Logo
×

Follow Us

মধ্যপ্রাচ্য

যেসব শর্তে হতে যাচ্ছে ইরান-মার্কিন সমঝোতা

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ১০:৩৩

যেসব শর্তে হতে যাচ্ছে ইরান-মার্কিন সমঝোতা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের পূর্ণাঙ্গ দফা প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস। সাংবাদিকদের সঙ্গে এক ব্রিফিংয়ে প্রশাসনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এই অনুলিপি সরবরাহ করেন। যদিও এর কোনো মুদ্রিত কপি এখনো প্রকাশিত হয়নি, তবুও এটি দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রথম দফায় উভয় পক্ষ লেবাননসহ সব ফ্রন্টে অবিলম্বে ও স্থায়ীভাবে সামরিক অভিযান বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে। তারা একে অপরের বিরুদ্ধে নতুন কোনো যুদ্ধ বা সামরিক পদক্ষেপ না নেওয়ার অঙ্গীকার করেছে। একই সঙ্গে একে অপরের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা শ্রদ্ধা করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য সর্বোচ্চ ৬০ দিনের মধ্যে আলোচনা সম্পন্ন করার অঙ্গীকার করা হয়েছে। প্রয়োজনে পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে সময়সীমা বাড়ানো যাবে।

যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ তুলে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করবে এবং ৩০ দিনের মধ্যে তা সম্পূর্ণভাবে শেষ করবে। ইরানও পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিরাপদ করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে। হরমুজ প্রণালীর ভবিষ্যৎ প্রশাসন নিয়ে ওমানের সঙ্গে আলোচনা করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

ইরানের পুনর্গঠন ও উন্নয়নের জন্য যুক্তরাষ্ট্র আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে মিলে কমপক্ষে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের পরিকল্পনা তৈরি করবে। পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। জাতিসংঘ, আইএইএ এবং যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা নিষেধাজ্ঞা ধাপে ধাপে তুলে নেওয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত হবে।

ইরান পুনরায় উল্লেখ করেছে যে তারা কোনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের নিষ্পত্তি আইএইএর তত্ত্বাবধানে করা হবে। চূড়ান্ত চুক্তিতে ইরানের পারমাণবিক চাহিদা ও সমৃদ্ধকরণ বিষয়ে একটি কাঠামো নির্ধারণ করা হবে।

চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ইরান তার বর্তমান পারমাণবিক কর্মসূচি বজায় রাখবে এবং যুক্তরাষ্ট্র নতুন কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে না বা অতিরিক্ত সৈন্য মোতায়েন করবে না।

মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ ইরানের অপরিশোধিত তেল, পেট্রোলিয়াম পণ্য ও ব্যাংকিং লেনদেনের জন্য অনুমতিপত্র জারি করবে। একই সঙ্গে ইরানের ফ্রিজ বা অবরুদ্ধ তহবিল ব্যবহারের সুযোগ করে দেওয়া হবে।

সমঝোতা স্মারকের বাস্তবায়ন ও ভবিষ্যৎ চুক্তির অনুগততা পর্যবেক্ষণের জন্য একটি নির্বাহী ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। চূড়ান্ত চুক্তি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বাধ্যতামূলক প্রস্তাবের মাধ্যমে অনুমোদিত হবে।

ইরান-মার্কিন সমঝোতা স্মারক দুই দেশের দীর্ঘদিনের উত্তেজনা প্রশমনে একটি বড় পদক্ষেপ। যুদ্ধবিরতি, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণ; সব মিলিয়ে এটি মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতার নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

Logo