লেবাননে ১০ লাখ বাস্তুচ্যুত, সীমান্ত পেরিয়েছে ১ লাখ ৩০ হাজার
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ মার্চ ২০২৬, ১০:৪৭
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি লেবানন ও আশপাশের অঞ্চলে ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি করেছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) জানিয়েছে, মার্চের শুরু থেকে লেবাননে এক মিলিয়নেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং ১ লাখ ৩০ হাজারের বেশি মানুষ সিরিয়ায় প্রবেশ করেছেন।
আইওএমের ডিসপ্লেসমেন্ট ট্র্যাকিং ম্যাট্রিক্স (ডিটিএম) অনুযায়ী, ২ থেকে ১৮ মার্চের মধ্যে সিরিয়ায় প্রবেশকারীদের মধ্যে ৯৫ শতাংশ সিরীয় এবং ৫ শতাংশ লেবানিজ। তাদের প্রধান চাহিদা হলো নগদ সহায়তা, খাদ্য ও আশ্রয়। অধিকাংশই আত্মীয়স্বজন বা বন্ধুদের সঙ্গে অস্থায়ীভাবে অবস্থান করছেন।
লেবাননের ভেতরে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। জাতীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২২ মার্চ পর্যন্ত ১০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। এর মধ্যে ১ লাখ ৩৪ হাজার মানুষ ৬৪৪টি সমষ্টিগত আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। তবে অধিকাংশই আত্মীয়দের সঙ্গে স্থানীয় সম্প্রদায়ে বা ভাড়া বাসায় থাকছেন। কেউ কেউ গাড়িতে বা খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাচ্ছেন, যা স্থানীয় অবকাঠামো ও জনসেবায় চাপ বাড়াচ্ছে।
সিরিয়ার বিভিন্ন স্থানে জরুরি মোবিলিটি ট্র্যাকিংয়ে ৮২ হাজারের বেশি মানুষের আগমন রেকর্ড করা হয়েছে। এটি দেখায় যে সংকটের প্রভাব ভৌগোলিকভাবে ব্যাপক এবং মানবিক সহায়তার প্রয়োজন আরো তীব্র।
অন্যদিকে, ইরান থেকে পাকিস্তানে প্রবেশ করেছে ৬ হাজার ৭০০ জনের বেশি মানুষ। তাদের মধ্যে অধিকাংশই পাকিস্তানি নাগরিক, যারা দেশে ফিরছেন। এছাড়া বৈধ ভিসাধারী ইরানি নাগরিকও রয়েছেন। আফগানিস্তানে ফেরত যাওয়ার প্রবণতা এখনো সীমিত, তবে নিরাপত্তাহীনতা ও অর্থনৈতিক সংকটের কারণে শিগগিরই তা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আইওএম জানিয়েছে, তৃতীয় দেশের নাগরিকরাও পাকিস্তান, আজারবাইজান ও তুর্কমেনিস্তানে প্রবেশ করছেন। অনেক ক্ষেত্রে তাদের নিজ নিজ সরকার এই স্থানান্তর সহজ করছে।
আইওএম মহাপরিচালক অ্যামি পোপ বলেন, “বর্তমান পরিস্থিতি দেখায় কত দ্রুত অস্থিতিশীলতা পুরো অঞ্চলের গতিশীলতা বদলে দিতে পারে। অনেকেই আগে থেকেই ভঙ্গুর অবস্থায় ছিলেন। এখন চাপ বাড়ছে, ফলে মানবিক চাহিদাও বাড়বে। আন্তর্জাতিক সহায়তা অপরিহার্য।”
জাতিসংঘ মহাসচিবের আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করে আইওএম বলেছে, জরুরি ভিত্তিতে সংঘাত কমাতে হবে। অভিবাসী ও বাস্তুচ্যুত মানুষসহ সব নাগরিককে সুরক্ষা দিতে হবে এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন মেনে চলতে হবে।
logo-1-1740906910.png)