ধীরে ধীরে মাথা তুলছে বিশ্বের সর্বোচ্চ দালান জেদ্দা টাওয়ার
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ১০:২৯
সৌদি আরবে নির্মাণাধীন জেদ্দা টাওয়ার বিশ্বের সর্বোচ্চ ভবন হতে যাচ্ছে। প্রকল্পের প্রধান প্রকৌশলী জানিয়েছেন, ভবনটি দ্রুতই তার শীর্ষ পর্যায়ে পৌঁছাচ্ছে। সম্পন্ন হলে এর উচ্চতা হবে ১ হাজার মিটারের বেশি, যা বর্তমানে বিশ্বের সর্বোচ্চ দুবাইয়ের বুর্জ খলিফার (৮২৮ মিটার) রেকর্ডকে ছাড়িয়ে যাবে।
স্থপতি এড্রিয়ান স্মিথ ও গর্ডন গিল এই টাওয়ারের নকশা করেছেন। স্মিথই বুর্জ খলিফার ডিজাইনার ছিলেন। জেদ্দা টাওয়ারে থাকছে অন্তত ১৬৭ তলা, যার মধ্যে ১৬০তম তলায় থাকবে বিশেষ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র ‘স্কাই টেরেস’।
প্রকৌশলী জন পেরোন্টো, থরন্টন টমাসেটির ব্যবস্থাপনা প্রধান, জানিয়েছেন ভবনটি ইতিমধ্যেই প্রায় ১০৪ তলা পর্যন্ত পৌঁছেছে, যা ৪০০ মিটারেরও বেশি। প্রতি সপ্তাহে প্রায় ৪ মিটার করে নির্মাণ এগোচ্ছে। আগামী ২৫ সপ্তাহে এটি ৫০০ মিটার উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “৫০০ মিটার ছোঁয়ার মুহূর্তে আমরা দলগতভাবে উদযাপন করব।”
এক কিলোমিটার উচ্চতায় কংক্রিট পাম্প করা এই প্রকল্পের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। আগে একাধিক ধাপে কংক্রিট পাম্প করার পরিকল্পনা থাকলেও এখন উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে একক সিস্টেমে পুরো উচ্চতায় কংক্রিট পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে। পেরোন্টো বলেন, “এটি বিশ্বের যে কোনো ভবনের তুলনায় সর্বোচ্চ কংক্রিট পাম্পিং হবে।”
স্থপতি গর্ডন গিল বলেছেন, জেদ্দা টাওয়ার অত্যন্ত দক্ষভাবে নির্মিত হচ্ছে। তবে তিনি সতর্ক করেছেন, ভবিষ্যতের স্থাপত্যে স্থায়িত্বই সবচেয়ে বড় মানদণ্ড। গবেষণা বলছে, পুরনো ভবন পুনঃব্যবহার করলে নতুন নির্মাণের তুলনায় ৫০ থেকে ৭৫ শতাংশ কার্বন নিঃসরণ কমানো যায়। তাই সুপারটল ভবনের পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে বিতর্কও চলছে।
জেদ্দা টাওয়ার সৌদি আরবের ভিশন ২০৩০ উদ্যোগের অংশ, যা তেলের বাইরে অর্থনীতি বৈচিত্র্যময় করার লক্ষ্য নিয়েছে। এটি জেদ্দা ইকোনমিক সিটির কেন্দ্রবিন্দু, যেখানে ৫.৩ মিলিয়ন বর্গমিটার উন্নয়ন কাজ চলছে।
তবে অন্যান্য মেগাপ্রকল্প যেমন নিওম ও মুকাব নানা বিলম্ব ও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। ‘দ্য লাইন’ প্রকল্পের অর্থায়ন ২০৩০ পর্যন্ত স্থগিত হয়েছে বলে জানা গেছে। যদিও সৌদি কর্তৃপক্ষ বলছে, কোনো প্রকল্প বাতিল হয়নি, শুধু সময়সূচি পরিবর্তন হয়েছে।
জেদ্দা টাওয়ার বর্তমানে সৌদি আরবের সবচেয়ে অগ্রসর মেগাপ্রকল্প। প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন, ভবনটি আগস্ট ২০২৮-এ সম্পন্ন হবে। প্রতি সপ্তাহে একটি করে তলা নির্মাণের গতি বজায় থাকলে এটি বিশ্বের স্থাপত্য ইতিহাসে নতুন অধ্যায় রচনা করবে।
logo-1-1740906910.png)