Logo
×

Follow Us

মধ্যপ্রাচ্য

বাহরাইনে যুদ্ধঝুঁকি বিমা চালু করল কোম্পানিগুলো

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৫ মার্চ ২০২৬, ১০:৪৮

বাহরাইনে যুদ্ধঝুঁকি বিমা চালু করল কোম্পানিগুলো

ইরানের সাম্প্রতিক হামলার পর প্রথমবারের মতো বাহরাইনে বিমা কোম্পানিগুলো যুদ্ধঝুঁকি বিমা চালু করেছে। ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা ও সম্ভাব্য ক্ষতির আশঙ্কায় এই উদ্যোগকে বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। শিল্প বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এতদিন বাহরাইনে এ ধরনের বিমা অপ্রয়োজনীয় মনে হলেও এখন নতুন ঝুঁকি মূল্যায়নের যুগ শুরু হয়েছে।  

যুদ্ধঝুঁকি বিমা মূলত যুদ্ধজনিত ক্ষতি বা ধ্বংসের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেয়। মিসাইল ও ড্রোন হামলা কিংবা প্রতিরক্ষামূলক আক্রমণের ফলে সৃষ্ট ধ্বংসাবশেষ থেকে হওয়া ক্ষতিও এর আওতায় পড়ে। টাকাফুল ইন্টারন্যাশনালের বিশেষ লাইন্স পরিচালক ফাজের আবদুলআজিজ বলেন, অনিশ্চয়তার সময়ে সম্পত্তি মালিকদের জন্য এ বিমা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তার মতে, গুরুত্বপূর্ণ ভবন, শিল্পপ্রকল্প ও রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল স্থাপনাগুলো শত্রুর প্রথম লক্ষ্য হয়। তাই যুদ্ধঝুঁকি বিমা মালিকদের সব সময় বিবেচনায় রাখা উচিত।  

তিনি আরো বলেন, একসময় যুদ্ধজনিত ক্ষতি বিমা শিল্পের জন্য অগ্রহণযোগ্য মনে করা হতো। কিন্তু ৯/১১ হামলার পর এ ধরনের বিমার প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয়। বর্তমানে এটি দাঙ্গা, নাশকতা, সন্ত্রাসবাদ, গৃহযুদ্ধসহ নানা মানবসৃষ্ট বিপর্যয়কে কভার করে। বাহরাইনে ইতোমধ্যে অনেক আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবন এবং শপিং মল এ ধরনের বিমা নিয়েছে।  

আবদুলআজিজ জানান, সম্পত্তি মালিকদের জন্য যুদ্ধঝুঁকি বিমা সুপারিশ করা হলেও ব্যক্তিগত সুরক্ষার জন্য জীবন বিমা, দুর্ঘটনা বিমা এবং চিকিৎসা বিমা নেওয়া উচিত। তিনি বলেন, মানবজীবন অমূল্য, তবে বিমা থাকলে অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে আর্থিক নিরাপত্তা পাওয়া যায়।  

ধাইফ ইন্স্যুরেন্স এজেন্সির প্রধান নির্বাহী লিমা ধাইফ বলেন, যুদ্ধঝুঁকি বিমা মানুষের মধ্যে আর্থিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা তৈরি করছে। আবাসিক ভবন যেমন বাড়ি ও অ্যাপার্টমেন্টে মিসাইল বা ড্রোন হামলার ক্ষতি মোকাবিলায় এটি কার্যকর। শুধু ভবনের কাঠামো নয়, অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জা ও গৃহস্থালি সামগ্রীও কভারেজের আওতায় আনা যায়। ব্যবসায়ীদের জন্যও এটি সম্পদের ক্ষতি ও জরুরি সরিয়ে নেওয়ার খরচ বহন করে, ফলে কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকে।  

তিনি সতর্ক করে বলেন, সংঘাতের সময় যদি বাড়ি দীর্ঘ সময় খালি থাকে, সাধারণ বিমা ক্ষতি কভার নাও করতে পারে। বেশিরভাগ বিমা নীতিতে ৩০ থেকে ৬০ দিনের খালি থাকার শর্ত থাকে। তাই বিমা কোম্পানিকে আগেই জানাতে হয় এবং প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত অনুমতি নিতে হয়।  

বিমার খরচ নির্ভর করে ঝুঁকি মূল্যায়ন ও কভারেজের ওপর। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন, গ্রাহকদের বাজার যাচাই করে বিশ্বস্ত বিমা কোম্পানির সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।  

এদিকে সলিডারিটি বাহরাইন সদস্যদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে। চিকিৎসা বিমার আওতায় এখন কাউন্সেলিং সেবা যুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া টেলি-কনসালটেশন সুবিধা চালু হয়েছে, যাতে গ্রাহকরা হাসপাতালে না গিয়ে অনলাইনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারেন। ওষুধ সরবরাহও সহজ করা হয়েছে।

Logo