সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি প্রায় ১৫ হাজার পাকিস্তানি শ্রমিককে আটক ও দেশান্তর করেছে। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিয়া মুসলিম রয়েছেন। নিউ লাইনস ম্যাগাজিনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ছাড়াই তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরে পাকিস্তানে ফেরত পাঠানো হয়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আটক শ্রমিকদের মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়, তাঁদের বিভিন্ন আটককেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয় এবং শেষ পর্যন্ত বিশেষ ফ্লাইটে পাকিস্তানে পাঠানো হয়। এক শিয়া ধর্মীয় নেতার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, শ্রমিকদের দেশে ফেরত পাঠানোর আগে তাঁদের ব্যাংক হিসাব থেকে অর্থ উত্তোলনের সুযোগ দেওয়া হয়নি। ফলে বহু বছরের সঞ্চিত অর্থ ইউএই-তেই থেকে গেছে।
অনেক শ্রমিক দীর্ঘদিন ধরে ইউএই-তে কাজ করছিলেন। তাঁদের পাঠানো রেমিট্যান্স পাকিস্তানের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরিবারগুলোর জীবিকা নির্বাহ এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে এ অর্থ বড় ভূমিকা রাখে। কিন্তু হঠাৎ করে এভাবে বিপুল সংখ্যক শ্রমিককে ফেরত পাঠানোয় তাঁদের পরিবারগুলো মারাত্মক সংকটে পড়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এ ধরনের পদক্ষেপ শুধু শ্রমিকদের জীবনে নয়, পাকিস্তানের অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। কারণ প্রবাসী আয় পাকিস্তানের বৈদেশিক মুদ্রার অন্যতম প্রধান উৎস। শ্রমিকদের সঞ্চিত অর্থ বাজেয়াপ্ত হওয়ায় তাঁদের পরিবারগুলো আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
মানবাধিকারকর্মীরা এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে, কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ছাড়াই শ্রমিকদের আটক ও দেশান্তর আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তাঁরা বলছেন, শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার ও সঞ্চিত অর্থ ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করা উচিত।
ইউএই থেকে ১৫ হাজার পাকিস্তানি শ্রমিককে ফেরত পাঠানোর ঘটনা শুধু একটি দেশের শ্রমবাজার নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ার প্রবাসী শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে। প্রবাসী আয় নির্ভরশীল পরিবারগুলো এখন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
logo-1-1740906910.png)