মধ্যপ্রাচ্যের নিউজ আপডেট ১২ জুন ২০২৬
বাহরাইনে আপিল কোর্টে এশিয়ানের কারাদণ্ড বহাল
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ২২:৫১
বাহরাইন
বাহরাইনে আপিল কোর্টে এশিয়ানের কারাদণ্ড বহাল
বাহরাইনের ফার্স্ট সুপ্রিম ক্রিমিনাল কোর্ট অব আপিল একজন এশীয় প্রবাসীর বিরুদ্ধে দেওয়া ৫ বছরের কারাদণ্ড বহাল রেখেছে। ওই ব্যক্তি একটি মাদক মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন। তদন্তে দেখা যায় তিনি ডাকযোগে আসা পার্সেলের মাধ্যমে মাদক আমদানি, সংরক্ষণ এবং পাচারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ঘটনাটি বাহরাইন ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে ঘটে। সেখানে কাস্টমস কর্মকর্তারা বিদেশ থেকে আসা একটি পার্সেল সন্দেহজনক মনে করে তল্লাশি চালান এবং সেই পার্সেল থেকে অবৈধ মাদক উদ্ধার করেন। পরবর্তী সময়ে তদন্তে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মাদক পাচারের প্রমাণ পাওয়া যায় এবং আদালত তাকে প্রথমে ৫ বছরের কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড দেন। আপিল পর্যায়ে সেই রায় পুনর্বিবেচনা করা হলেও আদালত আগের রায়ই বহাল রাখে, অর্থাৎ ৫ বছরের জেল বহাল থাকে। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দেন, কারাদণ্ড শেষ হওয়ার পর তাকে স্থায়ীভাবে দেশ থেকে বহিষ্কার করা হবে এবং জব্দ করা সব অবৈধ সামগ্রী বাজেয়াপ্ত থাকবে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশের প্রবেশপথে কড়া নিরাপত্তা ও কাস্টমস নজরদারির কারণেই এই ধরনের মাদক পাচারের চেষ্টা ধরা সম্ভব হয়েছে এবং তারা ভবিষ্যতেও এমন অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থানে থাকবে।
কুয়েত
কুয়েতে ট্রাফিক অভিযান, আইন ভঙ্গের জন্য আটক প্রবাসীরা
কুয়েতের জেনারেল ট্রাফিক ডিপার্টমেন্ট ৪ থেকে ৭ জুন পর্যন্ত দেশজুড়ে পরিচালিত চার দিনের বিশেষ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক অভিযানে মোট ৭৬ জন রেসিডেন্সি ল লঙ্ঘনকারীকে আটক করেছে। তবে তাদের নাম পরিচয় জানানো হয়নি। একই অভিযানে ১৯ হাজার ৭৮৮টি ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনা শনাক্ত করা হয় এবং ২ হাজার ৭৭৫টি ট্রাফিক রিপোর্ট জারি করা হয়। এছাড়া গুরুতর আইন ভঙ্গের অভিযোগে ২৩ জনকে আটক, ৪০ জন পলাতক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার এবং বৈধ পরিচয়পত্র দেখাতে না পারায় আরও ৬ জনকে আটক করা হয়েছে। অভিযানের সময় ১৭টি ওয়ারেন্টভুক্ত গাড়ি জব্দ করা হয় এবং ১৩ জন অপ্রাপ্তবয়স্ককে জুভেনাইল প্রসিকিউশনের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এছাড়া অস্বাভাবিক অবস্থায় থাকা একজন ব্যক্তিকে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। আরব টাইমস অনলাইনের খবরে বলা হয়েছে, দেশটির ট্রাফিক বিভাগ এই চার দিনে ৯৮৬টি সড়ক দুর্ঘটনা ও ১৭৮টি আহতের ঘটনা জড়িত সংঘর্ষ মোকাবিলা করেছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং দেশের বিভিন্ন এলাকায় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। কুয়েতে ট্রাফিক অভিযান নিয়মিত বিষয় কিন্তু বিষয়টি মাথায় রেখে প্রবাসীদের কাগজপত্র হালনাগাদ রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সৌদি আরব
সৌদির খাদ্য কর্তৃপক্ষ ধ্বংস করল ২০ টন পচা খাবার
সৌদি আরবের জেদ্দা পৌরসভা এক অভিযানে প্রায় ২০ টন পচা খাবার ও খাদ্যসামগ্রী ধ্বংস করেছে। দেশটির বিভিন্ন সরকারি সংস্থার সহযোগিতায় পরিচালিত অভিযানে শহরের পূর্বাঞ্চলে একটি অবৈধ পেস্ট্রি ও মিস্টি তৈরির কারখানা শনাক্ত করা হয়।কারখানাটি একটি আবাসিক ভবনের ভেতরে লাইসেন্স ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছিল। কারখানার ভেতরে স্বাস্থ্য ও পৌরসভার নিয়মকানুনের কোনো মানদণ্ডই মেনে চলছিল না। পরিদর্শকরা সেখানে গিয়ে দেখতে পান, অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বিভিন্ন ধরনের খাবার উৎপাদন করা হচ্ছে, পচা কাঁচামাল ও খাদ্যপণ্য মজুত রাখা হয়েছে এবং কিছু খাদ্যসামগ্রী সরাসরি রোদে সংরক্ষণ করা হচ্ছিল। এছাড়া উৎপাদনের কাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম ছিল পুরোনো, নষ্ট ও খাদ্য প্রস্তুতের জন্য অনুপযুক্ত। এসব গুরুতর অনিয়মের কারণে কারখানায় থাকা সব খাদ্যপণ্য, কাঁচামাল এবং উৎপাদন কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জাম ধ্বংস করা হয়। