ইরানের হামলা বন্ধে জাতিসংঘে ধরনা জিসিসিভুক্ত দেশগুলোর
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ১১:১৬
গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিল (জিসিসি) জাতিসংঘকে আহ্বান জানিয়েছে যেন ইরানের হামলা বন্ধে জরুরি পদক্ষেপ নেয় এবং গালফ অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ জলপথগুলোতে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করে। ইরানের হামলায় জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় বৈশ্বিক বাজারে তেলের দাম বেড়ে গেছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, জিসিসি মহাসচিব জাসিম আল-বুদাইউই জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে বক্তব্য দিয়ে ইরানের হামলাকে আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, নিরাপত্তা পরিষদকে “সব ধরনের ব্যবস্থা” নিতে হবে, যাতে গালফ অঞ্চলের দেশগুলোতে হামলা বন্ধ হয় এবং কৌশলগত জলপথগুলোতে নৌ চলাচল অব্যাহত থাকে।
ইরান ফেব্রুয়ারি থেকে প্রতিদিনই ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। যদিও তারা দাবি করছে, এসব হামলা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-সম্পর্কিত লক্ষ্যবস্তুতে, বাস্তবে গালফ অঞ্চলের সাধারণ নাগরিক ও জ্বালানি স্থাপনাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে হরমুজ প্রণালীতে, যা দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরল প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবাহিত হয়। প্রণালী কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
জিসিসি মহাসচিব বলেন, ছয় সদস্য রাষ্ট্র সৌদি আরব, কাতার, বাহরাইন, ওমান, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতকে অবশ্যই ইরানের সঙ্গে যে কোনো আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এতে আঞ্চলিক নিরাপত্তা বাড়বে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের হামলা ঠেকানো সম্ভব হবে। তিনি আরো বলেন, জরুরি ভিত্তিতে হামলা বন্ধ করে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে হবে, যাতে আন্তর্জাতিক সরবরাহ চেইন ও জ্বালানি বাজার নিরাপদ থাকে।
দুবাই থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গালফ অঞ্চলে হতাশা বাড়ছে। যুদ্ধ শুরুর আগেই জিসিসি দেশগুলো সংঘাত ঠেকাতে চেষ্টা করেছিল, কিন্তু তা ব্যর্থ হয়। এখন তাদের প্রধান উদ্বেগ হলো ইরানের পাল্টা হামলা। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইরানের নিক্ষেপ করা প্রায় ৮৫ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র গালফ দেশগুলোকে লক্ষ্য করে, যার মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত।
ইরানের হামলা শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তা নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও বড় প্রভাব ফেলছে। তেল ও গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়েছে। এতে জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলোতে চাপ বাড়ছে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক সরবরাহ চেইন ও বাণিজ্যিক নৌ চলাচল ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
logo-1-1740906910.png)