বাহরাইনে ইরানি ড্রোন হামলার পর আহতদের জন্য রক্ত দিতে ছুটে যাচ্ছেন প্রবাসীরা। সিত্রা ও সিফ জেলায় বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলায় অন্তত ৩২ জন আহত হওয়ার পর স্থানীয় ও প্রবাসী সম্প্রদায় একসঙ্গে রক্তদানে অংশ নিচ্ছেন।
গত ৯ মার্চ ভোরে ইরানি ড্রোন হামলায় বাহরাইনের সিত্রা ও সিফ এলাকায় ঘুমন্ত পরিবার ও সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হন। ৩২ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজন শিশু রয়েছে। চারজনের অবস্থা গুরুতর। হামলায় বাড়িঘর, দোকান ও যানবাহন ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়, ফলে অনেক পরিবারকে বাড়ি ছাড়তে হয়েছে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আহত সবাই বাহরাইনি নাগরিক এবং তারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
হামলার পরপরই বাহরাইনের প্রবাসী সম্প্রদায় স্থানীয়দের সঙ্গে একাত্ম হয়ে রক্তদানে অংশ নিচ্ছেন। অস্ট্রেলিয়ান রেডিও শো হোস্ট ও ইভেন্ট সংগঠক শ্যানন ক্রকেট এর মধ্যে অন্যতম। তিনি বলেন, “শৈশব থেকেই রক্তদান করি। মায়ের কাছ থেকে অনুপ্রেরণা পেয়েছি, তিনি অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম বড় রক্তদাতা।” হামলার খবর শুনে তিনি সেদিন রাতেই সালমানিয়া মেডিকেল কমপ্লেক্সের সেন্ট্রাল ব্লাড ব্যাংকে গিয়ে রক্ত দেন।
ক্রকেট জানান, ইফতারের পর রাত ১০টার দিকে তিনি ব্লাড ব্যাংকে যান এবং দেখেন সেখানে প্রায় ৬০ জন অপেক্ষা করছেন। এদের মধ্যে বেশির ভাগই এশীয় প্রবাসী, তবে স্থানীয় বাহরাইনি ও পশ্চিমা নাগরিকও ছিলেন। হাসপাতালের কর্মীরা দক্ষতার সঙ্গে পুরো প্রক্রিয়া পরিচালনা করেন। তিনি বলেন, “একবার রক্ত দিলে প্রায় ১০ জন মানুষ উপকৃত হতে পারে।”
রক্তদাতাদের মধ্যে অনেকেই প্রথমবার অংশ নিচ্ছেন। ক্রকেট তাদের উৎসাহ দিয়ে বলেন, “প্রথমবার ভয় লাগতে পারে, কিন্তু একবার করলে এটি সহজ হয়ে যায়।” তিনি বিশেষভাবে বিরল রক্তের গ্রুপধারীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। রক্ত শুধু সংকটকালে নয়, নিয়মিত অস্ত্রোপচার ও শিশুর জন্মের সময়ও প্রয়োজন হয়।
সেন্ট্রাল ব্লাড ব্যাংক জানিয়েছে, ইফতারের পর রক্তদান সবচেয়ে উপযুক্ত সময়, কারণ তখন শরীর যথেষ্ট খাবার ও পানি গ্রহণ করে। ইফতারের আগে রক্ত দিতে চাইলে ১৭২৮৪৪৫৫ নম্বরে ফোন করে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে হবে। রক্তদাতাদের বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে, ওজন ৫০ কেজির বেশি হতে হবে এবং তারা সুস্থ থাকতে হবে।
logo-1-1740906910.png)