Logo
×

Follow Us

মধ্যপ্রাচ্য

মধ্যপ্রাচ্যের নিউজ আপডেট ১৬ মে ২০২৬

বাহরাইনে ভিসা শেষ হয়ে যাওয়াদের সুখবর দিল দূতাবাস

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৬ মে ২০২৬, ২১:১২

বাহরাইনে ভিসা শেষ হয়ে যাওয়াদের সুখবর দিল দূতাবাস

বাহরাইন

বাহরাইনে ভিসা শেষ হয়ে যাওয়াদের সুখবর দিল দূতাবাস

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দেশে আটকা পড়া বাহরাইন প্রবাসীদের সুখবরের ইঙ্গিত দিয়েছে মানামার বাংলাদেশ দূতাবাস। 

বাংলাদেশ দূতাবাস ১৪ মে এক বিজ্ঞপ্তিতে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ভিসার মেয়াদ নবায়ন করতে না পারা বাহরাইন প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রয়োজনীয় তথ্য ও কাগজপত্র পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছে। 

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর আগে দেশে ছুটি কাটাতে আসা বাহরাইন প্রবাসী বাংলাদেশিরা বিপাকে পড়েন। ফ্লাইট সংকটের কারণে ভিসা শেষ হয়ে যাওয়া, কেউবা ভিসা বাতিল হওয়ার কারণে দেশে আটকা পড়েন। দূতাবাস জানিয়েছে, যারা এ সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন তারা উপযুক্ত প্রমাণসহ mission.manam@mofa.gov.bd এই ই-মেইলে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠাতে পারবেন। কাগজপত্রের মধ্যে রয়েছে পাসপোর্টের কপি, ভিসার কপি, সিপিআরের কপি, স্পন্সরের কপি যদি এনএমআরের অধিন না হন, বিমান টিকিটের কপি, বাংলাদেশ ও বাহরাইনের মোবাইল নম্বর। তবে যুদ্ধের আগে বা পরে স্পন্সর কর্তৃক ভিসা বাতিল হয়ে থাকলে অথবা সিপিআর (CPR) সংক্রান্ত জটিলতার কারণে ভিসা বাতিল হলে তারা এই বিশেষ বিবেচনার আওতায় পড়বেন না।


সংযুক্ত আরব আমিরাত

আমিরাতে প্রবাসীদের চাকরি পরিবর্তন নিয়ে নতুন ঘোষণা

সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকার চাকরি পরিবর্তন নিয়ে নতুন করে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছে। দেশটির মানবসম্পদ ও এমিরাটাইজেশন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কোনো কর্মীর চাকরির চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে অথবা মালিক ও কর্মী উভয়ের সম্মতিতে চাকরি শেষ হলে তিনি আইনগতভাবে অন্য প্রতিষ্ঠানে চাকরি নিতে পারবেন। তবে কিছু নিয়ম না মানলে এক বছরের জন্য নতুন ওয়ার্ক পারমিট পাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে। বিশেষ করে প্রবেশন পিরিয়ড চলাকালে নির্ধারিত নোটিশ ছাড়া চাকরি ছেড়ে দিলে অথবা কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে কর্মী এক বছর নতুন চাকরির অনুমতি পাবেন না। মন্ত্রণালয় আরো জানিয়েছে, চাকরি শেষ হওয়ার পর নির্ধারিত গ্রেস পিরিয়ড পর্যন্ত কর্মীরা বৈধভাবে আমিরাতে থাকতে পারবেন এবং এ সময়ের মধ্যে নতুন চাকরি খুঁজে ভিসা পরিবর্তন অথবা দেশ ত্যাগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবেন। এছাড়া নতুন নির্দেশনায় আরো বলা হয়েছে, নিয়োগকর্তা ও কর্মীর সম্মতিতে ফুলটাইম, পার্টটাইম, অস্থায়ী, রিমোট বা ফ্লেক্সিবল কাজসহ বিভিন্ন ধরনের চাকরির চুক্তিতে পরিবর্তন আনার বিধানও রাখা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, শ্রমবাজারে স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং কর্মী ও মালিক উভয়ের অধিকার সুরক্ষিত করতেই এই নিয়মগুলো স্পষ্ট করা হয়েছে।


