রাষ্ট্রবিরোধী কাজে যুক্ত হলে নাগরিকত্ব বাতিল করবে বাহরাইন
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৩৮
বাহরাইন সরকার জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে। দেশটির রাজা হামাদ বিন ইসা আল-খলিফা ঘোষণা দিয়েছেন, রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে নাগরিকত্ব পুনর্বিবেচনা করা হবে।
সাম্প্রতিক সময়ে বাহরাইন কর্তৃপক্ষ ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-সংযুক্ত কয়েকটি সেল ভেঙে দিয়েছে। এসব সেলের সদস্যরা সংবেদনশীল স্থাপনা পর্যবেক্ষণ ও কৌশলগত তথ্য সংগ্রহে জড়িত ছিল বলে অভিযোগ। তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যারা লেবাননের হিজবুল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিল। তারা অস্ত্র প্রশিক্ষণ নিয়েছিল এবং ইরানের হামলার পর ছবি ও তথ্য সংগ্রহ করে বিদেশে পাঠাতো।
অন্যদিকে, আরো পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং একজন দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা গুপ্তচরবৃত্তি করে সংবেদনশীল তথ্য আইআরজিসিতে পাঠাতো এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও অবকাঠামোতে হামলার পরিকল্পনা করছিল।
রাজা হামাদ বলেছেন, রাষ্ট্র একটি “পবিত্র দায়িত্ব” যা কোনোভাবেই ক্ষুণ্ন করা যাবে না। তিনি ক্রাউন প্রিন্সকে নির্দেশ দিয়েছেন পরবর্তী ধাপের জাতীয় পদক্ষেপ তদারকির জন্য। এতে নিরাপত্তা কাঠামো ও অর্থনীতির দুর্বলতা মোকাবিলায় বিস্তৃত উদ্যোগ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
বাহরাইনে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মী কাজ করছেন, বিশেষ করে নির্মাণ, সেবা ও স্বাস্থ্য খাতে। নিরাপত্তা জোরদার হলে তাদের কর্মস্থল ও বসবাসের পরিবেশ আরো সুরক্ষিত হবে। একই সঙ্গে নাগরিকত্ব পুনর্বিবেচনার পদক্ষেপ প্রবাসীদের জন্য বার্তা বহন করছে যে, বৈধ কাগজপত্র ও আইন মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি।
বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা নীতি কঠোর হলে অবৈধভাবে অবস্থানকারীরা ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। তাই বৈধ ভিসা, কাজের অনুমতি ও নিয়মিত কাগজপত্র হালনাগাদ রাখা এখন আরো বেশি প্রয়োজন।
বাহরাইন সরকার বলছে, জাতীয় স্বার্থ ক্ষুণ্নকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এর ফলে প্রবাসী কর্মীদের জন্য একটি বার্তা স্পষ্ট হয়েছে, আইন মেনে চললে তাদের নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থান সুরক্ষিত থাকবে।
logo-1-1740906910.png)