Logo
×

Follow Us

মধ্যপ্রাচ্য

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে সার সংকট

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৮ মার্চ ২০২৬, ২২:৩৭

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে সার সংকট

ইরান যুদ্ধ শুধু জ্বালানি বাজারকেই নয়, বিশ্ব খাদ্য নিরাপত্তাকেও বড় সংকটে ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সার উৎপাদন ও সরবরাহে মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে, যা বিশ্বব্যাপী খাদ্য উৎপাদনকে হুমকির মুখে ফেলছে।  

গত ২ মার্চ ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের এক শীর্ষ উপদেষ্টা ঘোষণা দেন, হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এই প্রণালী দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস পরিবাহিত হয়। এর ফলে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠে যায়। কিন্তু এর পাশাপাশি সার সংকটও ভয়াবহ আকার ধারণ করছে।  

বিশ্বে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত সার ইউরিয়া এবং অন্যান্য সার উপসাগরীয় দেশগুলো থেকেই রপ্তানি হয়। হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এসব রপ্তানি ব্যাহত হচ্ছে। কাতারের এলএনজি স্থাপনায় হামলার পর বিশ্বের সবচেয়ে বড় ইউরিয়া উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান কাতার ফার্টিলাইজার কোম্পানি (QAFCO) উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে ভারত তিনটি ইউরিয়া কারখানার উৎপাদন কমিয়েছে এবং বাংলাদেশও পাঁচটির মধ্যে চারটি কারখানা বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে ইতোমধ্যেই সার সরবরাহে ২৫ শতাংশ ঘাটতি দেখা দিয়েছে।  

মধ্যপ্রাচ্য থেকে ইউরিয়া রপ্তানির দাম এক সপ্তাহে প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়ে ৭০০ ডলার প্রতি মেট্রিক টনে পৌঁছেছে, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ৬০ শতাংশ বেশি। বিশ্লেষকরা বলছেন, নাইট্রোজেন সার দ্বিগুণ দাম হতে পারে এবং ফসফেটের দামও ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।  

বিশ্বের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সার বাণিজ্য হরমুজ প্রণালীর ওপর নির্ভরশীল। কেবল কাতারই বিশ্বের ১৪ শতাংশ ইউরিয়া সরবরাহ করে। ভারত, ব্রাজিল ও চীন সবচেয়ে বেশি নির্ভরশীল এই অঞ্চলের সার রপ্তানির ওপর। ভারত তার ইউরিয়া ও ফসফেটের ৪০ শতাংশের বেশি মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করে। ব্রাজিল প্রায় পুরোপুরি আমদানিনির্ভর, যার অর্ধেকই হরমুজ প্রণালী দিয়ে আসে।  

এই সংকটের সময়টিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উত্তর গোলার্ধে ফেব্রুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত চলে বপন মৌসুম। এ সময়ে সার ছাড়া কৃষি উৎপাদন প্রায় অসম্ভব। ফলে ধান, গম, ভুট্টা ও সয়াবিনের মতো প্রধান খাদ্যশস্যের উৎপাদন কমে যেতে পারে।  

বিশ্ব ইতোমধ্যেই সার সংকটে ভুগছিল। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর ইউরোপ সস্তা রাশিয়ান গ্যাস হারিয়ে উৎপাদন কমিয়েছে। চীনও নিজস্ব কৃষকদের জন্য সার মজুত রাখতে রপ্তানি সীমিত করেছে। নতুন করে ইরান যুদ্ধ সেই সংকটকে আরো গভীর করছে।  

বিশ্বের প্রধান খাদ্য উৎপাদনকারী দেশগুলো ভারত, ব্রাজিল ও চীন যদি উৎপাদন কমায়, তবে বৈশ্বিক খাদ্য সরবরাহে বড় ধাক্কা লাগবে। এতে খাদ্যের দাম বাড়বে এবং আমদানিনির্ভর দেশগুলোতে স্থানীয়ভাবে খাদ্য সংকট দেখা দিতে পারে।

Logo