সংযুক্ত আরব আমিরাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইরান যুদ্ধের প্রভাব নিয়ে ছবি, ভিডিও বা মন্তব্য শেয়ার করায় পর্যটক, প্রবাসী ও কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তিকে আটক করেছে কর্তৃপক্ষ। মানবাধিকার সংগঠন ‘ডিটেইন্ড ইন দুবাই’ জানিয়েছে, ইউএইতে কার্যকর কঠোর সাইবার ক্রাইম আইনের আওতায় এসব গ্রেপ্তার হচ্ছে।
সংস্থার প্রধান রাধা স্টার্লিং সতর্ক করে বলেছেন, এমনকি ছোটখাটো পোস্ট, রিশেয়ার, মন্তব্য বা ছবি শেয়ার করলেও ইউএইতে আটক হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, পোস্টটি যদি দেশের বাইরে থেকেও করা হয়, তবুও তা আইনের আওতায় আসতে পারে।
তথ্য অনুযায়ী, ১২ মার্চ পর্যন্ত অন্তত ২১ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন ৬০ বছর বয়সী ব্রিটিশ পর্যটক রয়েছেন, যিনি কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ভিডিও মুছে ফেললেও অভিযুক্ত হয়েছেন। অন্যদিকে একজন জনপ্রিয় ইনফ্লুয়েন্সারকে শুধু ভিডিও মুছে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং সংশোধনী পোস্ট করতে বলা হয়েছে। স্টার্লিং এটিকে ‘বিরোধপূর্ণ আচরণ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
একজন ফিলিপিনা গৃহকর্মীকে দুবাইয়ের বুর্জ আল আরবের কাছে ছবি তোলার সময় আটক করা হয়। পুলিশ তার ফোনে ছবি দেখে তাকে গ্রেপ্তার করে। একইভাবে ফুজাইরাহ উপকূলে একটি কার্গো জাহাজের ভিয়েতনামি নাবিককে আটক করা হয়েছে। তিনি জাহাজে থাকা অবস্থায় মিসাইল কার্যক্রমের ভিডিও শেয়ার করেছিলেন, যদিও সেটি ইউএই সীমান্তের বাইরে থেকে ধারণ করা হয়েছিল। কোস্টগার্ড তাকে আটক করে তীরে নিয়ে আসে এবং তিনি এখনো হেফাজতে রয়েছেন।
স্টার্লিং বলেন, ইউএইতে সেলিব্রেটিদের অনেক সময় বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়। তবে সাধারণ প্রবাসী বা পর্যটকদের ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগ কঠোরভাবে করা হচ্ছে। এর ফলে বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
logo-1-1740906910.png)