মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের অভিঘাত সরাসরি অনুভব করছে উপসাগরীয় অর্থনীতি। ইরানের হামলা ও হরমুজ প্রণালীতে অবরোধের কারণে রপ্তানি, পর্যটন ও আর্থিক খাত চাপে পড়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ছোট ও মাঝারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং তাদের কর্মীরা। এই সংকট মোকাবিলায় বাহরাইন সরকার বেসরকারি খাতের কর্মীদের পাশে দাঁড়িয়েছে।
আরব নিউজে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, এপ্রিল মাসে বেকারত্ব তহবিল থেকে বেতন প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির সরকার। ক্রাউন প্রিন্স ও প্রধানমন্ত্রী সালমান বিন হামাদ আল-খলিফা ১৩ এপ্রিল এ সংক্রান্ত খসড়া আইন অনুমোদনের নির্দেশ দেন। এর ফলে বীমাকৃত বাহরাইনি কর্মীরা এপ্রিল মাসের বেতন পাবেন সরাসরি বেকারত্ব তহবিল থেকে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এই পদক্ষেপ শুধু ছাঁটাইয়ের পর ক্ষতিপূরণ নয়, বরং ছাঁটাই ঠেকানোর জন্য নেওয়া হয়েছে। রিয়াদভিত্তিক শ্রম অর্থনীতিবিদ মেহমেত আলি সোইতাস বলেন, “কর্মসংস্থান সম্পর্ক ভেঙে গেলে পুনর্নিয়োগের সম্ভাবনা কমে যায়। তাই আগেভাগে কর্মী-নিয়োগকর্তার সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা উত্তম।”
এমন উদ্যোগকে সক্রিয় শ্রমবাজার নীতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। এমইএনএ রিসার্চ পার্টনার্সের অ্যান্থনি হোবেইকা বলেন, “অস্থায়ীভাবে বেতন কভার করলে প্রতিষ্ঠানগুলো কিছুটা সময় পায় এবং তাৎক্ষণিক ছাঁটাই এড়ানো যায়।” তবে তিনি সতর্ক করে দেন, এ ধরনের পদক্ষেপ অবশ্যই সময়সীমাবদ্ধ ও লক্ষ্যভিত্তিক হতে হবে।
যুদ্ধের কারণে বাহরাইনের অর্থনীতি বড় ধাক্কা খেয়েছে। ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ইরানের হামলায় আবাসিক ভবন, হোটেল ও শিল্প স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অ্যালুমিনিয়াম বাহরাইন (আলবা) সরাসরি হামলার শিকার হয়। একই সময়ে হরমুজ প্রণালীতে ইরানের অবরোধে রপ্তানি ও পর্যটন খাত বিপর্যস্ত হয়।
তবে সংকট মোকাবিলায় সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক খুচরা ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে তিন মাসের জন্য ঋণ ও ক্রেডিট কার্ড কিস্তি স্থগিতের সুযোগ দিয়েছে। একই সঙ্গে ১৮.৬ বিলিয়ন ডলারের তারল্য সহায়তা ঘোষণা করা হয়েছে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, করোনা মহামারির সময় যেমন বেকারত্ব তহবিল ব্যবহার করে বেতন দেওয়া হয়েছিল, এবারো সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো হচ্ছে। সৌদি আরব, ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেকারত্ব সুরক্ষা ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করেছে।
আন্তর্জাতিক সহযোগিতাও বাড়ছে। ১৩ এপ্রিল সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল-নাহিয়ান বাহরাইন সফর করেন এবং পাঁচ বছরের মুদ্রা বিনিময় চুক্তি স্বাক্ষর করেন। এর মাধ্যমে ২০ বিলিয়ন দিরহাম সমপরিমাণ অর্থনৈতিক সহায়তা নিশ্চিত হয়।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বাহরাইন সীমিত আর্থিক সক্ষমতার দেশ হলেও কর্মসংস্থান রক্ষা ও বেসরকারি খাতকে টিকিয়ে রাখার জন্য নেওয়া পদক্ষেপগুলো কার্যকর হতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে যুদ্ধের প্রভাব কাটিয়ে উঠতে আরও কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন।
logo-1-1740906910.png)