সংযুক্ত আরব আমিরাতের আকাশপথে চলমান অস্থিরতা ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে ২২ মার্চও ফ্লাইট চলাচলে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটেছে। বিভিন্ন এয়ারলাইন্স যাত্রীদের সতর্ক করে জানিয়েছে, হঠাৎ সময়সূচি পরিবর্তন, বিলম্ব বা বাতিলের ঘটনা ঘটতে পারে। গালফ নিউজের প্রতিবেদন বলছে, যাত্রার আগে অবশ্যই ফ্লাইট স্ট্যাটাস যাচাই করতে হবে।
ভারতীয় এয়ারলাইন্স ইন্ডিগো জানিয়েছে, তারা ইউএই-ভারত রুটে ফ্লাইট পরিচালনায় পরিবর্তন আনছে। দুবাই, আবুধাবি ও শারজাহগামী ফ্লাইটগুলো ২২ ও ২৩ মার্চে ডায়নামিক শিডিউলে চলবে। আবহাওয়া ও আকাশপথের সীমাবদ্ধতার কারণে বিলম্ব, বাতিল বা শেষ মুহূর্তে পরিবর্তনের আশঙ্কা রয়েছে।
ফ্লাইদুবাইও একই ধরনের সতর্কতা দিয়েছে। তারা জানিয়েছে, খারাপ দৃশ্যমানতা ও অস্থিতিশীল আবহাওয়ার কারণে ফ্লাইট বিলম্ব বা রিরাউটিং হতে পারে। এয়ারলাইন্সটি বলছে, পরিস্থিতি অনুযায়ী তাদের অপারেশন পরিবর্তন করা হচ্ছে।
এয়ার অ্যারাবিয়া জানিয়েছে, প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে তাদের নেটওয়ার্কের বিভিন্ন রুটে ফ্লাইট বিলম্ব বা বাতিল হতে পারে। যাত্রীদের ডিজিটাল চ্যানেলের মাধ্যমে সর্বশেষ আপডেট নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ফিলিপাইন এয়ারলাইন্স আলাদা এক ঘোষণায় জানিয়েছে, তারা দুবাই-দোহা রুটে ফ্লাইট স্থগিত করেছে। চলমান আঞ্চলিক অস্থিরতার কারণে এই রুটে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত কোনো ফ্লাইট চলবে না। ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীরা রিবুকিং, রিফান্ড বা ট্রাভেল ক্রেডিটের সুযোগ পাবেন।
এয়ার ইন্ডিয়া গ্রুপ জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। পশ্চিম এশিয়ার আকাশপথে সীমাবদ্ধতার কারণে ফ্লাইট বিলম্ব, রিরাউটিং বা বাতিল হতে পারে। যাত্রীদের ফ্লাইট স্ট্যাটাস যাচাই করতে এবং অফিসিয়াল চ্যানেলের মাধ্যমে আপডেট নিতে বলা হয়েছে।
এর আগে এমিরেটস ও ইতিহাদও ফ্লাইট শিডিউলে পরিবর্তন এনেছিল। আকাশপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে নিরাপত্তাজনিত বিবেচনায় তারা কিছু ফ্লাইট বাতিল ও রিরাউটিং করেছে।
সব মিলিয়ে, আবহাওয়ার অস্থিরতা ও আঞ্চলিক সংঘাতের কারণে ইউএই থেকে ফ্লাইট চলাচল অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। যাত্রীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো যাত্রার আগে ফ্লাইট স্ট্যাটাস যাচাই করা এবং নিশ্চিত বুকিং ছাড়া বিমানবন্দরে না যাওয়া।
অন্যদিকে, ভারতে এয়ারফেয়ার সংক্রান্ত কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। দেশটি অভ্যন্তরীণ রুটে ভাড়ার ওপর আরোপিত অস্থায়ী সীমা তুলে নিয়েছে। এতে এয়ারলাইন্সগুলো টিকিটের দাম নির্ধারণে আরো স্বাধীনতা পাবে। তবে জ্বালানির দাম ও অপারেশনাল খরচ বেড়ে যাওয়ায় টিকিটের দাম বাড়তে পারে। একই সঙ্গে সরকার নির্দেশ দিয়েছে, অন্তত ৬০ শতাংশ আসন সিট-সিলেকশন চার্জ ছাড়া দিতে হবে। এ নিয়ে এয়ারলাইন্সগুলো আপত্তি জানিয়েছে। তাদের দাবি, এতে অতিরিক্ত রাজস্ব হারাতে হবে এবং শেষ পর্যন্ত ভাড়া আরো বাড়তে পারে।
logo-1-1740906910.png)