দুবাইয়ে যুদ্ধের ধাক্কা: যাচ্ছে চাকরি, কমছে কামাই
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ এপ্রিল ২০২৬, ২১:৪৭
চলমান উপসাগরীয় যুদ্ধ বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে দুবাইকে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের অর্থনীতিতে এখন স্পষ্ট চাপ দেখা যাচ্ছে; বিশেষ করে পর্যটন, হোটেল, ভ্রমণ, অনুষ্ঠান ব্যবস্থাপনা ও খাদ্য ব্যবসায়। দ্য ইকোনমিক টাইমসের এক রিপোর্টে উঠে এসেছে এমন চিত্র।
দুবাইয়ে এর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মী ছাঁটাই, বেতন কমানো এবং বেতন ছাড়া ছুটিতে পাঠানোর ঘটনা বাড়ছে। মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, বহু প্রতিষ্ঠান এখন লাভ নয়, টিকে থাকাকেই প্রধান লক্ষ্য হিসেবে দেখছে।
একাধিক প্রতিষ্ঠানে গত এক সপ্তাহেই চাকরি হারিয়েছেন বহু কর্মী। কোথাও বেতন অর্ধেক করা হয়েছে, কোথাও কর্মীদের বলা হয়েছে- কম বেতনে কাজ করতে, না চাইলে চাকরি ছাড়তে হবে। একটি পাঁচতারকা হোটেল দুই সপ্তাহ আগে প্রায় ৩০০ কর্মী ছাঁটাই করেছে। আরেকটি বড় খাবার প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান প্রায় ১০০ জনকে চাকরি থেকে সরিয়েছে।
শুধু হোটেল বা রেস্তোরাঁ নয়, কেনাকাটা ও দৈনন্দিন ব্যয়েও বড় পতন দেখা যাচ্ছে। বিক্রয় লেনদেনের হিসাবে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ভোগ্যব্যয় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ কমেছে। উচ্চমানের হোটেল, ভ্রমণ ও অভিজাত খাবার ঘিরে খরচ কমেছে প্রায় ৬০ শতাংশ পর্যন্ত।
আমিরাতে পর্যটকের সংখ্যা কমে যাওয়ায় সবচেয়ে বড় ধাক্কা লেগেছে পর্যটননির্ভর অর্থনীতিতে। বড় বড় খাবারের দোকান, বিলাসপণ্যের বিপণি, আসবাবপত্র ও পোশাকের বিক্রিও কমেছে ৩৫ থেকে ৩৮ শতাংশ পর্যন্ত।
নতুন ব্যবসা শুরু করতেও আগ্রহ কমে গেছে। ফলে যেসব প্রতিষ্ঠান বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কোম্পানি খোলার কাজ করত, তারাও কর্মী কমাতে শুরু করেছে। কোথাও কমিশন বন্ধ, কোথাও বেতন অর্ধেকে নেমে এসেছে।
এই পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ তৈরি করছে প্রবাসী শ্রমিকদের মধ্যে। কারণ আমিরাতে কর্মরত বিপুলসংখ্যক বিদেশির আয় কমে গেলে দেশে পাঠানো অর্থও কমে যেতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুদ্ধ দ্রুত না থামলে আগামী কয়েক মাসে পরিস্থিতি আরো কঠিন হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ শেষ হলেও স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে অন্তত আরো তিন মাস সময় লাগতে পারে। ততদিন পর্যন্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যয় কমিয়ে টিকে থাকার লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।দেশটিতে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিদের সংখ্যা কম করে হলেও ১০ লাখ। তাদের জন্যও হয়তো অপেক্ষা করছে চ্যালেঞ্জিং সময়।
logo-1-1740906910.png)