Logo
×

Follow Us

মধ্যপ্রাচ্য

মধ্যপ্রাচ্যকে ভেঙে নতুন করে গড়বে ইসরায়েল

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ৩১ মার্চ ২০২৬, ০৯:৪৪

মধ্যপ্রাচ্যকে ভেঙে নতুন করে গড়বে ইসরায়েল

ইসরায়েলের পার্লামেন্ট ৩০ মার্চ দেশটির ইতিহাসের সবচেয়ে বড় রাষ্ট্রীয় বাজেট অনুমোদন দিয়েছে। এতে প্রতিরক্ষা খাতে রেকর্ড পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ বলেছেন, এই বাজেট ইসরায়েলকে ভৌগোলিক ও কূটনৈতিক অবস্থানে উন্নতি করতে সহায়তা করবে এবং মধ্যপ্রাচ্যকে নতুনভাবে পুনর্গঠন করার পথ তৈরি করবে। টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বাজেট অনুমোদনের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আগাম নির্বাচনের ঝুঁকি এড়াতে সক্ষম হয়েছেন। কারণ আইনি বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাজেট পাস না হলে সংসদ ভেঙে যেত। প্রায় ১৩ ঘণ্টার দীর্ঘ বিতর্ক এবং ইরান থেকে ছোড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সাইরেনের কারণে অধিবেশন একাধিকবার বিঘ্নিত হয়। শেষ পর্যন্ত বিকল্প সুরক্ষিত মিলনায়তনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ২৭১ বিলিয়ন ডলারের বাজেটের পক্ষে ৬২ এবং বিপক্ষে ৫৫ ভোট পড়ে।

২০২৬ অর্থবছরের জন্য প্রতিরক্ষা খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১৪৩ বিলিয়ন শেকেল বা প্রায় ৪৫.৮ বিলিয়ন ডলার। আগের বছরের তুলনায় এই বরাদ্দ প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার বেশি। গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইসরায়েল প্রতিরক্ষা ব্যয় ক্রমাগত বাড়াচ্ছে। বর্তমানে ইরান ও হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে লেবাননে যুদ্ধ বিস্তার ঘটিয়েছে দেশটি। আকাশপথে বৈরুতে হামলার পাশাপাশি সীমান্তবর্তী এলাকায় স্থল অভিযানও চালানো হচ্ছে।

কাতারের দোহা ইনস্টিটিউট ফর গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের অধ্যাপক মোহাম্মদ এলমাসরি আলজাজিরাকে বলেন, এই বাজেট ইসরায়েলের একাধিক ফ্রন্টে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতির প্রতিফলন। তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রতি বছর ইসরায়েলকে ৩.৮ বিলিয়ন ডলারের সামরিক সহায়তা দেয়, যা যুদ্ধকালীন সময়ে আরো বাড়ানো হয়। নতুন বাজেট ইঙ্গিত করছে, ইসরায়েল দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।

বাজেটে কট্টর রক্ষণশীল শরিক দলগুলোর জন্যও বিপুল বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তাদের নিয়ন্ত্রিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য অতিরিক্ত ৭৫০ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। অধিকৃত পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণের জন্য বরাদ্দ অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। বিরোধী দলগুলো এ পদক্ষেপকে সরকারি তহবিলের অপব্যবহার বলে সমালোচনা করেছে।

বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ বাজেটকে রাষ্ট্রের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় চুরি বলে অভিহিত করেছেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট একে ‘সবচেয়ে বেপরোয়া ও জায়নবাদ-বিরোধী বাজেট’ বলে মন্তব্য করেছেন। তাদের মতে, প্রতিরক্ষা ব্যয়ের বিশাল উল্লম্ফনের কারণে অন্য মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ কমানো হয়েছে অথচ কট্টরপন্থি প্রতিষ্ঠান ও বসতি স্থাপনের জন্য বরাদ্দ অক্ষুণ্ণ রাখা হয়েছে।

Logo