বাহরাইনের বুকে যেন রং-তুলির আঁচড়ে জীবন্ত হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ। ক্যানভাসজুড়ে ফুটে উঠেছে বাংলার গ্রামীণ জনপদ, শতাব্দীপ্রাচীন ঐতিহ্য, লোকজ সংস্কৃতি ও মানুষের জীবনসংগ্রামের গল্প। শিল্পের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের এই দ্বীপরাষ্ট্রে তুলে ধরা হচ্ছে বাংলাদেশের সৌন্দর্য, ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক ঐশ্বর্য।
বাংলাদেশ দূতাবাস মানামা, বাহরাইন এবং বাহরাইন অথরিটি ফর কালচার অ্যান্ড অ্যান্টিকুইটিজের যৌথ উদ্যোগে রাজধানী মানামায় শুরু হয়েছে ১১ দিনব্যাপী চিত্রপ্রদর্শনী ‘ফ্রম দ্য কোর টু দ্য পেরিফেরি: এ ক্যালাইডোস্কোপিক জার্নি’। (From the Core to the Periphery: A Kaleidoscopic Journey)
গত ৭ জুন অনুষ্ঠিত হওয়া এই প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছে বাংলাদেশের চারজন খ্যাতিমান শিল্পী ড. জামাল উদ্দিন আহমেদ, ড. মোহাম্মদ ইকবাল আলী, কনকচাঁপা চাকমা ও শাহনাজ কুহুর নির্বাচিত শিল্পকর্ম।
সর্বমোট ৪০টি চিত্রকর্মে ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের গ্রামীণ জনজীবন, নদীমাতৃক প্রকৃতি, লোকজ ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, উৎসব এবং সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখের নানা অনুষঙ্গ।
প্রতিটি চিত্র যেন বাংলাদেশের মাটি ও মানুষের গল্প বলছে, আর দর্শকদের নিয়ে যাচ্ছে বাংলার শেকড়ের আরো গভীরে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাহরাইন অথরিটি ফর কালচার অ্যান্ড অ্যান্টিকুইটিজের মহাপরিচালক ফারাহ মোহাম্মদ মাত্রার এবং বাহরাইনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এশিয়া-প্যাসিফিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত প্রধান মোহাম্মদ রাশেদ আল সোয়েদী।
এছাড়া বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, সংস্কৃতিকর্মী, শিল্পপ্রেমী এবং উচ্চপদের সরকারি কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
বাহরাইনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. রইস হাসান সরোয়ার অতিথিদের সঙ্গে নিয়ে প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন এবং শিল্পীদের সৃষ্টিকর্ম সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন।
আয়োজকদের মতে, এই প্রদর্শনীর মূল লক্ষ্য বাহরাইনের জনগণের কাছে বাংলাদেশের সমৃদ্ধ শিল্প, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে আরো ব্যাপকভাবে পরিচিত করে তোলা।
তাদের বিশ্বাস, শিল্প ও সংস্কৃতির এই বিনিময় শুধু দুই দেশের জনগণকে আরো কাছাকাছি আনবে না, বরং বাংলাদেশ ও বাহরাইনের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরো সুদৃঢ় করবে।
কূটনৈতিক সম্পর্কের গণ্ডি পেরিয়ে সংস্কৃতি যখন মানুষের হৃদয়ে পৌঁছে যায়, তখন তৈরি হয় এক নতুন সেতুবন্ধন। আর সেই সেতুবন্ধনেরই এক অনন্য উদাহরণ হয়ে উঠেছে বাহরাইনের এই চিত্রপ্রদর্শনী।
বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের শিল্প ও সংস্কৃতির এমন বর্ণিল উপস্থাপনা প্রমাণ করে বাংলাদেশের ঐতিহ্য, সৃজনশীলতা এবং সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য বিশ্বমঞ্চে সমানভাবে সমাদৃত। আগামী ১৭ জুন পর্যন্ত চলবে এই প্রদর্শনী। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত এটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। বাংলাদেশের শিল্প, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরার এই উদ্যোগ দর্শনার্থীদের মাঝে ইতোমধ্যেই ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
logo-1-1740906910.png)