Logo
×

Follow Us

মধ্যপ্রাচ্য

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে সংকটে শ্রমবাজার ও রেমিট্যান্স

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:১৯

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে সংকটে শ্রমবাজার ও রেমিট্যান্স

দেশের মোট রেমিট্যান্সের প্রায় অর্ধেক আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। এক কোটি অভিবাসীর মধ্যে প্রায় ৬০ লাখই এই অঞ্চলে কর্মরত। চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও মার্চ মাসে ইতিহাসের সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছে, ৩৭৫ কোটি ডলারের বেশি। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এখনো যুদ্ধের প্রভাব রেমিট্যান্সে পড়েনি। তবে সংঘাত দীর্ঘ হলে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ইন্ডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের সাথে সাক্ষাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র শাহরিয়ার সিদ্দিকী বলেন, স্বল্প মেয়াদে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়তে পারে। কিন্তু যুদ্ধ দীর্ঘ হলে প্রবাসীদের ফিরতে হতে পারে বা নতুন করে বিদেশে পাঠানো সম্ভব নাও হতে পারে। শ্রমবাজারে বৈচিত্র্য আনতে না পারলে রেমিট্যান্স কমে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

অর্থনীতি বিশ্লেষক মাজেদুল হক মনে করেন, মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক শ্রমবাজারের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা বাংলাদেশের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে। তিনি বলেন, এখনই ইউরোপ, দক্ষিণ আফ্রিকা, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানভিত্তিক নতুন শ্রমবাজার তৈরি করতে হবে। এতে দীর্ঘমেয়াদে রেমিট্যান্স প্রবাহ স্থিতিশীল থাকবে এবং দেশের অর্থনীতি নিরাপদ থাকবে।

গত অর্থবছরে দেশে এসেছে ৩০.৩২ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স। চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে এসেছে ২৬ বিলিয়ন ডলার। অর্থবছর শেষে তা ৩৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে যুদ্ধ দীর্ঘ হলে এই প্রবাহে বড় ধাক্কা লাগতে পারে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, চলমান সংকটে অনেক প্রবাসী ভবিষ্যৎ সুরক্ষার কথা চিন্তা করে বেশি রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে এ প্রবাহ কমে গেলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে চাপ পড়বে। একই সঙ্গে শ্রমবাজার সংকটে পড়বে এবং অভিবাসন খাত বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি বাংলাদেশের জন্য বড় ধরনের অর্থনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করছে। স্বল্প মেয়াদে রেমিট্যান্স বাড়লেও দীর্ঘমেয়াদে তা কমে যেতে পারে। তাই এখনই নতুন শ্রমবাজার খোঁজা এবং প্রবাসী কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়নে পদক্ষেপ নেওয়া অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।

Logo