Logo
×

Follow Us

মধ্যপ্রাচ্য

যুদ্ধের ১০০তম দিন, তবুও টলেনি ইরান

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ২০:৩৪

যুদ্ধের ১০০তম দিন, তবুও টলেনি ইরান

চার দশকের মার্কিন অবরোধ, সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলা, মৃত্যু হয়েছে সর্বোচ্চ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বের, তবুও পরাজয় মানেনি ইরান। ছাড়েনি হরমুজের নিয়ন্ত্রণ। বরং ইরান পরিণত হতে যাচ্ছে নতুন আঞ্চলিক পরাশক্তিতে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যম সে রকমই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ইরান-আমেরিকা যুদ্ধ পড়েছে ১০০তম দিনে। এ বছর ২৮ ফেব্রুয়ারির আগে, ঠিক যখন আমেরিকা-ইরান শান্তি আলোচনা চলছিল সুইজারল্যান্ডে, দেখা যাচ্ছিল মীমাংসার আলো, ঠিক তখনই গভীর রাতে ইরানে আক্রমণ চালিয়ে বসে আমেরিকা আর ইসরায়েল।

হামলার প্রথম দিনেই ইরান হারায় তাদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা খামেনিকে। মৃত্যুর দীর্ঘ সারিতে যুক্ত হয় শীর্ষ সামরিক কর্তা, আরো বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা। পুল-ব্রিজ, স্কুল-কলেজ, সড়ক-মহাসড়ক, তেলেরখনি থেকে শুরু করে পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র ইরানের কোথায় হামলা করেনি বিশ্বের অন্যতম দুই পরাশক্তি। তারা মনে করেছিল ইরান ধ্বংস হয়ে গেছে।

কিন্তু পশ্চিমাদের অবাক করে দিয়ে ইরানকে টলানো যায়নি, বরং দেশটির নাগরিকদের ঐক্যে এখনো সরকার টিকে আছে।মোজাইক পদ্ধতিতে গড়ে ওঠা দেশটির বিপ্লবী গার্ড বাহিনী জারি রেখেছে প্রতিরোধ যুদ্ধ। হরমুজের নিয়ন্ত্রণে এক চুলও ছাড় দেয়নি ইরান। উল্টো বিশ্বের সমর পরাশক্তি আমেরিকার প্রযুক্তির শ্রেষ্ঠত্বকেই প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে দেশটি।

মিডলইস্ট আইয়ের এক মন্তব্য প্রতিবেদনে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, তবে কী নতুন আঞ্চলিক পরাশক্তি হতে চলেছে ইরান?   

বছরের পর বছর ড্রোন-মিসাইলের যে সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছে ইরান, তা দিয়েই একেবারে কুপোকাত করেছে মার্কিন সেনা আর তাদের বন্ধুদের। বলা হয়ে থাকে, শাহেদ ড্রোন দিয়েই ইরান বাজিমাৎ করেছে। নানা ধরনের আধুনিক মিসাইল আকাশে ছুড়ে দিয়ে নাচন দেখিয়েছে দেশটি। প্রাকৃতিক দুর্গের বাইরে ইয়েমেন থেকে লেবানন, তেহরান থেকে সিরিয়া-ইরাক, সবখানে প্রক্সি যোদ্ধাদের চোখ রাঙানি বুঝিয়ে দিয়েছে, উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরান একা নয়। ইরানকে কাবু করাও সহজ নয়। 

যুদ্ধের আগ পর্যন্ত ভাবা হতো যে, ‘যৌথ নিরাপত্তা ব্যবস্থার’ মাধ্যমে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা আনা সম্ভব। কিন্তু চলমান যুদ্ধ সেই ভাবনাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। বিশ্ববাসী দেখেছে ইরানি ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র কেমন ধ্বংসলীলা চালাতে পারে আরব দেশগুলোর ভেতরেও। মধ্যপ্রাচ্যে থাকা একটার পর একটা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ধ্বংস করে দিয়ে চোখ খুলে দিয়েছে আরব দেশগুলোরও। 

আরব দেশগুলো এখন নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে দ্বিধায় পড়েছে। কেননা, বহু বছর ধরে সেসব দেশ নিজেদের মাটিতে মার্কিন ঘাঁটি বসিয়ে বহু অর্থ খরচ করে ফেলেছে। তারা বহু অর্থ খরচ করে মার্কিন সমরাস্ত্র কিনেছে। অথচ মার্কিনিরা তাদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। হরমুজের নিয়ন্ত্রণ একদিনের জন্যও হারায়নি ইরান। একদিকে হরমুজ আর অন্যদিকে লোহিত সাগরের বাব আল মান্দেব, দুই দিক থেকে চাপ, দিশেহারা করে দিয়েছে মার্কিন আর আরব দেশগুলোকে।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে ইরান বুঝিয়ে দিয়েছে, যুদ্ধ কেবল শক্তির খেলা নয় বরং কৌশলের। ইরানের ড্রোন-মিসাইল-হরমুজ এই তিন কৌশলে যুদ্ধের খেলায় এক প্রকার কুপোকাত হয়েছে বিশ্বের দুই পরাশক্তি। উপসাগরীয় আরব দেশগুলোকেও ইরান বুঝিয়ে দিয়েছে এখন ইরান মধ্যপ্রাচ্যের নতুন এক পরাশক্তি, যাকে জমাখরচ দিয়েই চলতে হবে আরব দেশ আর আমেরিকাকে।

Logo