লেবানন যুদ্ধে সবচেয়ে বড় সংকটে অভিবাসী শ্রমিকরা
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ২২:২৬
ছবি - এআই দিয়ে বানানো
লেবাননের চলমান যুদ্ধের মধ্যে সবচেয়ে বিপদে পড়েছেন আফ্রিকান ও এশীয় অভিবাসী শ্রমিকরা। তারা ঘরবাড়ি হারিয়ে রাস্তায় বা অস্থায়ী আশ্রয়ে দিন কাটাচ্ছেন, অথচ দেশটির অর্থনীতির জন্য অপরিহার্য এই মানুষদের অধিকার প্রায় অস্বীকৃতই থেকে যাচ্ছে।
লেবাননে ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাতে প্রায় দেড় মিলিয়ন মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে অবহেলিত অবস্থায় রয়েছেন আফ্রিকান ও এশীয় নারী শ্রমিকরা। তারা গৃহকর্মী ও সেবা খাতে কাজ করে লেবাননের দৈনন্দিন জীবন চালিয়ে নিচ্ছেন, কিন্তু যুদ্ধ ও প্রাতিষ্ঠানিক অবহেলার কারণে নিজেদের জীবন রক্ষায় সংগ্রাম করছেন।
বেইরুটের সেন্ট জোসেফ চার্চে আশ্রয় নিয়েছেন ইয়েমেনি শরণার্থী মোহাম্মদ আব্বাস। মাত্র ১৯ বছর বয়সী এই তরুণ জানান, তিনি পড়াশোনা শেষ করে অন্য দেশে যেতে চেয়েছিলেন, কিন্তু এখন ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। তার বন্ধু মুস্তাফা পগবা, জন্মসূত্রে বেইরুটের বাসিন্দা হলেও কোনো কাগজপত্র নেই। তার মা একজন সুদানি গৃহকর্মী, যিনি কফালা সিস্টেমে নিয়োজিত। বোমা হামলায় তারা ঘর হারিয়ে চার্চে আশ্রয় নিয়েছেন।
বেইরুট থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে মাউন্ট লেবাননের ঘোস্তায় একটি পুরনো কনভেন্টে শতাধিক আফ্রিকান অভিবাসী আশ্রয় নিয়েছেন। সুদানি নারী নাজলা ইব্রাহিম পাঁচ সন্তান নিয়ে এখানে রয়েছেন। রেড ক্রস তাদের বেইরুটে নিয়ে আসে, কিন্তু কয়েক দিন রাস্তায় কাটানোর পর স্বেচ্ছাসেবীরা কনভেন্টে আশ্রয় দেন।
শ্রীলঙ্কার ইন্দ্রানি মানিকে দুই দশক ধরে লেবাননে কাজ করছেন। যুদ্ধ শুরু হলে তিনি মাত্র ১০০ ডলার দিয়ে ট্যাক্সি ভাড়া করে পালিয়ে আসেন। এখন নিরাপদ হলেও ভবিষ্যৎ নিয়ে তার উদ্বেগ কাটছে না।
উত্তর বেইরুটের জদেইদেহ এলাকায় নাইজেরিয়ান নারী স্কলার নিজের বাসা খুলে দিয়েছেন বাস্তুচ্যুত অভিবাসীদের জন্য। তিনি ও অন্যান্য নারী খাবার রান্না করে বিতরণ করছেন। অনেক গর্ভবতী নারী ও শিশু এখানে আশ্রয় পেয়েছেন। তাদের গান ও খাবার ভাগাভাগি করার মাধ্যমে কিছুটা স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।
ইনসাফ নামের একটি এনজিও অভিবাসী গৃহকর্মীদের অধিকার রক্ষায় কাজ করছে। তারা জরুরি সহায়তা বিতরণ করছে এবং কমিউনিটি নেতাদের সঙ্গে সমন্বয় করছে। চার্চগুলোতে অস্থায়ী আশ্রয়, মানসিক সহায়তা ও খাবার দেওয়া হচ্ছে।
logo-1-1740906910.png)