Logo
×

Follow Us

মধ্যপ্রাচ্য

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের ভিডিও; প্রবাসীদের হতে হবে সতর্ক

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৭ মার্চ ২০২৬, ০৯:১৭

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের ভিডিও; প্রবাসীদের হতে হবে সতর্ক

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে ইরানের মিসাইল ও ড্রোন হামলার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে বিপাকে পড়েছেন অনেক প্রবাসী বাংলাদেশি। আবেগের বশে বা আইন না জেনে এসব ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করায় সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত ও বাহরাইনে বাংলাদেশি নাগরিকদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।  

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরান প্রতিবেশী দেশগুলোর মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে আক্রমণ চালায়। সেই হামলার দৃশ্য অনেক প্রবাসী ফেসবুকে পোস্ট বা লাইভ করেন। অথচ এসব দেশের আইন অনুযায়ী সামরিক স্থাপনা, ড্রোন বা মিসাইল ইন্টারসেপশন এবং তার ধ্বংসাবশেষের ছবি প্রকাশ দণ্ডনীয় অপরাধ।  

বাংলাদেশি দূতাবাসগুলো যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই প্রবাসীদের সতর্ক করেছিল। বলা হয়েছিল, কোনোভাবেই হামলার ছবি বা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করা যাবে না। কিন্তু অনেকেই সতর্কতা উপেক্ষা করেছেন। ফলে এখন তারা গ্রেপ্তার আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।  

সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাইবার ক্রাইম আইন অনুযায়ী, সামরিক স্থাপনা বা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ছবি শেয়ার করলে বড় অংকের জরিমানা, কারাদণ্ড এবং স্থায়ী বহিষ্কারের শাস্তি হতে পারে। বাহরাইনেও একই ধরনের আইন রয়েছে। ইতোমধ্যে বাহরাইনে মোহাম্মদ ইসরাফিল মীর নামে এক বাংলাদেশি গ্রেপ্তার হয়েছেন, যিনি ফেসবুকে ইরানের পক্ষে ভিডিও শেয়ার করেছিলেন।  

অতীতেও স্থানীয় আইন না মানার কারণে বাংলাদেশিরা গ্রেপ্তার হয়েছে। ২০২৪ সালে শেখ হাসিনার সরকারের বিরুদ্ধে আরব আমিরাতে বিক্ষোভ করায় ৫৭ জন বাংলাদেশি কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছিলেন। পরে সাধারণ ক্ষমায় তারা দেশে ফিরে আসেন।  

প্রবাসী মিজানুর রহমান জানান, আমিরাতে মিসাইলের ছবি প্রকাশ পুরোপুরি নিষিদ্ধ। কিন্তু অনেক বাংলাদেশি তা জানেন না বা নতুন আসায় আইন সম্পর্কে ওয়াকিবহাল নন। ফলে তারা বিপদে পড়ছেন।  

বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সী ফয়েজ আহমেদ বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের আইন আমাদের দেশের মতো নয়। প্রবাসীদের স্থানীয় আইন সম্পর্কে সচেতন হতে হবে এবং তা মেনে চলতে হবে।  

সংযুক্ত আরব আমিরাতে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত তারেক আহমেদ প্রবাসীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, হামলার ছবি বা ভিডিও, গুজব বা বিভ্রান্তিমূলক পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার না করতে। তিনি বলেন, “এটা আমিরাতের প্রচলিত আইনের পরিপন্থি এবং দণ্ডনীয় অপরাধ। প্রবাসীদের অবশ্যই স্থানীয় আইন মেনে চলতে হবে"।

Logo