গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিলের (জিসিসি) ছয় দেশ সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, ওমান, কাতার ও বাহরাইন এখন কার্যত প্রবাসী শ্রমিকদের ওপর নির্ভরশীল। সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মোট জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি বিদেশি। ভারতীয়রা সবচেয়ে বড় প্রবাসী সম্প্রদায়, প্রায় ৯.১ মিলিয়ন মানুষ। বাংলাদেশি প্রবাসীর সংখ্যা প্রায় ৫ মিলিয়ন, যা দ্বিতীয় বৃহত্তম।
সৌদি আরবের জনসংখ্যা প্রায় ৩৭ মিলিয়ন, এর মধ্যে ১৬.৪ মিলিয়ন বিদেশি। বাংলাদেশি প্রবাসী সবচেয়ে বড় দল, প্রায় ২৫.৯ লাখ। এরপর ভারতীয় ২৩.১ লাখ, পাকিস্তানি ২২.৩ লাখ এবং ইয়েমেনি ২২.১ লাখ। সংযুক্ত আরব আমিরাতে জনসংখ্যা ১১.৫ মিলিয়ন হলেও এর ৮৮ শতাংশই প্রবাসী। ভারতীয়রা এখানে সবচেয়ে বড় সম্প্রদায়, প্রায় ৪৩.৬ লাখ। পাকিস্তানি ১৯ লাখ, বাংলাদেশি ৮.৪ লাখ এবং ফিলিপিনো ৭.৮ লাখ।
কুয়েতে জনসংখ্যা ৪.৮ মিলিয়ন, এর মধ্যে ৩.৩ মিলিয়ন বিদেশি। ভারতীয়রা সবচেয়ে বড় দল, প্রায় ১১.৫ লাখ। মিসরীয় ৬.৬ লাখ এবং বাংলাদেশি ৩.৫ লাখ। ওমানে জনসংখ্যা ৪.৭ মিলিয়ন, প্রবাসী প্রায় ২০.৫ লাখ। ভারতীয় ৭.৬ লাখ, বাংলাদেশি ৭.১ লাখ এবং পাকিস্তানি ২.৬ লাখ। কাতারে জনসংখ্যা ৩.২ মিলিয়ন, এর মধ্যে ৮৮ শতাংশই বিদেশি। ভারতীয় প্রায় ৭ লাখ, বাংলাদেশি ৪ লাখ এবং নেপালি ৪ লাখ। বাহরাইনে জনসংখ্যা ১.৫৮ মিলিয়ন, এর অর্ধেকই প্রবাসী। ভারতীয় ৩.৫ লাখ, বাংলাদেশি ১.১ লাখ এবং পাকিস্তানি ১ লাখ।
জিসিসি অঞ্চলের অর্থনীতি মূলত তেল ও গ্যাস খাতের ওপর নির্ভরশীল। স্থানীয় জনসংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় শ্রমের চাহিদা পূরণে প্রবাসীরা অপরিহার্য হয়ে উঠেছেন। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, জিসিসি দেশগুলোর শ্রমবাজারে ৭৬ থেকে ৯৫ শতাংশই প্রবাসী। নির্মাণ, গৃহকর্ম, নিরাপত্তা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে তাদের উপস্থিতি সর্বজনীন। পাশাপাশি ব্যাংকিং, প্রযুক্তি, প্রকৌশল, স্বাস্থ্যসেবা ও গণমাধ্যমের মতো উচ্চ দক্ষতার ক্ষেত্রেও প্রবাসীরা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রবাসী শ্রমিকরা শুধু অর্থনীতির চাকা সচল রাখছেন না, বরং স্থানীয়দের জীবনযাত্রা সহজ করছেন। একই সঙ্গে স্থানীয়দের কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়নের প্রশ্নও সামনে আসছে। অনেক দেশ এখন ধীরে ধীরে প্রবাসীদের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে স্থানীয়দের কর্মসংস্থান বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে।
logo-1-1740906910.png)