানি, ২৪ মিলিলিটার প্রিমিয়াম মানের তায়েফ গোলাপ তেল, ২৪ মিলিলিটার খাঁটি উদ তেল এবং ৩ মিলিলিটার খাঁটি কস্তুরী।
প্রতি বছর দুইবার কাবা শরিফ ধোয়ার এই উৎসব আয়োজন করা হয়। প্রথমবার পবিত্র রমজানের আগে এবং দ্বিতীয়বার হজ শেষে মহররম মাসের শুরুতে। মুসলিম বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ এই আয়োজনকে গভীর শ্রদ্ধা ও আধ্যাত্মিক ভালোবাসার প্রতীক হিসেবে দেখেন। যদিও সীমিতসংখ্যক অতিথিকে কাবার ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়, তবুও ছবি ও ভিডিওচিত্র ইন্টারনেট ও গণমাধ্যমের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর মধ্যে এক আধ্যাত্মিক মেলবন্ধন তৈরি হয়।
logo-1-1740906910.png)