সংযুক্ত আরব আমিরাতে কর্মরত অনেক কর্মী কখনো কখনো পারিবারিক জরুরি পরিস্থিতি, ব্যবস্থাপকের সঙ্গে বিরোধ বা আঞ্চলিক অস্থিরতার কারণে হঠাৎ দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। কিন্তু কর্মস্থলকে না জানিয়ে দেশ ছাড়লে কী হয়? আইন কী বলে?
ইউএই শ্রম আইন অনুযায়ী, কর্মস্থলকে না জানিয়ে দেশ ছাড়লে তা ‘অননুমোদিত অনুপস্থিতি’ বা অ্যাবসকন্ডিং হিসেবে গণ্য হয়। এ ধরনের অনুপস্থিতি কর্মীর চাকরির সম্পর্ককে ঝুঁকির মুখে ফেলে।
আইন বিশেষজ্ঞ মাইকেল কোর্টবাওই জানান, কর্মী যদি অনুমতি ছাড়া দেশ ছাড়েন, তবে তা সরাসরি কর্মস্থল ত্যাগ হিসেবে বিবেচিত হয়। অনেকেই মনে করেন বিদেশ থেকে ডিজিটালভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব, কিন্তু আইন অনুযায়ী তা নয়। দূর থেকে কাজ করতে হলে অবশ্যই নিয়োগকর্তার অনুমতি থাকতে হবে এবং তা চুক্তি বা কোম্পানির নীতিমালায় উল্লেখ থাকতে হবে।
ইউএই শ্রম আইন অনুযায়ী, কোনো কর্মী যদি টানা সাত দিন অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকেন, অথবা এক বছরে ২০ দিনের বেশি অনিয়মিতভাবে অনুপস্থিত থাকেন, তবে নিয়োগকর্তা তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে সাধারণ নোটিশ পিরিয়ড ছাড়াই চাকরি শেষ হয়ে যেতে পারে।
আইনে স্পষ্টভাবে বলা হয়নি প্রতিটি পরিস্থিতি কীভাবে সামলাতে হবে। তাই অনেক ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তা ও মানবসম্পদ বিভাগ নিজেদের বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নেয়। কর্মীদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ পথ হলো
- যত দ্রুত সম্ভব নিয়োগকর্তাকে জানানো।
- প্রয়োজনে আনুষ্ঠানিকভাবে দূর থেকে কাজের অনুমতি নেওয়া।
- জটিল পরিস্থিতিতে আইনগত পরামর্শ নেওয়া।
ইউএই শ্রম আইন কর্মীদের অননুমোদিত অনুপস্থিতিকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে দেখে। তাই হঠাৎ দেশ ছাড়তে হলে অবশ্যই নিয়োগকর্তাকে জানানো জরুরি। অন্যথায় চাকরি হারানো, বেতন বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং ভবিষ্যতে কর্মসংস্থানে বড় ধরনের সমস্যার মুখে পড়তে হতে পারে।
logo-1-1740906910.png)