যুদ্ধের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের বেতন দেবে বাহরাইন?
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ মার্চ ২০২৬, ০২:১৩
বাহরাইনে চলমান আঞ্চলিক যুদ্ধ ও ইরানের হামলার প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ছোট ও মাঝারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মীদের পূর্ণ বেতন প্রদানের জন্য শ্রম তহবিল ‘তামকীন’-কে দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাব উঠেছে সংসদে। সংসদের পররাষ্ট্র, প্রতিরক্ষা ও জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির চেয়ারম্যান এমপি হাসান বুকহাম্মাস এই প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন।
তিনি বলেছেন, যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি স্থানীয় বাজারে চাপ তৈরি করেছে এবং অনেক ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান টিকে থাকার সংগ্রামে রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান দেশের অর্থনীতির মূল স্তম্ভ এবং বহু বাহরাইনি কর্মীর কর্মস্থল। তাই তাদের টিকিয়ে রাখা এখন কেবল অর্থনৈতিক নয়, বরং কৌশলগত ও নিরাপত্তাজনিত প্রয়োজনীয়তা।
প্রস্তাবে বলা হয়েছে, তামকীন যেন একটি জরুরি সহায়তা কর্মসূচি চালু করে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের বেতন বহন করে। এতে কর্মীদের বেতন নিরবচ্ছিন্নভাবে পৌঁছাবে, ব্যবসায়ীদের ওপর চাপ কমবে এবং বাজারে অর্থপ্রবাহ সচল থাকবে।
বুকহাম্মাস আরো বলেন, দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি, যাতে কর্মীরা নিরাপদ থাকে এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো আর্থিক সংকটে পড়ে বন্ধ হয়ে না যায়। তিনি মনে করেন, এই উদ্যোগ অর্থনীতিতে আস্থা ফিরিয়ে আনবে এবং বিভিন্ন খাতে ব্যবসায়িক কার্যক্রম সচল রাখবে।
সংসদ সদস্যের মতে, ছোট ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানগুলো সবচেয়ে বেশি অর্থনৈতিক ধাক্কায় আক্রান্ত হয়। তাই তাদের রক্ষায় অবিলম্বে পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। তিনি বলেন, তামকীনের জরুরি সহায়তা কর্মসূচি এখন একটি অর্থনৈতিক ও সামাজিক নিরাপত্তা বলয়ের মতো কাজ করবে।
এই প্রস্তাবের মূল লক্ষ্য হলো বাহরাইনি পরিবারগুলোর স্থিতিশীলতা রক্ষা করা এবং কর্মসংস্থান বজায় রাখা। যুদ্ধের প্রভাবে সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে, খরচ বেড়েছে এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রমে ধীরগতি এসেছে। তাই সংসদ সদস্যরা মনে করছেন, কর্মীদের বেতন সুরক্ষা দিলে অর্থনীতি এই চাপ সামলে উঠতে পারবে।
বাহরাইনে যুদ্ধের প্রভাব মোকাবিলায় সংসদে উত্থাপিত এই প্রস্তাব এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। তামকীন যদি পূর্ণ বেতন বহনের দায়িত্ব নেয়, তবে তা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও কর্মীদের জন্য বড় ধরনের স্বস্তি বয়ে আনবে।
logo-1-1740906910.png)