মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে ইরান স্পষ্ট করেছে, নির্দিষ্ট ছয়টি শর্ত পূরণ না হলে কোনোভাবেই যুদ্ধ বন্ধ হবে না। দেশটির এক জ্যেষ্ঠ রাজনীতিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষামূলক যুদ্ধে ইরান আগে থেকেই প্রস্তুত ছিল এবং বহু ধাপের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। কয়েক মাস আগে তৈরি করা এই কৌশল এখন ধৈর্যের সঙ্গে কার্যকর করা হচ্ছে।
লেবাননের গণমাধ্যম আল-মায়াদিনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ওই কর্মকর্তা দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান প্রতিরক্ষা ও রাডার ব্যবস্থা ধ্বংস করার পর ইরান এখন ইসরায়েলের আকাশসীমায় পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। তিনি বলেন, আগ্রাসনকারীদের শাস্তি দেওয়ার নীতি ইরান চালিয়ে যাবে, যতক্ষণ না যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে একটি ঐতিহাসিক শিক্ষা দেওয়া যায় এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির জবাব দেওয়া হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বিভিন্ন আঞ্চলিক শক্তি ও মধ্যস্থতাকারীরা যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাব দিলেও ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তাদের নির্ধারিত শর্তগুলো পূরণ না হলে কোনো সমঝোতা হবে না।
ইরানের দেওয়া ছয়টি শর্ত হলো— ভবিষ্যতে আর কোনো যুদ্ধ হবে না সে বিষয়ে নিশ্চয়তা, মধ্যপ্রাচ্যে সব মার্কিন সামরিক ঘাঁটি বন্ধ করা, ইরানকে ক্ষতিপূরণ প্রদান, পুরো অঞ্চলে সব ধরনের যুদ্ধ বন্ধ করা, হরমুজ প্রণালী নিয়ে নতুন আইনি কাঠামো তৈরি করা এবং ইরানবিরোধী হিসেবে বিবেচিত কিছু গণমাধ্যম ব্যক্তিকে বিচারের মুখোমুখি করা ও প্রত্যর্পণ করা।
তেহরান বলছে, এই শর্তগুলোই একটি নতুন আইনি ও কৌশলগত কাঠামোর অংশ। এগুলো পূরণ হলেই কেবল যুদ্ধ শেষের পথ তৈরি হতে পারে। অন্যথায় ইরান তার প্রতিরোধ চালিয়ে যাবে।
সাম্প্রতিক হামলায় ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ইসরায়েলের রাজধানী তেল আবিবের একটি ভবনের অংশ ধসে পড়েছে। এ ঘটনা সংঘাতকে আরো তীব্র করেছে। ইরান বলছে, তারা আগ্রাসনের জবাব দিচ্ছে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই পদক্ষেপ নিয়েছে।
logo-1-1740906910.png)