মধ্যপ্রাচ্যের নিউজ আপডেট ৬ জুন ২০২৬
বাহরাইনে গভীর রাতে সাইরেন, প্রতিহত করা হলো ড্রোন হামলা
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ১৭:৩৯
বাহরাইন
বাহরাইনে গভীর রাতে সাইরেন, প্রতিহত করা হলো ড্রোন হামলা
বাহরাইনে ৬ জুন ভোর সকালে জরুরি সতর্কতা হিসেবে সাইরেন বাজানো হয়েছে এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় সব নাগরিক ও বাসিন্দাদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ৬ জুন ভোর সকালে ইরান হরমুজ প্রণালী ও উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশের দিকে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়েছে, যার মধ্যে কুয়েত ও বাহরাইনের দিকে সাতটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। এর কয়েক ঘণ্টা আগেই মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড হরমুজ প্রণালীর দিকে ছোড়া ইরানের চারটি একমুখী আক্রমণাত্মক ড্রোন ভূপাতিত করে, যেগুলো আঞ্চলিক সামুদ্রিক চলাচলের জন্য তাৎক্ষণিক হুমকি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিল। পরিস্থিতির জবাবে মার্কিন বাহিনী ইরানের গোরুক ও কেশম দ্বীপে অবস্থিত উপকূলীয় নজরদারি রাডার স্থাপনাগুলোতে হামলা চালায়, যাতে ভবিষ্যতে সমুদ্রপথে সম্ভাব্য আক্রমণ প্রতিহত করা যায়। প্রাথমিক মূল্যায়নে জানা গেছে, ইরানের ছোড়া সাতটি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ছয়টি সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে এবং একটিও নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে পারেনি। মার্কিন কর্তৃপক্ষ আরো দাবি করেছে, এই ঘটনায় কোনো মার্কিন সেনা সদস্য হতাহত হননি এবং বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদরদপ্তর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে ইরানের যে দাবি, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। সাইরেন বাজানোর কারণের বিষয়ে সরকারি নির্দেশনায় কোনো কারণ না জানালেও নাগরিক বাসিন্দাদের শান্ত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
কুয়েত
কুয়েতে আবারো ড্রোন হামলা
কুয়েতে আবারো ড্রোন ও মিসাইল হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় কুয়েতজুড়ে জরুরি সাইরেন বেজে ওঠে এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তাৎক্ষণিকভাবে সক্রিয় করা হয়। কুয়েতের সেনাবাহিনীর জেনারেল স্টাফ জানিয়েছে, দেশের আকাশসীমার দিকে আসা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনগুলোকে প্রতিহত করতে বিমান প্রতিরক্ষা ইউনিটগুলো অভিযান চালিয়েছে। যার ফলে বিভিন্ন স্থানে শোনা বিস্ফোরণের শব্দ মূলত আকাশেই এসব লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করার ফল। পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে নাগরিক ও প্রবাসীদের শান্ত থাকার, গুজবে কান না দেওয়ার এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে। গত কয়েক দিনে কুয়েত একাধিকবার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে পড়েছে বলে দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। আর আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির কারণে পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরো জোরদার করা হয়েছে। কুয়েতের সেনাবাহিনী বলছে, তারা পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখছে এবং দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
সৌদি আরব
আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে মূল্যায়ন করল সৌদি আরব
