যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে। এতে বিশ্বের জ্বালানি বাজারে কয়েক দশকের মধ্যে অন্যতম বড় সংকট দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এই পরিস্থিতি বৈশ্বিক অর্থনীতিতে মন্দার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান এখন প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ থেকে টোল আদায়ের পরিকল্পনা করছে।
হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ। প্রতিদিন বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস এই পথ দিয়ে সরবরাহ হয়। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে প্রায় দুই হাজার জাহাজ প্রণালীর দুই পাশে আটকা পড়েছে। ইরানি পার্লামেন্টে টোল আদায়ের জন্য একটি খসড়া আইন প্রস্তুত হয়েছে। কর্মকর্তারা বলছেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফি আদায় করা স্বাভাবিক।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) ইতোমধ্যে একটি ‘টোল বুথ’ ব্যবস্থা চালু করেছে। গত দুই সপ্তাহে অন্তত ২৬টি জাহাজ এই ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রণালী পার হয়েছে। জাহাজগুলোকে আগে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে তথ্য জমা দিতে হয়, এরপর আইআরজিসি যাচাই করে ক্লিয়ারেন্স কোড দেয়। কোড অনুমোদিত হলে ইরানি নৌযান জাহাজকে নিরাপদে পারাপারে সহযোগিতা করে।
ইরানের পার্লামেন্ট সদস্য আলায়েদ্দিন বোরৌজারদি জানিয়েছেন, কিছু জাহাজ থেকে ইতোমধ্যে ২০ লাখ ডলার ফি নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, যুদ্ধের খরচ মেটাতে এই ফি আদায় জরুরি। তবে এখনো স্পষ্ট নয় কোন জাহাজকে কত অর্থ দিতে হবে এবং কোন মুদ্রায় তা পরিশোধ করতে হবে।
জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল সংস্থা (আইএমও) জানিয়েছে, বর্তমানে প্রায় দুই হাজার জাহাজ প্রণালী পার হওয়ার অপেক্ষায় আছে। গত এক সপ্তাহে মাত্র ১৬টি জাহাজ এ পথ অতিক্রম করেছে। এর মধ্যে পাকিস্তানের একটি কার্গো জাহাজও রয়েছে।
ইরান বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র দেশগুলোর জাহাজ ছাড়া অন্য সব জাহাজের জন্য প্রণালী খোলা। মালয়েশিয়া, চীন, মিসর, দক্ষিণ কোরিয়া ও ভারতের কিছু জাহাজ ইতোমধ্যে অনুমতি পেয়েছে। লয়েডস লিস্ট জানিয়েছে, অন্তত দুটি জাহাজ চীনের মুদ্রা ইউয়ানে ফি দিয়েছে। তবে ভারত সরকার বলেছে, তাদের জাহাজগুলো কোনো অর্থ দেয়নি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জাতিসংঘের সমুদ্র আইন অনুযায়ী সব জাহাজের নির্বিঘ্নে পারাপারের অধিকার রয়েছে। ইরান ইউএনসিএলওএসের স্বাক্ষরকারী হলেও পার্লামেন্টে এটি অনুমোদন করেনি। ফলে তারা যুক্তি দেখাতে পারে যে আন্তর্জাতিক বিধির আওতায় বাধ্য নয়। লন্ডনের সিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জ্যাসন চুয়াহ মনে করেন, ইরান পুরো প্রণালির ওপর মালিকানা দাবি করতে পারে না। তবে বাস্তবে নিরাপদে চলাচল করতে হলে অনেক জাহাজকে ইরানের পাশ দিয়ে যেতে হবে এবং ফি দিতে হবে।
logo-1-1740906910.png)