ওমানে প্রবাসী চার বাংলাদেশি ভাইয়ের মৃত্যুতে তদন্ত শুরু করেছে সে দেশের পুলিশ। রয়্যাল ওমান পুলিশের বরাত দিয়ে স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, গাড়ি চালু থাকা অবস্থায় এসির এগজস্ট থেকে নির্গত কার্বন মনোক্সাইড গ্যাসে শ্বাস গ্রহণের ফলে তাদের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনার পর আবদ্ধ গাড়িতে ঘুমানো থেকে বিরত থাকার জন্য সবাইকে সতর্ক করেছে পুলিশ।
চট্টগ্রামের রাউজানের চার ভাই ১৩ মে সন্ধ্যায় বারকা এলাকা থেকে মুলাদ্দাহর উদ্দেশে রওনা হন। রাত ৮টার পর তাদের একজন এক আত্মীয়কে ভয়েস মেসেজ পাঠিয়ে অসুস্থতার কথা জানান। তিনি বলেন, গাড়ি থেকে বের হওয়ার মতো অবস্থাও নেই, নাকে-মুখে ফেনা আসছে, শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। এমনকি মায়ের কাছে ফোন করে দোয়া চান তারা। পরে একটি ক্লিনিকের সামনে পার্ক করা গাড়ির ভেতরে চারজনকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। স্থানীয়রা পুলিশে খবর দিলে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতরা হলেন রাশেদুল ইসলাম, শাহেদুল ইসলাম, সিরাজুল ইসলাম ও শহিদুল ইসলাম।
চার ভাইয়ের লাশ আগামী ১৯ মে বিকেলে দেশে পৌঁছাবে বলে স্বজনেরা নিশ্চিত করেছেন। বাংলাদেশ দূতাবাস, চট্টগ্রাম সমিতি ওমান এবং নিহতদের পরিবার একসঙ্গে লাশ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করছে। কবরস্থানে পাশাপাশিই তাদের দাফন করা হবে।
তিন দিন পার হলেও নিহতদের মা খাদিজা বেগমকে এখনো জানানো হয়নি যে তার চার ছেলে আর বেঁচে নেই। তিনি জানেন, ছেলেরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। শারীরিকভাবে অসুস্থ অবস্থায় এই দুঃসংবাদ সহ্য করতে পারবেন না বলে পরিবার বিষয়টি গোপন রেখেছে। একমাত্র জীবিত ছেলে মোহাম্মদ এনাম মায়ের পাশে থেকে খবরটি আড়াল করছেন।
স্থানীয় সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী নিহতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে লাশ দেশে আনার উদ্যোগের কথা জানান এবং পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও উপস্থিত ছিলেন।
রয়্যাল ওমান পুলিশ জানিয়েছে, গাড়ি চালু রেখে আবদ্ধ অবস্থায় ভেতরে থাকা অত্যন্ত বিপজ্জনক। বিষাক্ত গ্যাসে শ্বাসরোধ হয়ে মৃত্যু ঘটতে পারে। তাই সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
logo-1-1740906910.png)