সাম্প্রতিক আঞ্চলিক সংকটের পর সংযুক্ত আরব আমিরাতের নাগরিক ও বাসিন্দাদের জাতীয় পতাকা উত্তোলনের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও দুবাইয়ের শাসক শেখ মোহাম্মদ বিন রাশিদ আল মাকতুম। তিনি পতাকাকে ঐক্য, শক্তি ও গৌরবের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করে প্রতিটি বাড়ি ও ভবনে তা উত্তোলনের আহ্বান জানান।
শেখ মোহাম্মদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, আমিরাত কঠিন সময় একসঙ্গে মোকাবিলা করেছে এবং আরো শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। পতাকা উত্তোলনকে তিনি জাতীয় সংহতি ও বিশ্বস্ততার প্রতীক হিসেবে বর্ণনা করেন।
গালফ নিউজের প্রতিবেদনে জানা যায়, আমিরাতের জাতীয় পতাকা প্রথম উত্তোলন করা হয় ১৯৭১ সালের ২ ডিসেম্বর, প্রতিষ্ঠাতা শেখ জায়েদ বিন সুলতান আল নাহইয়ানের নেতৃত্বে। পতাকাটি ডিজাইন করেছিলেন আবদুল্লাহ আল মাঈনা। এর চার রং লাল, সবুজ, সাদা ও কালো সাফি আল-দিন আল-হিল্লির কবিতা থেকে অনুপ্রাণিত। লাল সাহস ও ত্যাগ, সবুজ সমৃদ্ধি, সাদা শান্তি ও সততা এবং কালো শক্তি ও দৃঢ়তার প্রতীক।
ক্যাবিনেটের নির্দেশনা অনুযায়ী পতাকা সব সময় পরিষ্কার, ইস্ত্রি করা ও অক্ষত থাকতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত বা বিবর্ণ পতাকা সঙ্গে সঙ্গে বদলাতে হবে। ঝড় বা খারাপ আবহাওয়ার পর পতাকা পরীক্ষা করতে হবে। পুরনো পতাকা ভাঁজ করে সংরক্ষণ বা পুনর্ব্যবহার করতে হবে, তবে পোড়ানো যাবে না।
পতাকা কখনো মাটিতে ছোঁয়া যাবে না, ছিঁড়ে ফেলা বা অসম্মান করা যাবে না। অফিসে পতাকা ২.৫ মিটার উচ্চতায় রাখতে হবে। ভবনের সামনে ১x২ মিটার পতাকা ১০-১২ মিটার খুঁটিতে উত্তোলন করতে হবে। পতাকাদণ্ড অবশ্যই সাদা রঙের হতে হবে।
সমান সংখ্যক পতাকা থাকলে আমিরাতের পতাকা বাম পাশে থাকবে, আর বিজোড় সংখ্যায় মাঝখানে। জাহাজে চলার সময় পতাকা মাঝখানে এবং নোঙর করার সময় পেছনে থাকবে। জাতীয় অনুষ্ঠানে কেবল আমিরাতের পতাকা প্রদর্শন করা যাবে।
কফিনে ব্যবহারের সময় লাল অংশ উপরে রাখতে হবে। পতাকা ভাঁজ করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করতে হবে।
ফেডারেল ডিক্রি আইন অনুযায়ী জাতীয় পতাকা অসম্মান করলে ১০ থেকে ২৫ বছরের কারাদণ্ড এবং সর্বনিম্ন ৫ লাখ দিরহাম জরিমানা হতে পারে। পতাকা পরিবর্তন, আকার বিকৃতি, খাবার বা ডিসপোজেবল জিনিসে মুদ্রণ, কিংবা বিজ্ঞাপনে ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
logo-1-1740906910.png)