মধ্যপ্রাচ্যের নিউজ আপডেট ১১ মে ২০২৬
বাহরাইনে ট্রাফিক নজরদারি জোরদার
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ মে ২০২৬, ২১:১৩
বাহরাইন
বাহরাইনে ট্রাফিক নজরদারি জোরদার
বাহরাইনে সড়ক দুর্ঘটনা ও ট্রাফিক আইন ভঙ্গের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় উদ্বিগ্ন দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তাই দেশজুড়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম ও আইন প্রয়োগ জোরদার করে ও কঠোর নজরদারি বাড়িয়েছে দেশটির ট্রাফিক বিভাগ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বাহরাইনের জেনারেল ডিরেক্টরেট অব ট্রাফিক জানিয়েছে, গত এক মাসে দেশটিতে ১০টির বেশি বড় সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে এবং শুধু গত সপ্তাহেই আলাদা দুটি দুর্ঘটনায় দুই তরুণের মৃত্যু হয়েছে। ২০২৫ সালের হিসাব অনুযায়ী, বাহরাইনে ৯০০-র বেশি ট্রাফিক দুর্ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, অতিরিক্ত গতি, মোবাইল ফোন ব্যবহার করে গাড়ি চালানো, ট্রাফিক আইন না মানা এবং অসতর্ক ড্রাইভিংয়ের কারণেই বেশির ভাগ দুর্ঘটনা ঘটছে। এ কারণে চালকদের সিটবেল্ট ব্যবহার, ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে চলা, গাড়ির নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ব্যবহার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে পথচারীদের, বিশেষ করে শিশুদের নিরাপদে রাস্তা পারাপারের বিষয়েও সচেতন করা হচ্ছে। এদিকে দেশটিতে নতুন স্মার্ট ক্যামেরা সিস্টেম চালু করা হয়েছে, যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে গতিসীমা লঙ্ঘন, সিটবেল্ট না পরা, মোবাইল ব্যবহার ও সিগন্যাল ভঙ্গের মতো অপরাধ শনাক্ত করতে সক্ষম। এছাড়া কঠোর নতুন ট্রাফিক আইনের আওতায় বেপরোয়া গাড়ি চালানো, মাতাল অবস্থায় ড্রাইভিং ও লালবাতি অমান্যের মতো গুরুতর অপরাধে বড় অঙ্কের জরিমানা ও কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
কুয়েত
কুয়েত থেকে ১৭ কোটি ৩৩ লক্ষ টাকা পাচারের অভিযোগে এক ভারতীয় বিচারের মুখোমুখি
কু্য়েতের নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ আমিরাত সরকারের সহায়তায় মদ ও অর্থ পাচারের সাথে যুক্ত একজন ভারতীয় অভিবাসীকে আটক করেছে। কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে চলা আন্তর্জাতিক নজরদারি ও ইন্টারপোলের সহায়তায় অভিযুক্ত ভারতীয়কে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আটক করে কুয়েতে ফিরিয়ে আনা হয়। তদন্তে উঠে এসেছে, ওই ব্যক্তি কুয়েতে অবৈধভাবে মদ বিক্রি ও পাচারের একটি বড় চক্র পরিচালনা করত এবং সেই অবৈধ আয়ের টাকা জটিল আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হতো। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই চক্রটি ১৫৭ জন এশীয় নাগরিককে ব্যবহার করে ১৩টি অনুমোদিত মানি এক্সচেঞ্জ কোম্পানির মাধ্যমে মোট ২৫৪টি অবৈধ আর্থিক লেনদেন সম্পন্ন করে। এসব লেনদেনের মোট পরিমাণ ছিল প্রায় ৪ লাখ ৩৩ হাজার ৭০০ কুয়েতি দিনার। তদন্ত কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সন্দেহ এড়াতে অর্থগুলো ছোট ছোট অংশে ভাগ করে পারিবারিক খরচ দেখিয়ে বিদেশে পাঠানো হতো, যাতে প্রকৃত উৎস গোপন রাখা যায়। কুয়েতের আদালত ইতোমধ্যে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে অর্থ পাচারের মামলায় ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে অবৈধ কার্যক্রম থেকে অর্জিত সব সম্পদ ও অর্থ জব্দের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং সাজা শেষে তাকে দেশ থেকে বহিষ্কারের আদেশও রয়েছে।
সৌদি আরব
সৌদিতে যুদ্ধের প্রভাবে কমে গেছে শিল্প উৎপাদন
