কেন ভেস্তে গেল ইরান-মার্কিন আলোচনা? এখন কী হবে মধ্যপ্রাচ্যে?
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ এপ্রিল ২০২৬, ২২:৩৬
অনেকেই ভেবেছিল ইরান-মার্কিন আলোচনা সমাধানের পথ দেখাবে। কিন্তু তেলে-জলে যেমন মেশে না, তেমনই ইরান ও আমেরিকার অবস্থানও এক হয়নি। ফলে যা হওয়ার তাই হয়েছে, ভেস্তে গেছে ইরান-আমেরিকার শান্তি আলোচনা। তবে প্রশ্ন থেকে যায়, ঠিক কী কারণে ভেস্তে গেল এই আলোচনা?
বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর বেরিয়েছে, পাকিস্তানে ইরান-আমেরিকার মধ্যে যখন আলোচনা চলছিল, তখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বারবার ফোন করছিলেন বৈঠকে থাকা ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে। ট্রাম্পের দেওয়া প্রস্তাবগুলোর বিষয়ে ইরানের অবস্থান কী, তা জানতে তিনি আগ্রহী ছিলেন।
আমেরিকার শর্ত মানতে না চাওয়ায় যে ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা ভেস্তে গেছে, তা একেবারে স্পষ্ট। তবে কোন কোন শর্তের কারণে এমনটি ঘটেছে, জেডি ভ্যান্সের কথায় তার আভাস পাওয়া যায়।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ইরান যেন পারমাণবিক বোমা তৈরি না করে- এমন নিশ্চয়তা চাইছিল মার্কিন পক্ষ। শর্ত ছিল, ইরান শুধু বোমা তৈরি করবে না, তাই নয়, বরং এ জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান বা যন্ত্রপাতিও নিজেদের কাছে রাখবে না। এ ধরনের একটি দীর্ঘমেয়াদি নিশ্চয়তা নিশ্চিত করতে চেয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু এতে রাজি হয়নি ইরান।
ইরানের বিদেশি ব্যাংকগুলোতে আটকে থাকা সম্পদ মুক্ত করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এমন কোনো পর্যায়ে পৌঁছানো যায়নি, যেখান থেকে বলা যায় যে কোনো সমঝোতা হয়েছে। পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ইরানের ১০টি শর্তের কিছু বিষয়ে নমনীয় ছিল যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু ইরান দাবি করেছে, আমেরিকার শর্তগুলো অযৌক্তিক ও অবাস্তব। ফলে ভেস্তে গেছে দুই দেশের শান্তি আলোচনা।
এখন প্রশ্ন, মধ্যপ্রাচ্যে কী হতে যাচ্ছে? আঞ্চলিক গণমাধ্যমগুলোর আশঙ্কা, ইরান-মার্কিন আলোচনায় দ্রুত কোনো ফল বেরিয়ে আসার সম্ভাবনা কম। ভবিষ্যতে আবার বৈঠক হতে পারে, তবে তা নিশ্চিত নয়। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা আরো বাড়তে পারে এবং পুরো অঞ্চল এগোতে পারে আরো অনিশ্চয়তা আর যুদ্ধ-সংঘাতের দিকে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কথাতেও সেই সুর। ১২ এপ্রিল তিনি ঘোষণা করেছেন, ওয়াশিংটন এখন আবার যুদ্ধের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত, সুবিধাজনক সময়ে ইরান শেষ করে দেবে মার্কিন বাহিনী।
logo-1-1740906910.png)