Logo
×

Follow Us

মধ্যপ্রাচ্য

তুরস্কে ভুয়া রেসিডেন্সি চক্র আটক

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ২২:২৪

তুরস্কে ভুয়া রেসিডেন্সি চক্র আটক

ছবি - এআই দিয়ে বানানো

তুরস্কে ভুয়া রেসিডেন্সি পারমিট জালিয়াতির ঘটনায় বড় ধরনের অভিযান চালিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। স্থানীয় গণমাধ্যম তুর্কি টুডের খবরে জানা গেছে, ৬ এপ্রিল ইস্তাম্বুলে পরিচালিত অভিযানে ৫১ জনকে আটক করা হয়েছে। এরা একটি বিশাল নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত ছিল, যারা ভুয়া নথি ব্যবহার করে বিদেশিদের জন্য ৪৪১টি রেসিডেন্সি পারমিট সংগ্রহ করেছিল।  

তবে এই অভিযান শুধু কয়েকজনকে আটক করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তুরস্কে অভিবাসন পরামর্শকতার ছায়া অর্থনীতির গভীর সমস্যাকে সামনে নিয়ে এসেছে। অনেক বিদেশি নাগরিক নিজের অজান্তেই এসব প্রতারণার শিকার হচ্ছেন।  

আটক হওয়া ব্যক্তিদের বেশির ভাগই বিদেশি নাগরিক, যারা তথাকথিত অভিবাসন পরামর্শক প্রতিষ্ঠান চালাতেন। এসব প্রতিষ্ঠান অনেক সময় কাগজে-কলমে থাকলেও বাস্তবে কোনো অফিস বা ট্যাক্স রেজিস্ট্রেশন থাকে না। তারা ভুয়া কোম্পানি খুলে কাজ চালায় এবং তদন্ত শুরু হলে দ্রুত কোম্পানি বন্ধ করে নতুন নামে আবার নিবন্ধন করে প্রতারণা চালিয়ে যায়।  

এতে আবেদনকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য যেমন পাসপোর্ট, রেসিডেন্স কার্ড, ঠিকানা ও ট্যাক্স নম্বর ঝুঁকির মুখে পড়ে। অনেক প্রবাসী ভয় বা অজ্ঞতার কারণে আইনি পদক্ষেপ নিতে সাহস পান না, ফলে প্রতারকরা লাভবান হতে থাকে।  

সবচেয়ে সাধারণ প্রতারণার মধ্যে রয়েছে নোটারি করা স্পন্সরশিপ আন্ডারটেকিং। এতে বিদেশি নাগরিক এমন ঠিকানায় নিবন্ধিত হন, যেখানে তারা বাস্তবে থাকেন না। নোটারি খরচ প্রায় ২ হাজার লিরা হলেও মধ্যস্থতাকারীরা ১০ হাজার থেকে ২০ হাজার লিরা পর্যন্ত আদায় করে। একই ঠিকানায় ডজনখানেক নিবন্ধন হলে আবেদন বাতিল হয় এবং অনেককে দেশ ছাড়তে হয়।  

অন্যদিকে ভুয়া ওয়ার্ক পারমিটও বড় ঝুঁকি তৈরি করছে। এসব স্কিমে বিদেশিদের নাম কোনো কোম্পানির কর্মী হিসেবে দেখানো হয়, অথচ তারা সেখানে কাজ করেন না। খরচ হয় ৩ হাজার থেকে ৫ হাজার ডলার। কর্তৃপক্ষ যদি ভুয়া কর্মসংস্থান ধরে ফেলে, তবে পাঁচ বছর পর্যন্ত বহিষ্কার হতে পারে।  

এছাড়া বিদেশি নাগরিকদের দ্বারা পরিচালিত তথাকথিত “আইনজীবী” সেবাও অবৈধ। তুরস্কের আইন অনুযায়ী কেবল তুর্কি নাগরিকরাই আইনজীবী হতে পারেন এবং স্থানীয় বার অ্যাসোসিয়েশনে নিবন্ধিত থাকতে হয়। অথচ অনেক বিদেশি নিজেদের আইনজীবী হিসেবে পরিচয় দিয়ে প্রবাসীদের প্রতারণা করছে।  

এমনকি বাসা ভাড়া নেওয়ার ক্ষেত্রেও ঝুঁকি রয়েছে। অনেক বাড়িওয়ালা আসলে ভাড়াটিয়া, তারা মালিক নন। একই ঠিকানায় একাধিক নিবন্ধন হলে তা এখন সরকারের সিস্টেমে চিহ্নিত হয়।  

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রবাসীদের সতর্ক থাকতে হবে। কেবল অনুমোদিত তুর্কি আইনজীবীর সঙ্গে কাজ করা উচিত অথবা নিজেই আবেদন করা নিরাপদ। ভুয়া বা অফ-দ্য-রেকর্ড কোনো প্রস্তাব গ্রহণ করলে তা আইনি ও আর্থিক ঝুঁকি তৈরি করবে। 

Logo