বাহরাইনকে টার্গেট করে ইরানের বারবার আক্রমণের নিন্দা জানিয়েছে সৌদি আরব। এদিকে, গত ৪ জুন সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে টেলিফোনে কথা বলেছেন বাহরাইনের কিং হামাদ বিন ইসা আল খালিফার সাথে। এ সময় সৌদির ক্রাউন প্রিন্স জানিয়েছেন, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার স্বার্থে যে কোনো দুর্যোগে বাহরাইনের পাশে থাকবে সৌদি আরব। এদিকে, সাম্প্রতিক আঞ্চলিক উত্তেজনার পরিপ্রেক্ষিতে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান কথা বলেছেন কুয়েত ও মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সাথে। এ সময় প্রিন্স ফারহান উপসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতির মূল্যায়ন করেন। একই সাথে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা জোরদারের উপায়গুলো নিয়ে কুয়েত ও মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সাথে আলোচনা করেন।
ওমান
ওমানে ডিজিটাল মিডিয়া খাতে নতুন করে কড়াকড়ি
ওমানের তথ্য মন্ত্রণালয় নতুন করে ডিজিটাল মিডিয়া খাতে কড়াকড়ি আরোপের ঘোষণা দিয়েছে। বলা হয়েছে, এখন থেকে সব ধরনের ডিজিটাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম, অনলাইন নিউজ পোর্টাল, ওয়েবসাইট এবং সোশ্যাল মিডিয়া ভিত্তিক মিডিয়া কার্যক্রম চালাতে হলে অবশ্যই সরকার থেকে বাধ্যতামূলক লাইসেন্স নিতে হবে। টাইমস অব ওমানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই নতুন নিয়ম অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যদি মিডিয়া কনটেন্ট তৈরি, প্রকাশ বা পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত থাকে; বিশেষ করে নিউজভিত্তিক কনটেন্ট বা সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করেন, তাহলে তাদের আগে থেকে মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদিত লাইসেন্স গ্রহণ করতে হবে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে ওমান সরকার ডিজিটাল মিডিয়া খাতে শৃঙ্খলা আনা, ভুয়া বা বিভ্রান্তিকর তথ্য নিয়ন্ত্রণ করা এবং জাতীয় স্বার্থ ও নীতিমালা রক্ষা করার লক্ষ্য নিয়েছে। একই সঙ্গে বলা হয়েছে, লাইসেন্স ছাড়া মিডিয়া কার্যক্রম চালানো আইনত দণ্ডনীয় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে আইন ভঙ্গের জন্য জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হবে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত
আমিরাতে বেতন ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন
সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রাইভেট সেক্টরের বেতন ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। নতুন Wage Protection System (WPS) আপডেট ও কঠোর নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর কোম্পানিগুলো দ্রুত গতিতে বেতন প্রক্রিয়াকরণ শুরু করেছে।মাসের ১ তারিখের মধ্যে কর্মীদের বেতন পরিশোধ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যার ফলে বেতন দেরি করে দেওয়ার প্রবণতা এখন প্রায় বন্ধের দিকে এবং “নো মোর লেট স্যালারি” পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, নতুন নির্দেশনা কার্যকর হওয়ার পর মাত্র কয়েক সপ্তাহেই প্রাইভেট সেক্টরে পেরোল প্রসেসিং বা বেতন লেনদেন ১৫১ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে গেছে। কারণ হাজারো কোম্পানি নতুন নিয়ম মানতে দ্রুত তাদের সিস্টেম আপডেট করছে। খালিজ টাইমস ও গালফ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ৬ লাখ কোম্পানি এই নতুন বা আপগ্রেডেড ওয়েজ প্রোটেকশন রুলসের আওতায় আসবে, যেখানে বেতন সরাসরি ব্যাংকিং ও অনুমোদিত ডিজিটাল চ্যানেলের মাধ্যমে সময়মতো প্রদান নিশ্চিত করা হবে। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো কর্মীদের বেতন সুরক্ষা শক্তিশালী করা, শ্রমবাজারে স্বচ্ছতা বাড়ানো এবং দেরি করে বেতন দেওয়ার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া। একই সঙ্গে নিয়ম না মানলে কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে জরিমানা ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ারও সম্ভাবনা থাকবে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই পরিবর্তনগুলো শুধু শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা নয়, বরং আমিরাতের সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্বচ্ছতা ও শ্রম ব্যবস্থাকে আরো আধুনিক ও নিয়ন্ত্রিত করার একটি বড় পদক্ষেপ।
logo-1-1740906910.png)