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। জেদ্দা পৌরসভা জানিয়েছে, জনস্বাস্থ্য ও ভোক্তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং আবাসিক এলাকায় অবৈধ বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ করতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত
আবুধাবির খাবারের দোকানে ময়লা, অনিয়মের কারণে বন্ধ অনেক দোকান
আবুধাবির খাবারের দোকানে চলছে নিয়মিত অভিযান। এসব অভিযানে গেল ১৮ মাসে ৬৯টি খাবারের দোকানপাট বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। আবুধাবি কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২০২৫ সালে ৫৫টি এবং ২০২৬ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত আরো ১৪টি প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হয়েছে। ইন্সপেকশনের সময় খাবার বানানোর জায়গায় তেলাপোকা ও পোকামাকড়ের উপস্থিতি, মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্য বিক্রি, অপরিচ্ছন্ন রান্নার পরিবেশ, কর্মীদের বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণের অভাব, সঠিক তাপমাত্রায় খাবার সংরক্ষণ না করা এবং স্বাস্থ্যবিধি না মানার মতো গুরুতর অনিয়ম ধরা পড়ে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আগে একাধিকবার সতর্ক করা হয়েছিল এবং ত্রুটি সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা নির্দেশনা মানতে ব্যর্থ হওয়ায় শেষ পর্যন্ত বন্ধ করে দেওয়া হয়। একই সময়ে সংস্থাটি ৭ হাজার ১৫৪টি ভোক্তা অভিযোগ পেয়েছে, যার মধ্যে ৫ হাজার ৫১৪টি অভিযোগ আসে ২০২৫ সালে এবং চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত আসে ১ হাজার ৬৪০টি অভিযোগ। ADAFSA জানায়, তাদের পরিদর্শকরা নিয়মিত ও আকস্মিক অভিযান চালিয়ে খাদ্য গ্রহণ, সংরক্ষণ, প্রস্তুত, রান্না, পরিবহন ও পরিবেশনের প্রতিটি ধাপ পর্যবেক্ষণ করেন। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বন্ধ হওয়া প্রতিষ্ঠানের নাম ও ছবি প্রকাশ করা হয়। কর্তৃপক্ষ আরো জানিয়েছে, কোনো প্রতিষ্ঠান তখনই পুনরায় চালু হওয়ার অনুমতি পাবে, যখন সব ধরনের অনিয়ম পুরোপুরি সংশোধন করা হবে এবং পরিদর্শকরা খাদ্য নিরাপত্তা মানদণ্ড মেনে চলার বিষয়টি নিশ্চিত করবেন।
ওমান
ওমানে চিবিয়ে খাওয়া তামাক জব্দ করল পুলিশ
ওমানের নর্থ আল বাতিনাহ গভর্নরেটে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবার ধরল এমন সব তামাকের চালান, যা চকোলেটের মতো চিবিয়ে খাওয়া হয়। সাথে আরো জব্দ করেছে বিপুল পরিমাণ তামাকের প্যাকেট। কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, অভিযানে ২,২০০টিরও বেশি প্যাকেট ও কনটেইনারে থাকা এই নিষিদ্ধ তামাকজাত পণ্য উদ্ধার করা হয়, যেগুলো অবৈধভাবে মজুত ও পরবর্তী সময়ে বাজারে বিতরণের উদ্দেশ্যে রাখা হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে প্রমাণ পাওয়া গেছে। অভিযানটি পরিচালিত হয় জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং অবৈধ তামাক ব্যবসা ও চোরাচালান দমনের অংশ হিসেবে। এই অভিযানে নিরাপত্তা ও কাস্টমস বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করেছে বলে টাইমস অব ওমানের খবরে বলা হয়েছে। উদ্ধারকৃত সব পণ্য তাৎক্ষণিকভাবে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ওমান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ ধরনের অবৈধ ও ক্ষতিকর পণ্যের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে নজরদারি ও অভিযান আরো জোরদার করা হবে, যাতে বাজারে এসব পণ্যের প্রবেশ বন্ধ করা যায় এবং জনগণের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।
logo-1-1740906910.png)