Logo
×

Follow Us

মধ্যপ্রাচ্য

সেবার মান উন্নত করল ওমানের বাংলাদেশ দূতাবাস

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৪ মে ২০২৬, ০৮:৫৮

সেবার মান উন্নত করল ওমানের বাংলাদেশ দূতাবাস

মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজারে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দেশ ওমান। সেখানে কয়েক লাখ প্রবাসী বাংলাদেশির প্রধান ভরসাস্থল মাসকাটে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস। দীর্ঘদিন ধরে এই দূতাবাসে সেবা নিতে গিয়ে ধীরগতি, বিশৃঙ্খলা এবং দালালদের দৌরাত্ম্যের অভিযোগ ছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে প্রশাসনিক সংস্কারের মাধ্যমে ইতিবাচক পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরের প্রতিবেদন বলছে, প্রবাসীদের অভিযোগ ছিল, পাসপোর্ট নবায়ন বা কনস্যুলার সেবা নিতে গিয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয় এবং দালালদের হস্তক্ষেপে হয়রানির শিকার হতে হয়। কিন্তু বর্তমান রাষ্ট্রদূত খন্দকার মিসবাহ উল আজিম দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে সেবা প্রদানের পদ্ধতিতে পরিবর্তন এসেছে। বিশেষ করে অ্যাপয়েন্টমেন্ট বা নির্ধারিত সময়সূচি অনুসরণ করায় দূতাবাস প্রাঙ্গণে আগের মতো জটলা ও বিশৃঙ্খলা অনেকটাই কমেছে।

প্রবাসীরা বলছেন, নতুন ব্যবস্থায় হয়রানির সুযোগ কমেছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মোহাম্মদ ইকবাল জানান, আগে দূতাবাসে গিয়ে কাজের নিশ্চয়তা পাওয়া কঠিন ছিল, এখন নির্দিষ্ট সময়ে সেবা পাওয়া যাচ্ছে। চাঁদপুরের মো. মুজিবুর রহমানের মতে, সময়ের অপচয় কম হওয়াটাই একজন শ্রমিকের জন্য সবচেয়ে বড় স্বস্তি।

পেশাজীবী ও ব্যবসায়ী সমাজও এই পরিবর্তনকে ইতিবাচকভাবে দেখছে। প্রকৌশলী সাইদুল ইসলাম ও চট্টগ্রামের মো. নাজিম মনে করেন, দূতাবাসকে দালালমুক্ত করা এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা একটি চলমান প্রক্রিয়া হওয়া উচিত। তাদের মতে, বর্তমান প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের কারণে প্রবাসীরা এখন সরাসরি কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছাতে পারছেন।

দূতাবাসের শ্রম কাউন্সেলর রাফিউল ইসলাম বলেন, প্রবাসী কর্মীদের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ফলে সেবার মান বেড়েছে এবং প্রবাসীদের আস্থাও ফিরেছে। লক্ষ্য হলো প্রতিটি আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি করা।

রাষ্ট্রদূত খন্দকার মিসবাহ উল আজিম জানান, দূতাবাসকে প্রবাসীবান্ধব প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করতে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি ও পেশাদারিত্বের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। দালালের প্রভাবমুক্ত রেখে সরাসরি সেবা প্রদান নিশ্চিত করাই তার অগ্রাধিকার।

প্রবাসীরা মনে করছেন, জনবল সংকট ও প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও যেভাবে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা প্রশংসনীয়। তবে এই ধারা অব্যাহত রাখতে তদারকি ব্যবস্থা আরো জোরদার করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

Logo