সৌদি আরব

সৌদিতে হজ সামনে রেখে পরিবহন ব্যবস্থা সম্প্রসারিত 

সৌদি আরবে পবিত্র হজ মৌসুমকে সামনে রেখে সৌদি আরব সরকার এবার নজিরবিহীন পরিবহন প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। যাতে করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা লাখ লাখ হজযাত্রী নিরাপদ, স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে হজের সব আনুষ্ঠানিকতা পালন করতে পারেন। দেশটির ট্রান্সপোর্ট জেনারেল অথরিটি জানিয়েছে, হজযাত্রীদের সেবায় এবার ৩৩ হাজারের বেশি বাস এবং প্রায় ৫ হাজার ট্যাক্সি প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এসব যানবাহনের মাধ্যমে মক্কা, মদিনা, মিনা, আরাফাত ও মুজদালিফাসহ হজের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে হাজিদের নিরবচ্ছিন্ন যাতায়াত নিশ্চিত করা হবে। সৌদি কর্তৃপক্ষ বলছে, হজের সময় খুব অল্প সময়ের মধ্যে বিপুল সংখ্যক মানুষের চলাচল হওয়ায় পরিবহন ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। যানবাহনের ফিটনেস পরীক্ষা, চালকদের প্রশিক্ষণ, নির্ধারিত ভাড়া নিশ্চিত করা এবং যাত্রী নিরাপত্তা বজায় রাখতে কঠোর নজরদারি চালানো হবে। এছাড়া বাসগুলোর চলাচল আধুনিক জিপিএস প্রযুক্তির মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা হবে, যাতে কোথাও অতিরিক্ত চাপ বা যানজট তৈরি হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়। হজযাত্রীদের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে বিশেষ অপারেশন টিমও সার্বক্ষণিক কাজ করবে। সৌদি সরকার বলছে, শুধু পরিবহন নয়, পুরো হজ ব্যবস্থাপনাকে আরো আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে মক্কা ও পবিত্র স্থানগুলোতে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, নতুন মেট্রো ও বিমানবন্দর পরিকল্পনাসহ বড় বড় প্রকল্পও বাস্তবায়নের পথে রয়েছে। কর্তৃপক্ষের আশা, এসব সমন্বিত ব্যবস্থার ফলে এবার বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত হাজিরা আরো উন্নত, নিরাপদ ও আরামদায়ক পরিবহন সেবা পাবেন এবং পবিত্র হজ পালন হবে আরো সুশৃঙ্খল ও নির্বিঘ্ন।


