Logo
×

Follow Us

মধ্যপ্রাচ্য

শারজায় স্বাধীনতা কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট সমাপ্ত, চ্যাম্পিয়ন চট্টগ্রাম এফসি

শারজায় স্বাধীনতা কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট সমাপ্ত, চ্যাম্পিয়ন চট্টগ্রাম এফসি

সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহতে দুই মাসব্যাপী ১২টি দল নিয়ে অনুষ্ঠিত মহান স্বাধীনতা গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের বর্ণাঢ্য সমাপ্তি হয়েছে। ৩০ এপ্রিল বৃহস্পতিবার শারজাহ ইউজড অটো স্পেয়ার পার্টস অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতার ফাইনাল ম্যাচে সিলেট এফসিকে ২-১ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে চট্টগ্রাম এফসি ফুটবল ক্লাব।

অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই ম্যাচে উভয় দল দারুণ নৈপুণ্য প্রদর্শন করলেও শেষ পর্যন্ত জয় তুলে নেয় চট্টগ্রাম এফসি। দুই দেশের জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে খেলার উদ্বোধন করেন সংগঠনের সভাপতি শাহাদাত হোসেন। কামাল হোসেন সুমন এবং প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর রুপুর যৌথ সঞ্চালনায় এবং উদযাপন কমিটির সভাপতি আব্দুল মান্নানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল দুবাইর কমার্শিয়াল কাউন্সিলর আশীষ কুমার সরকার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সমিতি আবুধাবির সভাপতি প্রকৌশলী মোয়াজ্জেম হোসেন, প্রকৌশলী মো. সালাউদ্দিন, আব্দুল কুদ্দুস, আলহাজ ইয়াকুব সৈনিক, হাজী শরাফত আলী, হাবিবুর রহমান, হুমায়ুন কবির, মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম তালুকদার, মুবিনুল ইসলাম, প্রকৌশলী করিমুল হক, মোস্তফা মাহমুদ, নওয়াব সিরাজ, সালেহ আহমেদ সিআইপি, বদরুল ইসলাম চৌধুরী, মোহাম্মদ রফিক, আব্দুল কুদ্দুস মজনু, হাজী সেলিম, আমিনুল হক, মোহাম্মদ শাহজাহান, মো. ইমরান, মোহাম্মদ এনাম, মাহবুবুল আলম, মোস্তাফিজুর রহমান, রফিক চেয়ারম্যান, মোহাম্মদ মামুন, মুজিবুল হক মনজু, সাইফুল ইসলাম তালুকদার, শিবলী আল সাদিক, মোহাম্মদ জাসেদসহ কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, এই ধরনের ক্রীড়া আয়োজন প্রবাসীদের মধ্যে সামাজিক বন্ধন সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ব্যস্ততা ও অনিশ্চয়তার জীবনে এ ধরনের আয়োজন প্রবাসীদের মানসিক প্রশান্তি এনে দেয় এবং একে অপরের সঙ্গে সম্পর্ক আরো দৃঢ় করে।

বিশেষ অতিথি প্রকৌশলী মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, প্রবাস জীবনে পরিবার থেকে দূরে থাকা মানুষদের জন্য এই ধরনের মিলনমেলা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকবে বলে আমি আশাবাদী।

টুর্নামেন্টের অন্যতম আয়োজক মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন বলেন, আমি একজন বাংলাদেশি হিসেবে বাংলাদেশকে ভালোবাসি এবং দেশের স্বাধীনতাকে সম্মান করি। আমরা চাই সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশ সম্মানের স্থানে থাকুক। প্রবাসে অবস্থানরত যুব সমাজ যেন খেলাধুলার মাধ্যমে শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ থাকে এবং নেশামুক্ত জীবনে ফিরে আসে এটাই আমাদের লক্ষ্য। তারা খেলাধুলার পাশাপাশি দেশের সম্মান বৃদ্ধিতেও ভূমিকা রাখবে।

তিনি আরো বলেন, আমরা চাই প্রবাসীরা আইন-কানুনের প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান দেখাক এবং সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের ভাবমূর্তি উন্নয়নে কাজ করুক। শারজায় যুব সমাজের অনুরোধেই আমরা এই টুর্নামেন্ট আয়োজন করেছি এবং প্রথম পুরস্কার হিসেবে একটি মার্সিডিজ বেঞ্জ গাড়ি প্রদান করেছি। আগামী বছরও আরো বড় পরিসরে এই আয়োজন করার পরিকল্পনা রয়েছে।

চ্যাম্পিয়ন দল ট্রফির পাশাপাশি আকর্ষণীয় পুরস্কার হিসেবে একটি মার্সিডিজ বেঞ্জ গাড়ি লাভ করে, যা টুর্নামেন্টকে আরো বিশেষ মাত্রা দেয়। রানার্সআপ দল সিলেট এফসি ট্রফি ও নগদ অর্থ পুরস্কার অর্জন করে সম্মানিত হয়।

খেলায় ‘ম্যান অব দ্য ম্যাচ’ নির্বাচিত হন চট্টগ্রাম এফসির ৯ নম্বর জার্সিধারী ইমরান। টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় হন এহসান, সেরা গোলকিপার কাশেম এবং সর্বোচ্চ গোলদাতা হন সিলেট এফসির অজয়।

মাঝরাত পর্যন্ত চলা খেলার পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। এই খেলায় দর্শকদের উপস্থিতি ছিল কানায় কানায় পূর্ণ।  বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি পরিবারসহ উপস্থিত হয়ে খেলা উপভোগ করেন। উত্তেজনা, প্রতিযোগিতা ও সৌহার্দ্যের এক অনন্য সমন্বয়ে শেষ হয় এই মাসব্যাপী আয়োজন।

প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে ঐক্য, সম্প্রীতি এবং সুস্থ বিনোদনের বার্তা ছড়িয়ে দিয়ে মহান স্বাধীনতা কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট হয়ে উঠেছে এক স্মরণীয় আয়োজন।

Logo