সংযুক্ত আরব আমিরাতে ঈদুল ফিতরের সরকারি ছুটির সময় যদি কোনো কর্মীকে কাজ করতে বলা হয়, তবে শ্রম আইন অনুযায়ী তাদের অবশ্যই ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। আইন স্পষ্টভাবে বলছে, কর্মীদের হয় অতিরিক্ত বেতন দিতে হবে অথবা বিকল্প ছুটি দিতে হবে।
ইউএই সরকার ঘোষণা করেছে, ২০২৬ সালে ঈদুল ফিতর পড়েছে ২০ মার্চ। ফেডারেল সরকারি কর্মীদের জন্য ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছে ১৯ মার্চ বৃহস্পতিবার থেকে ২২ মার্চ রোববার পর্যন্ত। কাজ পুনরায় শুরু হবে ২৩ মার্চ সোমবার।
বেসরকারি খাতের কর্মীদের জন্য প্রযোজ্য আইন হলো ফেডারেল ডিক্রি-ল’ নং ৩৩ অব ২০২১। এই আইনের ২৮ নম্বর অনুচ্ছেদে সরকারি ছুটি সংক্রান্ত অধিকার স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, কর্মীরা সরকারি ছুটির দিনে পূর্ণ বেতনের অধিকারী। তবে যদি কাজের প্রয়োজনে তাদের ছুটির দিনে কাজ করতে হয়, তবে নিয়োগকর্তাকে দুটি উপায়ে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
প্রথমত, কর্মীকে বিকল্প ছুটি দিতে হবে। অর্থাৎ যে দিন তিনি সরকারি ছুটিতে কাজ করেছেন, তার জন্য আলাদা একটি বিশ্রামের দিন দিতে হবে। এটি কর্মীর বার্ষিক ছুটির সঙ্গে যুক্ত হবে না, বরং অতিরিক্ত হিসেবে গণ্য হবে।
দ্বিতীয়ত, কর্মীকে বাড়তি বেতন দিতে হবে। তিনি ওই দিনের স্বাভাবিক দৈনিক বেতন পাবেন, পাশাপাশি তার মূল বেতনের অন্তত ৫০ শতাংশ অতিরিক্ত হিসেবে দিতে হবে। অনেক ক্ষেত্রে চুক্তি অনুযায়ী আরো বেশি সুবিধা দেওয়া হতে পারে।
কোনটি দেওয়া হবে তা সাধারণত নিয়োগকর্তার সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে। তবে আইন অনুযায়ী ন্যূনতম মান বজায় রাখা বাধ্যতামূলক। অর্থাৎ কর্মীকে ছুটির দিনে কাজ করাতে হলে তাকে অবশ্যই ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
যদি কোনো কর্মী মনে করেন যে তাকে ঈদের ছুটিতে কাজ করানো হয়েছে কিন্তু আইন অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়নি, তবে তিনি প্রথমে নিয়োগকর্তার সঙ্গে বিষয়টি আলোচনা করতে পারেন। যদি সমাধান না হয়, তবে তিনি মানবসম্পদ ও এমিরাতাইজেশন মন্ত্রণালয়ে (MoHRE) অভিযোগ করতে পারবেন। এই মন্ত্রণালয় বেসরকারি খাতের শ্রম বিরোধ নিষ্পত্তি করে থাকে। তারা অভিযোগ পর্যালোচনা করবে এবং কর্মী ও নিয়োগকর্তার মধ্যে সমঝোতার চেষ্টা করবে।
logo-1-1740906910.png)