কুয়েত

কুয়েতে নারী প্রতারক আটক, প্রতারিত বহু ট্যাক্সিচালক

কুয়েতে প্রবাসী ট্যাক্সিচালকদের টার্গেট করে অভিনব প্রতারণার ঘটনায় এক নারী প্রতারককে আটক করা হয়েছে। দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী জানিয়েছে, ওই অভিযুক্ত নারী যাত্রী ট্যাক্সিতে ওঠার পর চালকদের অজান্তেই তাদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করতেন এবং পরে সেই তথ্য ব্যবহার করে “মাই কুয়েত আইডি” অ্যাপের মাধ্যমে ভুয়া ডিজিটাল অ্যাকাউন্ট খুলে প্রতারণা চালাতেন। তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, ওই নারী প্রথমে ট্যাক্সির ভেতরে চালকের আসনের পেছনে ঝোলানো সিভিল আইডি ও অন্যান্য তথ্য দেখে নাম ও পরিচয় নম্বর সংগ্রহ করতেন। এরপর ভাড়া পরিশোধের অজুহাতে চালকদের “কুয়েত মোবাইল আইডি” অ্যাপ ব্যবহার করতে বলতেন এবং চালকদের অজান্তেই বিভিন্ন ডিজিটাল ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করতেন। পরে সেই তথ্য ব্যবহার করে অনলাইনে বিভিন্ন পণ্য কিনতেন যার বিল চলে যেত ট্যাক্সিচালকদের নামে। বহু প্রবাসী চালক অভিযোগ করেন, তারা হঠাৎ করেই বিভিন্ন কিস্তি কোম্পানি থেকে বকেয়া টাকার নোটিশ পেতে শুরু করেন, অথচ তারা নিজেরা কোনো পণ্য কেনেননি। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত নারী ইতোমধ্যে অন্তত ৭০টি প্রতারণার ঘটনা স্বীকার করেছেন। তদন্তে জানা গেছে, অভিযুক্ত নারী নিজেকে ভদ্র ও পরিচ্ছন্নভাবে উপস্থাপন করতেন এবং অনেক সময় বলতেন তার মোবাইলের চার্জ শেষ হয়ে গেছে, তাই চালকদের সাহায্য দরকার। এই সুযোগেই তিনি প্রতারণার ফাঁদ পেতে ড্রাইভারদের ঠকাতেন। কুয়েতের নিরাপত্তা বাহিনী বলছে, যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য ট্যাক্সিতে চালকদের পরিচয় তথ্য প্রদর্শনের নিয়ম থাকলেও সেটিই এখন অপরাধীরা অপব্যবহার করছে। ঘটনার পর দেশটিতে ডিজিটাল নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কর্তৃপক্ষ সবাইকে সতর্ক থাকার এবং কোনো ধরনের ডিজিটাল ভেরিফিকেশন বা ওটিপি অন্যের হাতে না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।


ওমান

ওমানে চার প্রবাসী ভাইয়ের মৃত্যুর কারণ জানাল পুলিশ

ওমানে গাড়ির ভেতরে মৃত অবস্থায় পাওয়া চার বাংলাদেশির মৃত্যুর কারণ নিয়ে অবশেষে বিস্তারিত তথ্য জানিয়েছে রয়্যাল ওমান পুলিশ। পুলিশ বলছে, চলন্ত অবস্থায় থাকা গাড়ির এক্সস্ট থেকে বের হওয়া কার্বন মনোক্সাইড গ্যাস শ্বাসের সঙ্গে শরীরে প্রবেশ করায় তাদের মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলেন মোহাম্মদ রাশেদ, মোহাম্মদ শাহেদ, মোহাম্মদ সিরাজ ও মোহাম্মদ শহিদ। নিহত চারজনই চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার একই পরিবারের সদস্য এবং তারা দীর্ঘদিন ধরে ওমানে প্রবাসী হিসেবে বসবাস করছিলেন।

জানা গেছে, ঘটনার দিন তারা একসঙ্গে কেনাকাটার জন্য বের হয়েছিলেন। তাদের মধ্যে দুজনের খুব শিগগিরই দেশে ফেরার কথা ছিল। পরে ওমানের আল মাসনাহ এলাকায় একটি গাড়ির ভেতরে তাদের অচেতন অবস্থায় দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গাড়ির দরজা খুলে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিকভাবে গাড়ির ভেতরে বিষাক্ত গ্যাস জমে থাকার আশঙ্কা করা হলেও পরে তদন্ত ও ময়নাতদন্ত শেষে রয়্যাল ওমান পুলিশ নিশ্চিত করে, গাড়ির ইঞ্জিন চালু থাকা অবস্থায় নির্গত কার্বন মনোক্সাইড গ্যাসের কারণেই এই মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় তাদের পরিবার ও এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই সঙ্গে ওমান পুলিশ সবাইকে সতর্ক করে বলেছে, গাড়ির ইঞ্জিন চালু রেখে কখনো ঘুমানো বা দীর্ঘ সময় বন্ধ জায়গায় অবস্থান করা উচিত নয়। কারণ এতে বিষাক্ত গ্যাস জমে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

Logo