Logo
×

Follow Us

মধ্যপ্রাচ্য

পানি শোধনাগার: মধ্যপ্রাচ্যে টিকে থাকার মূল ভরসা

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১২ মার্চ ২০২৬, ০৯:৫৭

পানি শোধনাগার: মধ্যপ্রাচ্যে টিকে থাকার মূল ভরসা

মধ্যপ্রাচ্যের গালফ অঞ্চলে তেল-গ্যাসের মতোই আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হলো পানি। কিন্তু প্রাকৃতিকভাবে এ অঞ্চলে মিঠা পানির উৎস প্রায় নেই বললেই চলে। তাই কোটি মানুষের জীবনধারণ নির্ভর করে সমুদ্রের পানি থেকে লবণ ও খনিজ অপসারণ করে তৈরি করা পানীয় জলের ওপর। এই কাজ করে থাকে শত শত ডেসালিনেশন প্ল্যান্ট, যা গালফ দেশগুলোর জন্য জীবনরক্ষাকারী অবকাঠামো।   

ডেসালিনেশন প্ল্যান্টে সমুদ্রের পানি থেকে লবণ ও অন্যান্য খনিজ অপসারণ করা হয়। সবচেয়ে প্রচলিত পদ্ধতি হলো রিভার্স অসমোসিস। এতে অতিসূক্ষ্ম ঝিল্লির (মেমব্রেন) মাধ্যমে পানি প্রবাহিত হয়, যা লবণ ও অপ্রয়োজনীয় খনিজকে আটকে দেয়। ফলে বিশুদ্ধ পানীয় জল পাওয়া যায়।  

সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ গালফ অঞ্চলের দেশগুলোতে প্রাকৃতিক নদী বা হ্রদ নেই। বৃষ্টিপাতও খুব কম। তাই পানীয় জলের প্রায় পুরো চাহিদা মেটানো হয় ডেসালিনেশন প্ল্যান্ট থেকে। উদাহরণস্বরূপ, সৌদি আরবের পূর্ব উপকূলে অবস্থিত রাস আল-খাইর প্ল্যান্ট বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ডেসালিনেশন প্রকল্প, যা লাখো মানুষকে পানি সরবরাহ করে।  

সাম্প্রতিক পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত শুধু তেল-গ্যাস নয়, পানির নিরাপত্তাকেও ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, যদি কোনো বড় ডেসালিনেশন প্ল্যান্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে কয়েক দিনের মধ্যেই দুবাই, রিয়াদ বা দোহার মতো শহরে পানীয় জলের সংকট দেখা দিতে পারে। এতে মানবিক বিপর্যয় তৈরি হবে।  

তেল ছাড়া গালফ অঞ্চলের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো পানি। তেল উৎপাদন বন্ধ হলে অর্থনৈতিক ক্ষতি হবে, কিন্তু পানি সরবরাহ বন্ধ হলে জীবন থেমে যাবে। হাসপাতাল, স্কুল, শিল্পকারখানা; সবকিছুই পানির ওপর নির্ভরশীল। তাই ডেসালিনেশন প্ল্যান্টগুলোকে সুরক্ষিত রাখা এখন গালফ দেশগুলোর জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।  

গালফ অঞ্চলে ডেসালিনেশন প্ল্যান্ট শুধু প্রযুক্তি নয়, মানুষের টিকে থাকার মূল ভরসা। সমুদ্রের পানি থেকে প্রতিদিন কোটি কোটি লিটার বিশুদ্ধ জল উৎপাদন করে এগুলো। কিন্তু যুদ্ধ বা সংঘাতের কারণে যদি এসব প্ল্যান্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে কয়েক দিনের মধ্যেই ভয়াবহ মানবিক সংকট দেখা দেবে। তাই তেল নয়, পানি এখন গালফ অঞ্চলের সবচেয়ে নাজুক সম্পদ।

Logo