ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, এবার যদি আমেরিকা দেশটিতে হামলা করে, তাহলে ইরান চমক দেখাবে। প্রশ্ন উঠেছে কী সেই চমক? এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সফরের পর, চীনে গেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন। একদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন হামলার শঙ্কা অন্যদিকে, চীন-রাশিয়ার বৈঠক, সব মিলিয়ে সংঘাত না শান্তি কোনটা বেছে নেয় ইরান-আমেরিকা সেদিকে নজর বিশ্ববাসীর।
শেষ মুহূর্তে যুদ্ধের পরিকল্পনা আমেরিকা বাতিল করলেও ট্রাম্পের চোখ এখনো ইরানের দিকে। ট্রাম্প বলেছেন, ইরান খুব করে একটা চুক্তি করতে চাইছে আর তা হয়ে গেলে দ্রুতই এই যুদ্ধ শেষ হবে। যদিও ট্রাম্পের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স অবশ্য তীব্র হুমকির সুরেই বললেন, মার্কিন বাহিনী এখনো লকড্ অ্যান্ড লোডেড অবস্থাতেই প্রস্তুত আছে। চুক্তিতে রাজি না হলেই ইরানের ওপর গজব নামবে।
কিন্তু ট্রাম্প এবং ভ্যান্সের এমন কথা থোরাই কেয়ার করছে ইরান। তারা বলছে, এমন হুমকি তারা বহুবার শুনেছে। তাই পাল্টা হুমকি এসেছে ইরানের পক্ষ থেকেও। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, তেহরান আগের হামলা থেকে যে সামরিক জ্ঞান অর্জন করেছে, তা পুঁজি করেছে। এবার যুদ্ধে ফিরলে মার্কিনি আর বন্ধুদের জন্য অনেক চমক থাকবে”।
চমক নিয়ে বিস্তারিত আব্বাস আরাঘচি আর কিছু না জানালেও সংবাদ মাধ্যম মিডল ইস্ট আই জানাচ্ছে, ইরানের সামরিক কমান্ডাররা হয়তো তাদের আকাশে মার্কিন যুদ্ধবিমান ও বোমারু বিমানের উড্ডয়ন পথের মানচিত্র তৈরি করে রেখেছে, যা মার্কিন বাহিনীর ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে।
যুদ্ধ বন্ধের আগে ইরানের আকাশে যেভাবে মার্কিন সর্বাধুনিক বিমানগুলো ভূপাতিত হচ্ছিল, তাতেই এই সন্দেহ বেড়েছে মার্কিন সেনাদের। মার্কিনিদের এফ-১৫ই বিমান বা রেপ্টার ড্রোন ইরানি বাহিনী যেভাবে ভূপাতিত করেছিল, তা ইঙ্গিত দেয় যে, যুক্তরাষ্ট্রের বিমান চলাচলের ম্যাপ ধরে ফেলেছে ইরান। এখন ইরানের বিপ্লবী বাহিনী এও ঘোষণা করেছে যে, মার্কিনিরা ইরানে নতুন করে হামলা করলে, ইরান মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের বাইরের শত্রু স্থাপনাগুলোকেও টার্গেট করবে।
মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক যুদ্ধে ইরানের হামলায় ১৫টি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি আক্রান্ত হয়েছে। ২২৮টির বেশি স্থাপনা ও সামরিক সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। আমেরিকার উচ্চপ্রযুক্তির রাডার ও সেন্সর ব্যবস্থা, স্যাটেলাইন ব্যবস্থা, বিশেষায়িত বিমান ও ড্রোন ধ্বংস হয়ে যাওয়াকে অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবেই দেখা হচ্ছে। ডলারের হিসেবে ক্ষতি যাই হোক না কেন, এসব সামরিক স্থাপনা সহসাই ঠিকঠাক আর করতে পারছে না আমেরিকা। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার গোয়েন্দা নজরদারি ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
বৈশ্বিক উত্তেজনায় এই সময়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠা চীনের প্রেসিডেন্ট শি জানিয়েছেন, যুদ্ধ বন্ধ করা ছাড়া বিশ্বের কাছে আর কোনো বিকল্প নেই। ট্রাম্পের চীন সফরের পরপরই পুতিনের চীন সফর যে ইরান ইস্যুতেই, তা বোঝার অপেক্ষা রাখে না। ফলে শি জিন পিং-পুতিনের বৈঠক থেকে ইরান গোপন কী বার্তা পায়, আর তাতে দেশটি কীভাবে আমেরিকাকে চমক দেখায়, সেদিকে চোখ রাখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
logo-1-1740906910.png)