Logo
×

Follow Us

মধ্যপ্রাচ্য

ইরান যুদ্ধ: মালয়েশিয়ার মেডিকেল ট্যুরিজমে নতুন সম্ভাবনা

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৯ মার্চ ২০২৬, ২৩:৩৬

ইরান যুদ্ধ: মালয়েশিয়ার মেডিকেল ট্যুরিজমে নতুন সম্ভাবনা

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে চিকিৎসা পর্যটনের বড় কেন্দ্র দুবাই এখন অনিশ্চয়তায়। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ফলে শহরটির নিরাপত্তা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের রোগীরা নিরাপদ বিকল্প খুঁজছেন এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ মালয়েশিয়া তাদের কাছে নতুন গন্তব্য হয়ে উঠছে।  

মালয়েশিয়ার সানওয়ে হেলথকেয়ারের প্রেসিডেন্ট লাউ বেং লং জানিয়েছেন, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে অনেক মধ্যপ্রাচ্যের নাগরিক সাময়িকভাবে এশিয়ায় চিকিৎসা নিতে আসতে পারেন। এতে মালয়েশিয়ার মেডিকেল ট্যুরিজম খাত উল্লেখযোগ্যভাবে লাভবান হবে। দুবাইয়ে ২০২৩ সালে প্রায় ৬.৯ লাখ চিকিৎসা পর্যটক গিয়েছিলেন, যারা ১ বিলিয়ন দিরহাম বা প্রায় ২৮০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় করেছিলেন। সেই বাজারের একটি অংশ মালয়েশিয়ার দিকে আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।  

বর্তমানে মালয়েশিয়ার চিকিৎসা পর্যটনের প্রধান রোগীরা আসেন চীন, ভারত ও অন্যান্য আঞ্চলিক দেশ থেকে। সানওয়ের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা চেলসি চেং জানিয়েছেন, ইউরোপীয় রোগীদের ওপর তাদের নির্ভরতা কম, তাই ইরান যুদ্ধের প্রভাব সরাসরি পড়বে না। বরং তারা এ বছর চিকিৎসা পর্যটনের প্রবৃদ্ধি নিয়ে আত্মবিশ্বাসী।  

মালয়েশিয়ার চিকিৎসা পর্যটন খাত ইতোমধ্যেই মহামারির পর শক্তিশালী পুনরুদ্ধার করেছে। ২০২৫ সালে হাসপাতালগুলো বিদেশি রোগীদের কাছ থেকে ৩ বিলিয়ন রিঙ্গিত আয় করেছে, যা ২০২৪ সালের ২.৭২ বিলিয়ন এবং ২০২৩ সালের ২.২৫ বিলিয়নের তুলনায় বেশি। পর্যটন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চিকিৎসা পর্যটন সাধারণ পর্যটনের সঙ্গে সমান্তরালভাবে বেড়েছে। রোগীরা শুধু চিকিৎসা নেন না, তারা পরিবার নিয়ে আসেন এবং হোটেল, খাবার, পরিবহন ও কেনাকাটায়ও ব্যয় করেন। ফলে হাসপাতালের আয় ছাড়াও চার গুণ বেশি অর্থনীতিতে প্রভাব পড়ে।  

গত তিন বছরে মালয়েশিয়ার চিকিৎসা পর্যটন খাত থেকে বার্ষিক ১০ থেকে ১২ বিলিয়ন রিঙ্গিত আয় হয়েছে। চিকিৎসা পর্যটকরা সাধারণ পর্যটকের তুলনায় বেশি সময় থাকেন এবং বেশি ব্যয় করেন। তারা চিকিৎসার পাশাপাশি ভ্রমণ, কেনাকাটা ও ওয়েলনেস কার্যক্রমে অংশ নেন।  

২০২৪ সালে মালয়েশিয়ার মোট দেশজ উৎপাদনে চিকিৎসা পর্যটনের অবদান ছিল ২.৭২ বিলিয়ন রিঙ্গিত, যা জিডিপির ০.১৪ শতাংশ। মালয়েশিয়া হেলথকেয়ার ট্রাভেল কাউন্সিলের লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে এই আয়কে ৭ বিলিয়ন রিঙ্গিতে উন্নীত করা, যা তখনকার সম্ভাব্য জিডিপির প্রায় ০.২৬ শতাংশ হবে।

Logo