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে সৌদি আরবের শিল্প খাতে। উৎপাদন কমে যাওয়ার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। মার্চ মাসে দেশটির ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্রোডাকসন ইনডেক্স শিল্প উৎপাদন প্রায় ১৪.১ শতাংশ কমে গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই নিম্নমুখীতার প্রধান কারণ হিসেবে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলেছে তেলের উৎপাদন কমে যাওয়া, যা সৌদি অর্থনীতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশটির তেল ও খনিজ খাত অর্থাৎ ক্রুড অয়েল এবং প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদন কমে যাওয়ার প্রভাব পড়েছে প্রোডাকসন ইনডেক্সে। সৌদি আরবের শিল্প উৎপাদনের একটি বড় অংশই সরাসরি তেল খাতের ওপর নির্ভরশীল, তাই সেখানে কোনো পরিবর্তন হলে তা পুরো অর্থনীতিতে দ্রুত প্রভাব ফেলে। এই পতনের ফলে শুধু জ্বালানি খাতই নয়, সামগ্রিক শিল্প কার্যক্রমেও চাপ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মাইনিং ও কোয়ারিং সেক্টরের দুর্বল পারফরম্যান্স এই অবনতিকে আরো গভীর করেছে।অর্থনীতিবিদদের মতে, বৈশ্বিক তেলের দামের ওঠানামা, আঞ্চলিক অস্থিরতা এবং সরবরাহ ব্যবস্থার চাপ এই অবস্থার পেছনেও বড় ভূমিকা রেখেছে। তবে একই সঙ্গে সৌদি সরকার দীর্ঘদিন ধরেই ভিশন ২০৩০-এর মাধ্যমে তেলনির্ভরতা কমিয়ে শিল্প ও নন-অয়েল খাতকে শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের পতন সাময়িক হলেও এটি সৌদি অর্থনীতির জন্য একটি সতর্ক সংকেত, কারণ বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতেও শিল্প উৎপাদনে ওঠানামা দেখা যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত
আবুধাবিতে জরুরি সেবার গাড়িকে পথ না দিলে জরিমানা
আবুধাবিতে কেউ যদি অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিসের গাড়িকে রাস্তা না দেয়, তাহলে তাকে ৩ হাজার দিরহাম জরিমানা দিতে হবে, সেই সাথে চালকের গাড়ি জব্দও হতে পারে ৩০ দিনের জন্য। শুধু তাই নয়, লাইসেন্স থেকে বাদ যাবে ৬টি পয়েন্ট। একই সাথে আবুধাবিতে এখন থেকে সরাসরি অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার ট্রাক আর রেসকিউ গাড়ির মতো জরুরি সেবার গাড়িগুলোতে অত্যাধুনিক স্মার্ট ক্যামেরা বসানো হয়েছে। এই স্মার্ট ক্যামেরা রাস্তায় এমন সব চালকদের শনাক্ত করবে, যারা ইমারজেন্সি গাড়িকে পথ না দিয়ে বাধা সৃষ্টি করে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে শুধু ভিডিও রেকর্ডই করা হবে না, বরং সেই ফুটেজ সরাসরি অপারেশন সেন্টারে পাঠানো হবে, যাতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়। কর্তৃপক্ষের দাবি, অনেক সময় কয়েক সেকেন্ড দেরির কারণেই জীবন বাঁচানো সম্ভব হয় না। তাই জরুরি সেবার গাড়িগুলো যাতে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারে, সে জন্য এই স্মার্ট সিস্টেম চালু করা হয়েছে। নতুন ক্যামেরাগুলো ট্রাফিক জ্যাম, রাস্তার বাধা এবং বিকল্প রুটও শনাক্ত করতে পারবে। এমনকি প্রয়োজনে ট্রাফিক অপারেশন রুম থেকে জরুরি লেনও খুলে দেওয়া হবে। বর্তমানে আবুধাবি পুলিশ, স্বাস্থ্য বিভাগ এবং ইন্টিগ্রেটেড ট্রান্সপোর্ট সেন্টারের সহযোগিতায় একটি বিশেষ সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইনও চালানো হচ্ছে, যেখানে চালকদের শেখানো হচ্ছে কীভাবে জরুরি গাড়িকে দ্রুত রাস্তা ছেড়ে দিতে হবে। আরো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে জরুরি গাড়িকে পথ দিতে গিয়ে প্রয়োজনে চালকরা সতর্কভাবে লাল সিগন্যাল অতিক্রম করতেও পারবেন, তবে সেটি অবশ্যই জননিরাপত্তা নিশ্চিত করে করতে হবে।
logo-1-1740906910.png)