মধ্যপ্রাচ্যে মুখোমুখি সৌদি-আমিরাত, বাড়ছে উত্তেজনা
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ মে ২০২৬, ০৮:৪২
মধ্যপ্রাচ্যে শক্তির ভারসাম্য বদলে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ঘনিষ্ঠ কৌশলগত অংশীদার হিসেবে পরিচিত সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) এখন মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়েছে। তেল উৎপাদন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক প্রভাব বিস্তারে দুই দেশই নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।
সম্প্রতি ইউএই ওপেকের সদস্যপদ ত্যাগের ঘোষণা দিয়েছে। এই সিদ্ধান্ত শুধু বৈশ্বিক তেল বাজারেই নয়, রাজনৈতিক অঙ্গনেও বড় ধরনের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি সৌদি-আমিরাত সম্পর্কের ভাঙনের সবচেয়ে স্পষ্ট ইঙ্গিত।
একসময় আরব বসন্ত-পরবর্তী অস্থিরতা মোকাবিলায় সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ও ইউএই নেতা শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদকে ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে দেখা হতো। ইয়েমেনে হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান, কাতারের বিরুদ্ধে অবরোধ এবং ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ অবস্থানে তারা একসঙ্গে কাজ করেছিলেন। কিন্তু বর্তমানে সেই সম্পর্ক প্রতিযোগিতা ও বিরোধে রূপ নিয়েছে।
অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও দ্বন্দ্ব স্পষ্ট। দীর্ঘদিন দুবাই ছিল মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান আর্থিক ও লজিস্টিক কেন্দ্র। কিন্তু সৌদি আরব এখন নিজেদেরকে ব্যবসা ও পর্যটনের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে ব্যাপক পরিকল্পনা নিয়েছে। আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোকে রিয়াদে আঞ্চলিক সদর দফতর স্থাপনের বাধ্যবাধকতা দেওয়ার পর শত শত প্রতিষ্ঠান সেখানে অফিস খুলেছে। এতে ইউএই মনে করছে, সৌদি আরব সরাসরি তাদের অর্থনৈতিক অঞ্চলে প্রবেশ করছে।
এভাবে আঞ্চলিক যুদ্ধ, জ্বালানি নীতি ও বৈশ্বিক বিনিয়োগ প্রতিযোগিতায় দুই দেশই এখন বিপরীত অবস্থানে দাঁড়িয়ে গেছে। একসময় মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার মূল ভিত্তি হিসেবে দেখা হতো সৌদি-আমিরাত সম্পর্ককে, কিন্তু আজ সেটি নীরব প্রতিযোগিতার ময়দানে পরিণত হয়েছে।
logo-1-1740906910.png)