Logo
×

Follow Us

মধ্যপ্রাচ্য

হরমুজ প্রণালী বন্ধে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর ক্ষতি ১৫ বিলিয়ন ডলার

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৫ মার্চ ২০২৬, ০৮:৫০

হরমুজ প্রণালী বন্ধে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর ক্ষতি ১৫ বিলিয়ন ডলার

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে উপসাগরীয় দেশগুলো বিপুল পরিমাণ জ্বালানি রাজস্ব হারিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী হামলার পর থেকে হরমুজ প্রণালী প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তেল ও গ্যাস রপ্তানি কার্যত থমকে গেছে। এর ফলে সৌদি আরব, ইরাক, কুয়েত, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইন মিলিয়ে প্রায় ১৫.১ বিলিয়ন ডলার রাজস্ব হারিয়েছে।  

কমোডিটি বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান কেপলার জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ১.২ বিলিয়ন ডলারের অপরিশোধিত তেল, পরিশোধিত পণ্য ও তরল প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবাহিত হতো। কিন্তু ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে প্রণালীতে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। ইরান একাধিক জাহাজে হামলা চালিয়েছে এবং বীমা খরচও বেড়ে গেছে।  

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সৌদি আরব। দেশটি প্রায় ৪.৫ বিলিয়ন ডলার রাজস্ব হারিয়েছে বলে জানিয়েছে উড ম্যাকেঞ্জি। তবে সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা শিগগিরই লোহিত সাগর হয়ে রপ্তানি বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। ইরাকও বড় ধরনের ঝুঁকিতে রয়েছে, কারণ দেশটির সরকারি রাজস্বের ৯০ শতাংশই তেল থেকে আসে। কুয়েত ও কাতার ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তাদের বড় আকারের সার্বভৌম তহবিল রয়েছে, যা স্বল্পমেয়াদে ক্ষতি সামাল দিতে সক্ষম।

কেপলার জানিয়েছে, প্রায় ১০.৭ বিলিয়ন ডলারের তেল ও গ্যাসবাহী কার্গো হরমুজ প্রণালীতে আটকে আছে। এর মধ্যে অনেক কার্গো আগেই দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় বিক্রি হয়েছিল। ফলে কিছু ক্ষেত্রে রাজস্ব পাওয়া সম্ভব হলেও সরবরাহে বিলম্ব হচ্ছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সৌদি আরব তুলনামূলকভাবে ভালো অবস্থানে রয়েছে, কারণ তাদের বিদেশে সংরক্ষিত তেলের মজুত আছে এবং তারা পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইন ব্যবহার করে লোহিত সাগর হয়ে রপ্তানি করতে পারে। তবে এই পাইপলাইন এত বড় পরিসরে আগে কখনো ব্যবহার করা হয়নি। অন্যদিকে ইরাকের ক্ষতি আরো গুরুতর হতে পারে।  

উড ম্যাকেঞ্জির হিসাব অনুযায়ী, উপসাগরীয় দেশগুলো মিলিয়ে প্রায় ১৩.৩ বিলিয়ন ডলারের তেল বিক্রি ও কর রাজস্ব স্থগিত হয়েছে। কাতার এনার্জি ইতোমধ্যে উৎপাদন বন্ধ করায় প্রায় ৫৭১ মিলিয়ন ডলার রাজস্ব হারিয়েছে।

Logo